‘বান্ডিল বান্ডিল টাকা ছেড়ে জামাইকে নিয়ে আসব’

আপডেট : ১৭ মার্চ ২০২৫, ০৬:৩৯ এএম

নাম শুনলেই অগণিত মানুষের গা শিউরে ওঠে। কথায় কথায় গুলি করে মানুষ খুন যেন তার কাছে মামুলি ব্যাপার। চট্টগ্রামে পুলিশের খাতায় শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে তালিকাভুক্ত আলোচিত এই সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদের অপরাধজগৎ ছিল চট্টগ্রাম নগর ও জেলার চারটি থানা এলাকা। সম্প্রতি ফেসবুক লাইভে এসে পুলিশ কর্মকর্তাকে পেটানোর হুমকিসহ তার অপরাধ কর্মকাণ্ডে যেমন অতিষ্ঠ ছিল নগরবাসী, তেমনি তাকে গ্রেপ্তারের জন্য নির্ঘুম রাত কাটে পুলিশেরও। অবশেষে গত শনিবার রাতে রাজধানী ঢাকার একটি শপিং মল থেকে ট্রিপল মার্ডারসহ অন্তত ১৭ মামলার আসামি সাজ্জাদকে আটক করা হয়। আর এ খবরে স্বস্তি ফিরে আসে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) সদস্যরাসহ সিএমপির চারটি থানা এলাকার কয়েক লাখ মানুষের মাঝে।

কিন্তু তাকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি ছাপিয়ে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে চট্টগ্রাম জুড়ে আলোচনায় উঠে আসে তার স্ত্রী তামান্না শারমিনের নাম। স্বামীকে গ্রেপ্তারের পর প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ফেসবুকে আপলোড করা তামান্না শারমিনের বক্তব্যের একটি ভিডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়েছে। ওই ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘আমরা কাঁড়ি কাঁড়ি, বান্ডিল বান্ডিল টাকা ছেড়ে আমার জামাইকে নিয়ে আসব। যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না।’

ভিডিওতে স্বামী সাজ্জাদকে ১০ থেকে ১২ দিনের মধ্যে জামিনে ছাড়িয়ে আনবেন বলেও জানান স্ত্রী তামান্না শারমিন। তিনি বলেন, ‘আমার জামাই গতকাল (শনিবার) রাতে গ্রেপ্তার হয়েছে, এতে হতাশ হওয়ার কিছু নেই। মামলা যখন আছে, গ্রেপ্তার হবেই। আপনারা যারা ভাবতেছেন, আর কোনো দিন বের হবে না, তাদের জন্য এক বালতি সমবেদনা।’ প্রতিপক্ষকে হুমকি দিয়ে তিনি বলেন, ‘এতদিন আমরা পলাতক ছিলাম, এখন তোমাদের পলাতক থাকার পালা শুরু। খেলা শুরু হবে এখন।’

এর আগে গত ৩০ জানুয়ারি সাজ্জাদকে ধরতে পুরস্কার ঘোষণা করেছিলেন সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজ। এর আগের দিন (২৯ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার ওসি আরিফুর রহমানকে ফেসবুক লাইভে এসে পেটানোর হুমকি দেন সাজ্জাদ হোসেন।

তামান্না শারমিনের দম্ভোক্তির বিষয়ে জানতে চাইলে সিএমপির অতিরিক্ত উপকমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ জাহাংগীর আলম বলেন, ‘দুর্ধর্ষ এ সন্ত্রাসী যাতে সহজে বেরিয়ে আসতে না পারে, সেজন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। গ্রেপ্তারের পর আজ রবিবার (গতকাল) সাজ্জাদকে নগরের চান্দগাঁও থানা এলাকায় ২০২৪ সালের ২১ অক্টোবর সংঘটিত ব্যবসায়ী আফতাব উদ্দিন তাহসীন হত্যা মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালত সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। পর্যায়ক্রমে বাকি সব মামলায় রিমান্ডের আবেদন করা হবে।’

পুলিশ জানায়, সাজ্জাদ হোসেন বিদেশে পলাতক ‘শিবির ক্যাডার’ হিসেবে পরিচিত আরেক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর অনুসারী।

গত বছর ১৭ জুলাই চান্দগাঁও থানা পুলিশ অস্ত্রসহ সাজ্জাদকে গ্রেপ্তার করে। পরের মাসের শুরুতে তিনি জামিনে বেরিয়ে আসেন। বায়েজিদ বোস্তামী থানাসংলগ্ন হাটহাজারীর শিকারপুরের মো. জামালের ছেলে সাজ্জাদ। গত বছর ৪ ডিসেম্বর নগরের অক্সিজেন এলাকায় পুলিশ ধরতে গেলে গুলি ছুড়তে ছুড়তে পালিয়ে যান তিনি। এতে পুলিশসহ পাঁচজন আহত হন।

সিএমপির উত্তর জোনের উপকমিশনার (ডিসি) আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘সাজ্জাদকে জিজ্ঞাসাবাদ করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বের করা হবে।’

পুলিশ জানায়, চার-পাঁচ মাস ধরে প্রযুক্তিগত নজরদারির মাধ্যমে সাজ্জাদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছিল নগর পুলিশ। সাজ্জাদকে ধরার জন্য সিএমপি উত্তর জোনের ডিসি আমিরুল ইসলাম ও অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বে একটি টিম ঢাকায় অভিযান চালায়। শীর্ষ এ সন্ত্রাসীর গ্রেপ্তারে স্বস্তি ফিরেছে চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ, বায়েজিদ, হাটহাজারী ও চান্দগাঁও থানা এলাকায়।

পুলিশ জানায়, ২০২৩ সালের ২৮ জানুয়ারি বায়েজিদ বোস্তামী থানার অক্সিজেন-কুয়াইশ সড়কে প্রকাশ্যে গুলি করে মাসুদ কায়সার ও মোহাম্মদ আনিসকে হত্যা এবং ২১ সেপ্টেম্বর চান্দগাঁও থানার অদূরপাড়া এলাকায় ব্যবসায়ী আফতাব উদ্দিন তাহসীনকে গুলি করে হত্যা করেন সাজ্জাদ। এ ছাড়া ২০২৩ সালের ৫ জুলাই বায়েজিদ থানার বুলিয়াপাড়া এলাকার একটি বাসায় ঢুকে গুলি চালান। ২৭ অক্টোবর চান্দগাঁও হাজীরপুল এলাকায় ঠিকাদার মো. হাসানের বাসায় গুলি করে সাজ্জাদ ও তার বাহিনী। একই বছরের ৫ ডিসেম্বর অক্সিজেন মোড়ে পুলিশের ওপর গুলি চালিয়ে পালিয়ে যান সাজ্জাদ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত