উত্তরপ্রদেশের যোগী আদিত্যনাথ সরকারের বুলডোজার নীতির তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। এ সময় প্রয়াগরাজ প্রশাসন এবং যোগী আদিত্যনাথ সরকারের সমালোচনা করে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট ক্ষতিগ্রস্ত ছয়জনকে ১০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দিয়েছে। গত মঙ্গলবার এই মামলার শুনানিতে বিচারপতি এ এস ওকা এবং বিচারপতি উজ্জ্বল ভুঁইয়ার বেঞ্চ এ নির্দেশ দিয়েছে। বিজেপি নেতা যোগী আদিত্যনাথ উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর বুলডোজার-নীতি প্রথম চালু করেন। পরে বিজেপিশাসিত অন্যান্য রাজ্যেও এই নীতি ব্যবহার হতে থাকে। দাঙ্গা বা অসামাজিক কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে আটক বা পলাতকদের ঘরবাড়ি দোষী প্রমাণিত হওয়ার আগেই বুলডোজার চালিয়ে ভেঙে দেওয়া হতে থাকে। এ নিয়ে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ হতে থাকে রাজ্যে রাজ্যে। এরই ধারাবাহিকতায় উত্তরপ্রদেশের একটি প্লটে চার-পাঁচজনের বাড়ি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে রয়েছেন এক জন আইনজীবী এবং অধ্যাপকও। অভিযোগ যথাযথ প্রক্রিয়া অবলম্বন না করেই তাদের বাড়ি ভেঙে ফেলা হয়। বিচারপতিরা বলেছেন, এভাবে কারও বাড়ি ভেঙে ফেলা হলে, তা আমাদের বিবেককে নাড়া দেয়। বাসস্থানের অধিকার বা এ ব্যাপারে আইনের যথাযথ প্রক্রিয়া কিছু আছে। এই ক্ষেত্রে সেই সব কিছুই মানা হয়নি। যা সম্পূর্ণ সংবেদনশীলতার অভাব। তারা আরও বলেন, আশ্রয় ও বাসস্থানের অধিকার সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদের অভিন্ন অঙ্গ। উন্নয়নের কাজের সঙ্গে যুক্ত কর্র্তৃপক্ষকে সেটা জানতে হবে। একই সঙ্গে দেশে আইনের শাসন আছে বিষয়টি উত্তরপ্রদেশ সরকারকে স্মরণ করিয়ে দেন দুই বিচারপতি।
বাড়ি ভাঙার প্রক্রিয়া অবৈধ বলে দাবি করে ভুক্তভোগীরা প্রথমে এলাহাবাদ হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। যদিও সেখানে তাদের আবেদন খারিজ হয়। তারপরই মামলা গড়ায় সুপ্রিম কোর্টে। সরকারের এ ধরনের পদক্ষেপের সমালোচনা করে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের নোটিস পাঠানোর প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলে। বিচারপতি ওকা বলেন, বাড়ি ভাঙার ফলে মামলাকারীরা তাদের মাথার ওপর ছাদ হারিয়েছেন। ২০২১ সালে আইনের পরোয়া না করে যাদের বাড়ি ভাঙা হয়েছিল, সেই প্রয়াগরাজের লুকারঞ্জের বাসিন্দা এক আইনজীবী, এক অধ্যাপক এবং দুজন মহিলাকে বাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়ার ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে প্রয়াগরাজ প্রশাসনকে। শুধু তাই নয়, কর্র্তৃপক্ষের উচিত সর্বদা যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা। দেশটির শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ, যাদের বাড়ি ভেঙে ফেলা হয়েছে, তাদের পাঠানো নোটিসের জবাবের সুযোগ দেওয়া হয়নি।
পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, কোনো বাড়ি ভেঙে ফেলার আগে কর্র্তৃপক্ষের অবশ্যই মনে রাখতে হবে সব নাগরিকের বাসস্থানের অধিকারের কথা সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে। আদালত জানায়, রাজ্য প্রশাসনের কোনো অধিকার নেই বিচারকের ভূমিকায় বসে অভিযুক্তর বিচার সম্পন্ন হওয়ার আগেই বেসরকারি ও বাণিজ্যিক সম্পত্তিকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার। এইসঙ্গে শীর্ষ আদালত বেআইনি ও দখলিকৃত নির্মাণ ধ্বংসের ক্ষেত্রে গাইডলাইন বেঁধে দিয়েছিল। জানানো হয়েছিল, বাড়ি ভাঙার কমপক্ষে ১৫ দিন আগে নোটিস দিতে হবে।
