ফিলিস্তিনের গাজায় জাবালিয়ায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন হামাস মুখপাত্র আবদেল-লতিফ আল-কানুয়া। গতকাল বৃহস্পতিবার ভোর থেকে উপত্যকার নানা জায়গায় চালানো হামলায় প্রাণ গেছে আরও ৮ ফিলিস্তিনির। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। সংবাদমাধ্যমটি জানায়, গাজায় নতুন করে শুরু হওয়ায় এক সপ্তাহের হামলায় ১ লাখ ৪২ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। বিধ্বস্ত উপত্যকায় অনেকেই রাত কাটাচ্ছে রাস্তায়।
চলতি সপ্তাহের প্রথমদিকে ইসরায়েলি হামলায় হামাসের রাজনৈতিক দপ্তরের সদস্য ইসমাইল বারহুম ও আরেক জ্যেষ্ঠ নেতা সালাহ আল-বারদাউইল নিহত হন। হামাসের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, বারদাউইল ও বারহুম উভয়েই হামাসের ২০ সদস্যের সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী পরিষদ রাজনৈতিক দপ্তরের সদস্য ছিলেন। ২০২৩ সালের অক্টোবরে ইসরায়েল গাজায় নির্বিচার হামলা শুরু করার পর থেকে এখন পর্যন্ত এ পরিষদের ১১ জন সদস্য নিহত হয়েছেন।
প্রায় দুই মাস যুদ্ধবিরতি চলার পর গত সপ্তাহ থেকে গাজায় আবার হামলা শুরু করেছে ইসরায়েল। এসব হামলার মধ্য দিয়ে ইসরায়েলের গাজায় বন্দি থাকা বাকি জিম্মিদের মুক্তি দেওয়ার জন্য হামাসের উপর চাপ বৃদ্ধির চেষ্টা করছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসরায়েল ১৮ মার্চ থেকে গাজায় ফের বড় ধরনের হামলা শুরু করার পর থেকে নারী ও শিশুসহ অন্তত ৮৩০ জন নিহত হয়েছেন। ইসরায়েল ও হামাস পরস্পরকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করার জন্য দায়ী করেছে। জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধবিরতি গাজার ২৩ লাখ বাসিন্দার জন্য সাময়িক স্বস্তি নিয়ে এসেছিল। প্রায় ১৮ মাস ধরে চলা ইসরায়েলি হামলায় ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডটি প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
এদিকে, যুদ্ধের মধ্যেই জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদে লাইলাতুল কদর পালন করেছে ফিলিস্তিনিরা। এ সময়, অবিলম্বে গাজায় হামলা বন্ধের প্রার্থনা করে তারা। তবে নির্বাচন ও জিম্মিদের মুক্তির দাবিতে জেরুজালেমে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ হয়েছে। এ সময়, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু প্রশাসন গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে দিচ্ছে বলে অভিযোগ করে বিক্ষোভকারীরা।
