ঈদ আনন্দে কাটুক ছুটি

আপডেট : ৩০ মার্চ ২০২৫, ০১:১৫ এএম

দেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর কবে উদযাপিত হবে, তা জানা যাবে আজ রবিবার। দেশের আকাশে আজ যদি ১৪৪৬ হিজরি সনের পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়, তাহলে আগামীকাল সোমবার সারা দেশে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে। আর যদি না দেখা যায়, তাহলে তার পরদিন মঙ্গলবার উদযাপিত হবে মুসলিম সম্প্রদায়ের অন্যতম বড় এই ধর্মীয় উৎসব। এবার ঈদে টানা ৯ দিনের ছুটি পাচ্ছেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। সর্বসাধারণের যাতায়াত নির্বিঘœ করতে নির্বাহী আদেশে আগামী ৩ এপ্রিল সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। এর ফলে সাপ্তাহিক বন্ধের দিন মিলিয়ে এবার ২৮ মার্চ থেকে আগামী ৫ এপ্রিল পর্যন্ত টানা ৯ দিন ছুটি পাচ্ছেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। লম্বা ছুটি থাকায় এবার ঈদে অনেকেই পরিবার নিয়ে গ্রামমুখী হয়েছেন। আবার কেউবা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ছুটেছেন বিভিন্ন পর্যটন স্পটে। গতকাল শনিবারও সড়ক, নৌ ও রেলপথে ঘরমুখো মানুষের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে। অন্যবারের মতো যাত্রাপথে দীর্ঘ যানজটের ভোগান্তি না থাকায় এবারের ঈদযাত্রা সাধারণ মানুষের জন্য অনেকটাই স্বস্তিদায়ক। তবে যানবাহনে বাড়তি ভাড়া আর ভ্যাপসা গরমে আনন্দের ঈদযাত্রায় কিছুটা বাগড়া বসিয়েছে।

এদিকে সৌদি আরবের আকাশে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেছে। ফলে দেশটিতে আজ রবিবার ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে। সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক সংবাদমাধ্যম খালিজ টাইমসের এক প্রতিবেদনে গতকাল শনিবার এ তথ্য জানানো হয়েছে।

খালিজ টাইমসের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ভারত ও পাকিস্তানে আগামীকাল সোমবার ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে। আজ দেশ দুটিতে খালি চোখে ঈদের চাঁদ দেখা যাবে। অন্যদিকে ইন্দোনেশিয়ায় গতকাল শাওয়াল মাসের চাঁদ না দেখা যাওয়ায় দেশটিতে আগামীকাল ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে বলে ঘোষণা করা হয়েছে।

মালয়েশিয়াও আনুষ্ঠানিকভাবে ঈদের ঘোষণা দিয়েছে। আগামীকাল দেশটিতে ঈদ উদযাপন হবে। সে হিসাবে এ বছর ৩০টি রোজা পালন করবে মালয়েশিয়া। আজ সহজেই খালি চোখে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যাবে বলে আশা করছে দেশটি।

বাসের বনেটে ৬০০ আসনে ৮০০ : বাসের ইঞ্জিনের বনেটে (ইঞ্জিন ঢেকে রাখার আবরণ) ৬০০ আর সিটে (আসনে) ৮০০ টাকা করে ভাড়া হাঁকছিলেন একাধিক পরিবহনের কর্মী। বরিশালগামী যাত্রীদের অনেকে বাধ্য হয়ে বনেটে, আবার কেউবা আসনের টিকিট নিশ্চিত করে গন্তব্যে যাচ্ছিলেন। গতকাল দুপুর সোয়া ১২টার দিকে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তার পাশের বাস কাউন্টারগুলোতে এমন চিত্র দেখা গেছে। বেশ কয়েকজন যাত্রীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভ্যাপসা গরম আর বাসের আসন সংকটে কষ্ট হলেও পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে যেকোনোভাবে গ্রামের বাড়িতে যেতে পেরে তারা আনন্দিত, উচ্ছ্বসিত। গতকাল সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর সোয়া ১টা পর্যন্ত যাত্রাবাড়ী-সায়েদাবাদ এলাকা ঘুরে মানুষ গিজগিজ করতে দেখা গেছে। সঙ্গে ব্যাগ-বোঁচকা নিয়ে সবারই তাড়া। প্রচন্ড গরমে হাঁসফাঁস করতে দেখা গেছে যাত্রীদের। বিশেষ করে গরমে নারী ও শিশুদের অবস্থা ছিল করুণ। এর আগে গত কয়েক দিনে পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপনে ঢাকা ছেড়েছেন অগণিত মানুষ। রাজধানীর চিরচেনা ব্যস্ততা নেই বললেই চলে, রাস্তাঘাট অনেকটাই ফাঁকা। আগের কয়েক দিনের তুলনায় গতকাল রাজধানীর বাস টার্মিনাল, কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন ও সদরঘাটে যাত্রীদের ভিড় ছিল বেশি। আজও যাত্রীর চাপ থাকবে বলে ধারণা পরিবহন সংশ্লিষ্টদের।

গতকাল যাত্রাবাড়ীতে বরিশাল রুটের ‘বলাকা’ পরিবহনের সামনে দেখা যায়, মানুষের জটলা। ভাড়া নিয়ে হচ্ছিল দর কষাকষি। পরিবহন কোম্পানিটির এক কর্মী দুই যাত্রীকে বলছিলেন, ‘বনেটে বসে গেলে একদাম ৬০০ টাকা। আর সিট চাইলে একদাম ৮০০। যাইলে যান, না যাইলে অন্য জায়গায় যান।’ এর মধ্যেই এক যাত্রীকে দুই হাতে ধরে হেঁচকা টানে বাসে তুলে নেন পরিবহন শ্রমিকরা। সেখানে বাইরে দাঁড়িয়ে এক যাত্রীর সঙ্গে কথা হয়। রাজধানীর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী লিয়ন নামের (২৫) ওই যাত্রী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘যাব বরিশাল। সাধারণ সময়ে সিটপ্রতি ৫০০ টাকা ভাড়া হলেও ঈদের কারণে ৮০০ টাকা করে হাঁকছে। আর ইঞ্জিনের বনেটে গেলে নেবে ৬০০ টাকা। কিন্তু আমি আরেকটু দেখব।’

বাড়তি ভাড়ার বিষয়ে জানতে চাইলে বলাকা পরিবহনের কন্ডাক্টর মো. মফিজ উদ্দিন বলেন, ‘একটা ট্রিপে ৭ হাজার টাকার বেশি খরচ আছে। ফিরতি পথে বাস খালি আসছে। এখন যেভাবে পারি পুষিয়ে নিতে হবে। তাই বনেটে কেউ যেতে চাইলে না করছি না।’

একই চিত্র দেখা যায় ফরিদপুরের ভাঙ্গাগামী ‘ইলিশ’ পরিবহনেও। প্রায় দ্বিগুণ ভাড়া হাঁকছিলেন বাসটির কর্মীরা। একাধিক যাত্রী বলেন, সাধারণ সময়ে যেতে আসনপ্রতি আড়াইশ টাকা ভাড়া। কিন্তু ঈদ ঘিরে ভাড়া চাইছে ৪০০ টাকা করে। এই পরিবহনের সুপারভাইজর সুমন বলেন, ‘বনেটে গেলেও ৪০০, সিটে গেলেও ৪০০ টাকাই ভাড়া দিতে হবে।’ বাড়তি ভাড়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ফিরতি পথে যাত্রী নেই।

যাত্রাবাড়ী দিয়ে পদ্মাসেতু হয়ে অন্তত ২০টি জেলার বাস চলাচল করে। গত শুক্রবার এই রুটের বাসগুলোতে বাড়তি ভাড়ার অভিযোগ করেছিলেন যাত্রীরা। গতকালও একই চিত্র দেখা গেছে। ‘সরদার’ পরিবহনে খুলনা ও গোপালগঞ্জের ভাড়া নেওয়া হচ্ছিল ৭৫০ টাকা করে। একাধিক যাত্রী জানান, সাধারণ সময়ে এই দুই রুটের ভাড়া আসনপ্রতি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। একইভাবে নড়াইলগামী ‘নড়াইল’ এক্সপ্রেসে ৬০০ টাকা করে ভাড়া নিতে দেখা গেছে। যদিও এ রুটে সাধারণ সময়ের ভাড়া ৪৫০ থেকে ৫৫০ করে।

বাড়তি ভাড়া গাবতলী-মহাখালীতেও : রাজধানীল গাবতলী ও মহাখালী বাস টার্মিনালে বিগত কয়েক দিনের তুলনায় গতকাল যাত্রী চাপ ছিল কম। ঈদে লম্বা ছুটি থাকায় অনেকেই আগেভাগে বাড়ি যাওয়ায় এবার এই টার্মিনালগুলোতে বাড়তি চাপ নেই। এরপরও বেশকিছু পরিবহনে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি ভাড়া নিতে দেখা যায়। বিশেষ করে লোকাল বাসগুলোতে বাড়তি ভাড়া নিতে দেখা যায়। গাবতলীতে ‘সাকুরা’ পরিবহনের একটি কাউন্টারের টিকিট বিক্রেতা সাদেকুল বলেন, ‘ঈদের লম্বা ছুটি থাকায় এবার আগের মতো ভিড় নেই। সকালের দিকে যাত্রীর চাপ থাকলেও দুপুরের দিকে সেভাবে চাপ নেই।’

বগুড়াগামী একটি বাসের যাত্রী রেজওয়ান বলেন, ‘সরকার নন এসি বাসের ভাড়া নির্ধারণ করলেও এসি বাসের ক্ষেত্রে মালিকরা ইচ্ছেমতো ভাড়া আদায় করেন। ৭০০ টাকার ভাড়া নিচ্ছে ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা।’

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এবার ঈদযাত্রায় ট্রেনের সময়সূচি ঠিক থাকায় যাত্রীরা স্বস্তি পেয়েছেন। কিন্তু কালোবাজারি ও জাল টিকিটে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে তাদের। সেই সঙ্গে গণপরিবহনে বাড়তি ভাড়া আদায় করা হয়েছে বেশিরভাগ রুটে।’

কমলাপুরে যাত্রী চাপ নেই, সময়মতো ছেড়েছে ট্রেন : অন্যান্য বারের ঈদযাত্রায় রেলপথ যাত্রায় ছিল নানা হয়রানি। কিন্তু এবার ট্রেনে স্বস্তি মিলেছে ঘরমুখো মানুষের। গতকাল সকাল থেকে কোনো ট্রেনই কমলাপুর স্টেশন থেকে বিলম্বে ছাড়েনি। অন্যদিকে কড়াকড়ির কারণে দিনে এই স্টেশন থেকে ছেড়ে যাওয়া বেশিরভাগ ট্রেনের ছাদে চড়ে কেউ ভ্রমণ করতে পারেননি। তবে সকালে ছেড়ে যাওয়া পঞ্চগড়গামী একতা এক্সপ্রেস ট্রেনের ছাদে শতাধিক মানুষকে ভ্রমণ করতে দেখা যায়। এ ছাড়া রাত আটটায় ছেড়ে যাওয়া কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসের ছাদেও কিছু মানুষকে ভ্রমণ করতে দেখা যায়। বিভিন্ন জায়গা থেকে জাল টিকিট কিনে প্রতারণার শিকারও হন অনেক যাত্রী।

যাত্রী বেড়েছে লঞ্চে : আড়াই বছরের বেশি সময় আগে পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়া লঞ্চে যাত্রী কমেছে। তবে, ঈদ উপলক্ষে ব্যতিক্রমও দেখা গেছে। এবারের ঈদযাত্রায় গত কয়েকদিন ধরে লঞ্চে যাত্রী কম ছিল। কিন্তু গতকাল থেকে যাত্রী বেড়েছে। দুপুর সোয়া একটার দিকে সদরঘাট এলাকায় গিয়ে ব্যাগ-বোঁচকা হাতে বহু যাত্রীকে এক প্রকার ছুটতে দেখা যায়। যাত্রীদের ভিড়ে বাংলাবাজার এলাকা থেকে সদরঘাট পর্যন্ত ছিল তীব্র যানজট। বরিশাল, পটুয়াখালী, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, ভোলা, চাদপুরগামী লঞ্চগুলো দেখা গেছে যাত্রীতে প্রায় পূর্ণ। তবে, প্রচণ্ড গরমে হাঁসফাঁস করছিলেন তাদের অনেকে। এমনিতে নির্ধারিত সময়ে লঞ্চ ছেড়ে গেলেও ঈদের সময় এই শিডিউলে হেরফের হয়। গত শুক্রবার বিভিন্ন গন্তব্যের ১০৬টি লঞ্চ সদরঘাট ছেড়ে গিয়েছিল। বিআইডব্লিউটিএর নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের পরিচালক (ঢাকা নদীবন্দর, সদরঘাট) মো. সাইফুল ইসলাম গতকাল রাত ১০টার পর জানান, এদিন দুপুর ১টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত সদরঘাট থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে ১২১টি লঞ্চ ছেড়ে যায়। রাতেই আরও ১৩টি লঞ্চ ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল।

লৌহজং (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, ঈদযাত্রায় পদ্মা সেতু দিয়ে স্বস্তিতে পারাপার হচ্ছেন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ। গতকাল ভোর থেকে থেমে থেমে যানবাহনের চাপ লক্ষ্য করা গেলেও ছিল না উল্লেখ করার মতো যানজট। নির্বিঘেœ পদ্মা পাড়ি দিতে পেরে আনন্দিত যাত্রীরা। তবে, শিমুলিয়া ঘাট দিয়ে পদ্মা পাড়ি দিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে। গতকাল সকাল ১১টার দিকে বাংলাদেশ সেতু কর্র্তৃপক্ষের পরিচালক প্রশাসন (যুগ্ম সচিব) আলতাফ হোসেন শেখ পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্ত পরিদর্শনে আসেন। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় পদ্মা সেতু দিয়ে ৩৯ হাজার গাড়ি পারাপার হয়েছে। এতে ৪ কোটি ২৫ লাখ টাকার টোল আদায় হয়।

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি জানান, ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বাড়লেও স্বাভাবিক গতিতেই চলাচল করেছে। যমুনা সেতু কর্তপক্ষ জানায়, সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় এই সেতু দিয়ে ৪৮ হাজার ৩৩৫টি যানবাহন পারাপার হয়েছে । এতে টোল আদায় হয় ৩ কোটি ৩৮ লাখ ৫২ হাজার ৯০০ টাকার।

তাপপ্রবাহে কাটবে ঈদ, বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই : এবার ঈদের সময় বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। বাড়তি তাপমাত্রায় জনজীবনে অস্বস্তি আসতে পারে।

ঢাকায় ঈদের প্রধান জামাত হবে জাতীয় ঈদগাহ মাঠে। সেখানে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং উপদেষ্টা পরিষদের অন্য সদস্যসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা ঈদের জামাত আদায় করবেন। এবার প্রথমবারের মতো ঈদের জামাত আয়োজন করা হচ্ছে আগারগাঁওয়ের পুরাতন বাণিজ্যমেলা মাঠে। তাছাড়া বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় খেলার মাঠ, মিরপুর, উত্তরা, পুরান ঢাকাসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ঈদের জামাত হবে। এবারও দেশের সর্ববৃহৎ ঈদ জামাত আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়েছে কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠ কমিটি।  সারা দেশে ঈদের জামাত শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি-সমৃদ্ধি কামনা করে দোয়া- মোনাজাত করা হবে। এবারের ঈদে প্রথম বারের মতো মুঘল আমলের হারানো ঐতিহ্য ঈদের মিছিল হবে। পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠ থেকে সংসদ ভবন অ্যাভিনিউ পর্যন্ত বর্ণাঢ্য এ মিছিল হবে। তাছাড়া পাড়া-মহল্লায়ও ছোট ছোট মিছিল হবে বলে জানা গেছে।

এদিকে, ঈদ উপলক্ষে দেশবাসীর উদ্দেশ্যে শুভেচ্ছা বার্তা দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ।

প্রস্তুত জাতীয় ঈদগাহ : ঈদের প্রধান জামাত আয়োজনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে  ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। সংস্থাটির প্রশাসক গতকাল ঈদগাহ মাঠের প্রস্তুতি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা আধুনিক ও সুসংগঠিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ঈদ জামাত আয়োজনের পরিকল্পনা করেছি। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকলেও প্রতিকূল পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে প্রয়োজনীয় সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি।’

এবারের ঈদুল ফিতর কাটবে তাপপ্রবাহের মধ্য দিয়ে। বৃষ্টিপাতের তেমন কোনো সম্ভাবনা নেই। এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ওপর দিয়ে তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। কিছু কিছু জায়গায় তা তীব্র তাপপ্রবাহে রূপ নিয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ আফরোজা সুলতানা জানিয়েছেন, সোমবার ও মঙ্গলবারের দিকে ঢাকাসহ দেশের মধ্যাঞ্চল, খুলনা অঞ্চল ও রাজশাহী অঞ্চলে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পাবে। দেশের অন্যান্য স্থানেও আবহাওয়া থাকবে শুষ্ক। বৃষ্টিপাতের কোনো সম্ভাবনা নেই। তবে কালবৈশাখীর মৌসুম হওয়ায় স্থানীয়ভাবে কিছু কালবৈশাখী ঝড় বয়ে যেতে পারে।

আবহাওয়াবিদ খো. হাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকা পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে।

সোমবার সকাল থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত সময়ের দেওয়া পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত