লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে সবজি-মাছ ও চালের দাম

আপডেট : ২৮ মার্চ ২০২৫, ১১:১৪ এএম

রমজান মাসের শুরুতে বাজারে কিছুটা স্বস্তি থাকলেও ঈদের ঠিক আগমুহূর্তে সবজির দাম বেড়ে গেছে লাফিয়ে লাফিয়ে। একইভাবে ইলিশসহ অন্যান্য মাছের দামও বেড়েছে এবং সরু চালের দামেও দেখা দিয়েছে বৃদ্ধি। এসব দাম বৃদ্ধির কারণে সাধারণ ভোক্তাদের মধ্যে এক ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

আজ শুক্রবার রাজধানীর কেরানীগঞ্জের আগানগর, জিনজিরা, নয়াবাজার ও কারওয়ান বাজারসহ বিভিন্ন কাঁচাবাজারে ঘুরে এসব পরিস্থিতি চোখে পড়েছে।

ঈদ উপলক্ষে অনেকেই ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছেন, ফলে শহরের বাজারগুলো ফাঁকা হতে শুরু করেছে। তবে, ব্যবসায়ীরা ঈদকে কেন্দ্র করে শাক-সবজির দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। তাদের দাবি, ঈদের কারণে ঢাকা ছেড়ে যাওয়ার ফলে পণ্য সরবরাহ কমেছে, যার ফলে দাম বাড়ছে।

রাজধানীর কারওয়ান বাজারের সবজি বিক্রেতা আনিস জানান, গত সপ্তাহের তুলনায় কিছু সবজির দাম ১০-২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। তিনি বলেন, সবজি কম আসছে বাজারে, তাই সরবরাহ কমে গেছে, আর সে কারণেই দাম বাড়ছে।

বর্তমানে বাজারে করলা ৮০-১০০ টাকা, বরবটি ৬০ টাকা, ঢ্যাঁড়শ ৫০ টাকা, আলু ২০ টাকা, মিষ্টি আলু ৪০ টাকা, লতি ৬০-৮০ টাকা, পটোল ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পেঁপে ৪০ টাকা, গাজর ৩০ টাকা, টমেটো ২৫ টাকা, কহি ৫০ টাকা, শিম ২৫ টাকা, এবং ধনেপাতা ৩০-৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

রমজানজুড়ে বিক্রি হওয়া বেগুন ও শসার দামও কমছে না। প্রতি কেজি বেগুন ৮০-১২০ টাকা এবং শসা ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যদিও কিছুটা কমে প্রতি হালি লেবু ৪০-৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া, বাজারে ফুলকপি ২০-২৫ টাকা, বাঁধাকপি ৩০ টাকা, ব্রকলি ৪০-৫০ টাকা, চালকুমড়া ৫০ টাকা এবং লাউ ৫০-৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাঁচামরিচের দামও চড়া, প্রতি কেজি ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সবজির বাজারের চড়া দাম ভোক্তাদের চিন্তা বাড়িয়ে দিয়েছে। পাশাপাশি, মাছের বাজারও অস্থির হয়ে উঠেছে। ইলিশের দাম গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিপ্রতি ২০০-৩০০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে। বর্তমানে, এক কেজি ওজনের ইলিশ ২৫০০ টাকায়, দেড় কেজি ইলিশ ৩৫০০ টাকায় এবং ৮০০-৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ১৯০০-২০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ইলিশের বাজারের অবস্থা আরও অস্থির হয়ে উঠেছে বলে জানান, কারওয়ান বাজারের ইলিশ বিক্রেতা মো. শুকুর আলী। তিনি বলেন, সরবরাহ কমে যাওয়ায় ইলিশের দাম বেড়েছে। ঈদ ঘিরে মাছের সরবরাহ কমে যাওয়ায় অন্য মাছের দামও বেড়েছে।

বর্তমানে, বাজারে রুই ৩৫০-৪২০ টাকা, কাতল ৩৮০-৪৫০ টাকা, শিং ৫৫০ টাকা, মাগুর ৫০০ টাকা, কৈ ২০০-২৫০ টাকা, পাঙাশ ১৮০-২২০ টাকা, তেলাপিয়া ১৮০-২২০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া, বোয়াল ৭৫০-৮০০ টাকা, পোয়া ৪৫০ টাকা, আইড় ৮০০-৯০০ টাকা, টেংরা ৬৫০-৭০০ টাকা, দেশি কৈ ১ হাজার ৩০০-১ হাজার ৭০০ টাকা এবং শিং ১ হাজার ৪০০-১ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

চালের বাজারেও চাপ তৈরি হয়েছে। সরু চালের দাম গত এক সপ্তাহে ৫-৮ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে, যা ভোক্তাদের কাছে এক ধরনের অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ক্রেতারা জানান, রমজান মাসে চালের চাহিদা কম থাকে, তাই এ সময় চালের দাম বাড়ানোর কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ নেই। তারা অভিযোগ করেন, এটি ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের ফল।

খুচরা ব্যবসায়ীরা বলেন, মিনিকেট চালের মজুত শেষ হয়ে আসছে, তাই দাম বাড়ছে। তবে, মাঝারি ও মোটা চালের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। কারওয়ান বাজারের চাল ব্যবসায়ী রাকিব জানান, মিনিকেট চালের দাম ৫-৮ টাকা বেড়েছে, আর নাজিরশাইলের দামও কিছুটা বেড়েছে।

বরিশাল রাইছ এজেন্সির বিক্রেতা জানান, মিনিকেট চাল ৮৬-৯০ টাকা, আটাইশ ৬০-৬২ টাকা এবং নাজিরশাইল ৭৬-৮৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পোলাও চাল প্রতি কেজি ১১৬-১১৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির ভূঁইয়া বলেন, চালের দাম বৃদ্ধির কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ নেই, দাম বাড়াচ্ছেন মিল মালিকরা। সরকারের উচিত বাজারে পর্যাপ্ত মনিটরিং নিশ্চিত করা, নয়তো দাম নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে।

এছাড়া, আদা, রসুন ও পেঁয়াজের দাম সামান্য বেড়েছে। বর্তমানে, দেশি পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৪০ টাকায়, রসুন ৮০ টাকা এবং আদা ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ক্রেতা ও বিক্রেতারা নিয়মিত বাজার মনিটরিংয়ের দাবি জানিয়েছেন, কারণ এতে অসাধু ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমতো দাম বাড়ানোর সুযোগ পায়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত