সুন্দরবনে নতুন এলাকায় আগুন, বিস্তার ঠেকাতে বেগ

আপডেট : ২৪ মার্চ ২০২৫, ০৫:৪৪ এএম

সুন্দরবনে লাগা একটি স্থানের আগুন নেভাতে না নেভাতেই বনে নতুন করে আরেকটি স্থানে আগুন লেগেছে। কোথাও কোথাও দাউদাউ করে জ্বলছে, আবার কোথাও কোথাও ধোঁয়ার কু-লী উড়তে দেখা গেছে। অন্তত আধাকিলোমিটার এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আগুন জ¦লছে। গতকাল রবিবার দুপুরে বন বিভাগ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সেখানে পৌঁছে আগুনের বিস্তৃতি ঠেকাতে ফায়ার লাইন কাটার (মাটি কেটে বিচ্ছিন্ন করা) কাজ শুরু করে। তবে এই স্থানে কীভাবে আগুনের সূত্রপাত তা জানাতে পারেনি বন বিভাগ। কলমতেজি টহল ফাঁড়ি এলাকায় লাগা আগুনের উত্তর পশ্চিম দিকের অন্তত দুই কিলোমিটার দূরে তেইশের ছিলার শাপলারবিল এলাকায় নতুন করে এ আগুন লেগেছে বলে জানিয়েছে তারা। নতুন করে আগুন লাগা এবং পানির উৎস দূরে থাকায় তা নেভাতে বিপাকে পড়তে হচ্ছে বন বিভাগকে। গতকাল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তেইশের ছিলার শাপলারবিল এলাকায় ওই আগুন জ¦লতে দেখেন বন বিভাগ কর্মীরা।

এদিকে কলমতেজি টহল ফাঁড়ি এলাকায় লাগা আগুন গতকাল দুপুরের মধ্যে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে এসেছে। এই আগুনের স্থান বন বিভাগ পর্যবেক্ষণে রেখেছে।

এর আগে গত শনিবার সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের ধানসাগর স্টেশনের কলমতেজি টহল ফাঁড়ি এলাকায় আগুন লাগে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, আগুন লাগার স্থানটি সুন্দরবনসংলগ্ন বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার ধানসাগর গ্রাম। এই গ্রামের মানুষ সুন্দরবনের মরা ভোলা নদীটি পার হয়ে বনের ভেতরে অবাধে প্রবেশ করে থাকে। বিশেষ করে শীত মৌসুমে নদীটিতে পানি থাকে অনেক কম। ফলে শীত মৌসুমেই ওই গ্রামের বাসিন্দাদের যাতায়াত বাড়ে। তারা গরু-ছাগল নিয়ে বনের মধ্যে প্রবেশ করে।

ধানসাগর গ্রামের বাসিন্দারা বলেন, গ্রামের পাশেই সুন্দরবন। শীত মৌসুম এলে মরা ভোলা নদীতে পানি থাকে কম। যার ফলে এখানকার বাসিন্দারা বনের ভেতরে ঢুকে শুকিয়ে যাওয়া কাঠপাতা সংগ্রহ করে। কেউ কেউ তাদের পালন করা গরু-ছাগল চরাতে বনে নিয়ে যায়। সুন্দরবনে সাধারণ মানুষের প্রবেশ বন্ধ করতে সুন্দরবন লাগোয়া মরা ভোলা নদীটি খনন করা জরুরি হয়ে পড়েছে। নদীটি খনন হলে সাধারণ মানুষের প্রবেশ বন্ধ হবে, আর বনের ভেতরেও জোয়ারের পানি ঢুকতে পারবে। শীত মৌসুমে সুন্দরবনে আগুন লাগার ঘটনা ঘটছে। আগুনে গাছপালা পুড়ে বনভূমির ক্ষতি হচ্ছে। আগুন নেভানোর পানির তীব্র সংকট রয়েছে। সুন্দরবনের মরে যাওয়া নদী ও খালগুলো সংস্কার করা এবং প্রয়োজনে বনের ভেতরে কিছু পুকুর খনন করারও দাবি বাসিন্দাদের।

পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) কাজী মুহাম্মদ নূরুল করিম বলেন, ‘কলমতেজি টহল ফাঁড়ি এলাকায় লাগা আগুন নেভানো কাজের মধ্যে নতুন করে শাপলারবিল এলাকায় আগুন লেগেছে। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ড্রোন ও জিপিআরএস ট্রাকিংয়ের মাধ্যমে ওই আগুনের উৎপত্তিস্থলের সন্ধান পেয়ে দ্রুত সেখানে ছুটে যান বনকর্মীরা। সেখানে গিয়ে দেখি কোথাও কোথাও দাউদাউ করে জ¦লছে, আবার কোথাও কোথাও ধোঁয়ার কু-লী উড়ছে। এখানকার আগুনের তীব্রতা বেশি, বনের মধ্যে হালকা বাতাস থাকায় আগুন ছড়াচ্ছে বেশি। স্থানীয় গ্রামবাসী ও বনকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে আগুনের বিস্তৃতি ঠেকাতে ফায়ার লাইন কাটার কাজ শুরু করা হয়েছে। এ কাজটি করার পর পাইপলাইনের মাধ্যমে পানি সংগ্রহ করে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করা হবে। কলমতেজির মতো এখানেও পানির উৎসব প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে। একটির মধ্যে আরেকটি দুর্ঘটনায় বন বিভাগকে বিপাকে ফেলে দিয়েছে। কলমতেজিতে লাগা আগুন এখন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, তবে ওই এলাকাটি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আগুন লাগার কারণ এবং বনভূমির ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ এখনো আমরা করতে পারিনি। কারণ অনুসন্ধান ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করতে চাঁদপাই রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক দিপন চন্দ্র দাসকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি করে দেওয়া হয়েছে। তাদের দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলে বিস্তারিত জানা যাবে।’

খুলনা ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক মতিয়ার রহমান বলেন, ‘কলমতেজির আগুনের থেকে এখানকার আগুনের তীব্রতা বেশি। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে বিভিন্ন স্থানে আগুন জ¦লছে। বাগেরহাট ও খুলনার ছয়টি ইউনিট শনিবার থেকে আগুন নেভানোর কাজে যোগ দিয়েছে। কলমতেজির আগুন নেভানোর মধ্যে নতুন আরেকটি এলাকায় আগুন লাগার খবর পেয়ে আমরা সেখানে পৌঁছেছি। পানির উৎস তিন কিলোমিটার দূরে হওয়ায় এখনো কাজ শুরু করতে পারিনি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত