জীবন সন্ধিক্ষণে ধর্ষণের শিকার শিশু

আপডেট : ০৯ মার্চ ২০২৫, ০৭:১৭ এএম

মাগুরায় বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার শিশুকে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল থেকে রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেওয়া হয়েছে। গতকাল শনিবার বিকেলে আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে ঢামেক হাসপাতাল থেকে সিএমএইচে নিয়ে যাওয়া হয়। আট বছর বয়সী শিশুটির শারীরিক অবস্থা ‘খুবই সংকটাপন্ন’ বলে জানিয়েছেন চিকিৎসাসংশ্লিষ্টরা।

গতকাল ঢামেক হাসপাতালে শিশুটিকে দেখতে যান সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা শারমিন এস মুরশিদ। আর শিশুটির মায়ের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ সময় শিশুটির চিকিৎসা এবং তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া অপরাধের ন্যায়বিচার নিশ্চিতে পরিবারটির পাশে থাকার আশ্বাস দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। পরে বিকেলে শিশুটিকে দেখতে যান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমানসহ দলটির একটি প্রতিনিধি দল। এ ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তার চিকিৎসার বিষয়ে খোঁজখবর নেন। মাগুরার এই ঘটনাসহ ধর্ষণ-নারী নিপীড়নের প্রতিবাদ ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়েছে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায়।

এদিকে মাগুরার এই ধর্ষণকাণ্ড নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে তুমুল সমালোচনার মধ্যেই চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে এক তরুণীকে দল বেঁধে ধর্ষণসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় আরও ছয় নারী-শিশুকে ধর্ষণ বা ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আর টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে এক শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের ঘটনা সালিস বৈঠকে মীমাংসার নামে ধামাচাপা চেষ্টার অভিযোগ ওঠেছে।

মাগুরায় ধর্ষণের শিকার শিশুটিকে সিএমএইচে স্থানান্তরের বিষয়ে ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘শিশুটির অবস্থা প্রথম থেকেই সংকটাপন্ন ছিল। এখানে ঢাকা মেডিকেলে তার চিকিৎসা চলছিল। কিন্তু অতিরিক্ত অ্যাটেনডেন্সের (দর্শনার্থী) কারণে অন্য রোগীদের সমস্যা হচ্ছিল। অ্যাটেনডেন্সরা বারবার চিকিৎসকদের বিরক্ত করছিল। সবকিছু বিবেচনা করে শিশুটিকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’

এর আগে বেলা পৌনে ১২টার দিকে তিনি বলেন, ‘শিশুটির অবস্থা খুবই সংকটাপন্ন। তার গলার আঘাত খুবই মারাত্মক। তার যৌনাঙ্গেও আঘাত রয়েছে। গত শুক্রবার রাত ৯টার দিকে মেয়েটিকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়। চিকিৎসকরা আশা প্রায় ছেড়ে দিয়েছেন। বাকিটা আল্লাহ ভরসা। চিকিৎসার জন্য পেডিয়াট্রিক, পেডিয়াট্রিক সার্জারি, অ্যানেসথেসিয়া ও গাইনি ডিপার্টমেন্ট মিলে মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে।’

গতকাল দুপুরে ঢামেক হাসপাতালে শিশুটিকে দেখতে যান সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা শারমিন এস মুরশিদ। শিশুটির শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিয়ে প্রায় একঘণ্টা পর হাসপাতালে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। এ সময় উপদেষ্টা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘যে মেয়েটি মেয়ে হয়ে ওঠেনি, নারী হয়ে ওঠেনি, তার গায়ে হাত দেয় কী করে? এই দেশটি কাপুরুষের দেশ হয়ে গেল! যারা আট বছরের মেয়ের গায়ে হাত দিল, এই কাপুরুষগুলো পুরুষ হয়ে চারদিকে ঘুরে বেড়াচ্ছে।’

সমাজ সুস্থ আছে কী না সেই প্রশ্ন রেখে এই উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি ছয় মাস হলো এসেছি (উপদেষ্টার দায়িত্ব গ্রহণ), আর আপনার কি মনে হয়, এর মধ্যে এই পচে যাওয়া সমাজকে বদলে দেব! বাচ্চাটা জীবন নিয়ে লড়ছে, ডাক্তাররা জানেন না তাকে বাঁচাতে পারবে কি পারবে না। তারা কাজ করছেন, তরুণ ছেলে-মেয়েরা প্রতিবাদ করছে। আমি আমার জায়গা থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। এই বাচ্চাটা যেন সর্বোচ্চ বিচার পায়।’

গতকাল দুপুরে ঢামেক হাসপাতালের পিআইসিইউর সামনে মেয়ের সুস্থতার জন্য অশ্রুসজল চোখে অপেক্ষা করতে দেখা যায় শিশুটির মা এবং তার স্বজনদের। এ সময় শিশুটির মা সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সব ধরনের সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছেন। তারেক রহমানের সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছে। তিনি আমাদের সব দায়দায়িত্ব নিয়েছেন। আমাদের পাশে থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছেন এবং সহযোগিতা করতেছেন। যখন যা লাগে তার সহযোগিতা করবেন বলেছেন। তারেক রহমান ও দেশবাসীর কাছে আমি দোয়া চাচ্ছি।’

নিজের শিশুসন্তানের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমার মেয়েটা এখন লাইফ সাপোর্টে আছে। তার অবস্থা ভালো নয়। এতটুকু বাচ্চাকে কীভাবে যে অত্যাচার করেছে হয়তো আপনারা শুনেছেন, কিন্তু দেখতে তো পারেননি। তার শরীরেও কতগুলো আঘাত করেছে! ’

মেয়েকে নির্যাতনে জড়িতদের প্রসঙ্গে ধর্ষণের শিকার শিশুটির মা বলেন, ‘বড় মেয়ের শ্বশুর, ভাশুর ও মেয়ের জামাই-তারা তিনজন মিলেই আমার মেয়ের ওপর নির্যাতন করেছে। মেয়ের জামাই আগেও বিয়ে করেছিল, আমরা বিষয়টি জানতাম না। মেয়ের শ্বশুরের বিরুদ্ধে আগেও আরও দুটি মেয়েলি কেস (নারী নিপীড়ন) ছিল। সেখান থেকে খালাস নাকি পেয়েছে। এই কেস থেকে যেন খালাস না পায়। এর সর্বোচ্চ শাস্তি যেন হয়। আমার মেয়েকে জঘন্যভাবে যেই নির্যাতন করেছে, তাদের শাস্তি দিয়ে দিক। আমার কথা, তাদের একেবারে ফাঁসি দিয়ে দিক। যাতে আর কোনো মা-বোনের দিকে এমন চোখ তুলতে না পারে।’

শিশুটিকে নির্যাতনের ঘটনায় আগের দিনের মতো গতকালও মাগুরায় বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে দিনভর বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।

আর এদিন সকালে বড় বোন ও বাবাকে দিয়ে শিশুটির মা ধর্ষণের ঘটনায় মামলার জন্য মাগুরা সদর থানায় এজাহার (লিখিত অভিযোগ) পাঠান। সে অনুযায়ী বেলা তিনটার দিকে মামলা নথিভুক্ত হয়। যাতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯ (৪) এর ক/ ৩০ ধারায় ধর্ষণ ও ধর্ষণের মাধ্যমে আহত করার অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলায় শিশুটির বোনের স্বামী, শ্বশুর, শাশুড়ি ও ভাশুরকে আসামি করা হয়েছে। মামলার আগেই তাদের আটক করেছে পুলিশ। পরে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। মাগুরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মিরাজুল ইসলাম এ সব তথ্য নিশ্চিত করেন।

পরিবারের পাশে তারেক রহমান : গত বৃহস্পতিবার দুপুরে মাগুরা শহরতলীর নিজনান্দুয়ালী গ্রামে বোনের বাড়ি বেড়াতে গিয়ে আট বছরের শিশুটি ধর্ষণের শিকার হয় বলে পরিবারের অভিযোগ। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শিশুটিকে প্রথমে মাগুরা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত শুক্রবার সকালে ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

গতকাল দুপুরে ঢামেক হাসপাতালে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সদস্য সচিব রবিউল ইসলামের (নয়ন) মোবাইল ফোনে শিশুটির মায়ের সঙ্গে কথা বলেন তারেক রহমান। ফোনালাপে তারেক রহমান শিশুটির শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে চান। ফোনে শিশুটির মা তারেক রহমানকে বলেন, ‘তার মেয়ের শরীর ভালো না। রক্ত দেওয়া হচ্ছে।’ এরপর তারেক রহমানকে বলতে শোনা যায়, ‘আমাদের ওখানে যেসব নেতাকর্মী আছেন, তাদের আমি বলেছি। তারা (শিশুটির) পাশে থাকবেন, যাতে সে ন্যায়বিচার পায়। শিশুটির সঙ্গে যারা অন্যায় করেছে, তারা যাতে শাস্তি পায়। এর জন্য আমাদের অবস্থান থেকে আমরা চেষ্টা করব, যতটুকু সম্ভব আমরা চেষ্টা করব। যাতে দেশের আইন অনুযায়ী আপনারা ন্যায়বিচার পান। চিন্তা করবেন না, আমরা আছি, দেশের মানুষ আপনাদের পাশে আছে।’

এ সময় শিশুটির মা কান্নাবিজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আপনি যদি দেখতেন, আমার ছোট মনিডার সঙ্গে কি করা হইছে। আপনার কাছে আবেদন, আপনি দোয়া করবেন, যাতে আমি আমার মনিডারে ফেরত পাই। আর যারা এই কাজ করেছে, তাদের যেন শাস্তি হয়।’

পরে বিকেলে ঢামেক হাসপাতালের আইসিইউতে শিশুটিকে দেখতে যান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান, কেন্দ্রীয় নেতা মীর সরাফত আলী সপু ও নিপুণ রায় চৌধুরীসহ দলটির একটি প্রতিনিধি দল। পরে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে এসে সাংবাদিকদের সেলিমা রহমান বলেন, ‘শিশুটির ওপর যে অমানবিক নির্যাতনটা হয়েছে, এটা মানব সভ্যতার সবচেয়ে বড় কলঙ্ক। তার কি বেঁচে থাকার কোনো অধিকার নেই। আমার এখন প্রশ্ন তাহলে সরকার কি করছে? আপনারা কি করছেন? একেকবার একেক ঘটনা ঘটছে। মব জাস্টিসের নামে এমন করে লুটপাট হচ্ছে, মানুষকে হেনস্তা করা হচ্ছে। আমরা কি সরকার নাই বলব। আমরা আশা করেছি এই সরকারের ওপর।’

তরুণীকে দল বেঁধেসহ ধর্ষণের শিকার আরও ৪ নারী-শিশু : চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছে স্থানীয় গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের এক শিক্ষার্থী। গতকাল দুপুর একটার দিকে মুরাদপুর ইউনিয়নের গুলিয়াখালী সমুদ্রসৈকত এলাকায় ঘুরতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হন বলে জানান ওই তরুণী। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সীতাকুণ্ড থানায় পুলিশকে খবর দেয়। তিনটার সময় পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই কলেজছাত্রীকে উদ্ধার করে।

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে ৯ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে জহুর মোল্লা নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত শুক্রবার ধর্ষণচেষ্টার ওই ঘটনা ঘটে।

ঢাকার সাভারে শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ায় বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক নারীকে ধর্ষণ এবং পাঁচ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠেছে নূরুল আমিন নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ওই নারী আশুলিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।

ঠাকুরগাঁওয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে মোজাম্মেল হক নামে এক সহকারী শিক্ষককে আটক করেছে পুলিশ। প্রাইভেট পড়তে গিয়ে ওই শিশুটি ধর্ষণের শিকার হয় বলে অভিযোগ। তাকে ঠাকুরগাঁওয়ের ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

গাজীপুরের শ্রীপুরে এক দিনের ব্যবধানে দুই শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ধর্ষণের অভিযোগে মাদ্রাসাশিক্ষকসহ দুজনকে আটক করা হয়েছে।

শিশু ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা চেষ্টার অভিযোগ : টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে নানীর বাড়ি বেড়াতে গিয়ে দ্বিতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থী (১০) ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ২৫ দিন আগে উপজেলার আজগানা ইউনিয়নের একটি গ্রামে ধর্ষণের ওই ঘটনাটি ঘটলেও গ্রাম্য সালিসে অভিযুক্তকে অর্থদণ্ডের মাধ্যমে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ধর্ষকদের প্রকাশ্য ফাঁসির দাবিতে ঢাবি শিক্ষার্থীদের মশাল মিছিল : ধর্ষকদের শাস্তি হিসেবে প্রকাশ্যে ফাঁসির দণ্ড কার্যকরের দাবি জানিয়ে মশাল মিছিল ও বিক্ষোভ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) রোকেয়া হলের শিক্ষার্থীরা। দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে অভিযোগ করে শিক্ষার্থীরা এই বিক্ষোভ মিছিল করেন। গতকাল সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হলের সামনে থেকে মশাল মিছিলটি বের হয়। যা ভিসি চত্বর প্রদক্ষিণ করে আবারও রোকেয়া হলের সামনে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়।

প্রতিবেদনটিতে তথ্য দিয়েছেন ঠাকুরগাঁও, সাভার (ঢাকা), সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) ও বালিয়াকান্দি (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি, শ্রীপুর (গাজীপুর) এবং ঢাবি ও মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত