ছাত্রলীগের ২৮৯ নেতাকর্মী বহিষ্কার, ৯ শিক্ষকের সাজা

আপডেট : ১৯ মার্চ ২০২৫, ০৫:৩৩ এএম

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে গত বছরের ১৪ থেকে ১৭ জুলাই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ক্যাম্পাস শাখার ২৮৯ নেতাকর্মীকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ছাড়া হামলায় মদদদাতার অভিযোগে ৯ শিক্ষককে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। গত সোমবার রাত তিনটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেট সভা শেষে উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। এর আগে, সোমবার বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনিক ভবনের কাউন্সিল কক্ষে সিন্ডিকেট সভা শুরু হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, তিন ক্যাটাগরিতে বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীদের শাস্তি নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রথমত. যাদের ছাত্রত্ব শেষ হয়েছে, তাদের সনদ স্থগিত করা হবে। দ্বিতীয়ত. যারা পরীক্ষা ও ভাইভা দিয়েছেন কিন্তু ফল প্রকাশিত হয়নি, তাদের ফল স্থগিত করা হবে এবং তৃতীয়ত. নিয়মিত শিক্ষার্থীদের সাময়িক বহিষ্কার করা হবে।

এদিকে সূত্র বলছে, সাময়িক বরখাস্ত হওয়া শিক্ষকরা হলেন- সাবেক প্রক্টর অধ্যাপক আলমগীর কবির ও সহযোগী অধ্যাপক ফিরোজ-উল-হাসান, সমাজবিজ্ঞান অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক বশির আহমেদ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের সাবেক প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ইস্রাফিল আহমেদ, সাবেক উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মোহাম্মদ মোস্তফা ফিরোজ, সহযোগী অধ্যাপক মেহেদী ইকবাল, অধ্যাপক হোসনে আরা, অধ্যাপক নাজমুল হাসান তালুকদার ও অধ্যাপক মো. তাজউদ্দিন সিকদার।

এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক মো. নূরুল আলম এবং রেজিস্ট্রার আবু হাসান অবসরে চলে যাওয়ায় তাদের পেনশন সুবিধা বাতিলের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এ ছাড়া হামলায় সংশ্লিষ্টতার মাত্রা নির্ধারণের জন্য আরও ১০ শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্ট্রাকচার্ড কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই কর্মকর্তা নাহিদুর রহমান খান ও রাজীব চক্রবর্তী এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের কর্মচারী মুহসিনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে শেখ পরিবারের কয়েক সদস্যের নামে থাকা স্থাপনার নাম বাতিলের সিদ্ধান্ত হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল, শেখ রাসেল হল এবং শেখ হাসিনা হলের নাম পরিবর্তন করা হবে বলে জানা গেছে।

এ ছাড়া ১৫ জুলাইয়ের রাতকে জাবিতে কালোরাত হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত