বৌ ভাতে খাবার সংকট, মারামারিতে ভাঙল বিয়ে

আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ০৩:৫৬ পিএম

গাজীপুরের শ্রীপুরে বিয়ে বাড়িতে বৌ ভাতের অনুষ্ঠানে খাবার নিয়ে কথা কাটাকাটির মধ্যে বরপক্ষের লোকজন মারামারি বাধিয়ে দেয় কনে পক্ষের লোকজনের সাথে। এ সময় বাকবিতণ্ডা বাঁধলে হামলা ও ভাঙচুর চালায় বর পক্ষের লোকজন। এতে কনের বাবা মাসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনার পর বিয়ে ভেঙে যায়। বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) দুপুরে গাজীপুর ইউনিয়নের ফরিদপুর (নয়নপুর) গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। 

 এ সময় আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে বর পক্ষের হামলাকারীরা লোকজন পালিয়ে যায়। তবে কয়জনকে আটকে রাখা হলে পরে ছাড়িয়ে নেওয়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

আহতরা হলেন- পাত্রীর বাবা রুবেল হোসেন, পাত্রীর মা মিলনা আক্তার , আত্মীয় নাসরিন বেগম, পারভেজ আলম, আলমীর হোসেনসহ অন্তত ১৫ জন। 

কনের বাবা রুবেল হোসেন বলেন, বৃহস্পতিবার আমাদের বাড়িতে বৌভাতের আয়োজন করা হয়। এ সময় ছেলে বাড়ি থেকে (বর পক্ষের) ৩০ জন বরযাত্রী (মেহমান) আসার কথা থাকলেও ছেলেপক্ষ অন্তত ১০০ জন বরযাত্রী (মেহমান) নিয়ে আসেন। এতে শুরুতে সামান্য খাবার সংকট সৃষ্টি হয়। তবে কিছু বরযাত্রী মেহমানদের খাবারে বসিয়ে দ্রুত খাবার প্রস্তুর করা হচ্ছিল। এ সময় অল্পকজন ছাড়া অন্যদের খাবার দেওয়া হয়। কিন্তু কোনো একটি টেবিলে মাংসের প্লেট পাঠাতে দেরি হওয়ায় হট্টগোল লাগে। এ সময় তাদের কয়েক মিনিট ধৈর্য ধরার কথা বলায় ক্ষিপ্ত হয়ে মারামারি বাধিয়ে দেয়। এতে আমাদের কমপক্ষে ১৫ জন মানুষ তাদের মারধরে আহত হয়।

কনের স্বজনরা জানান, ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার ধলিয়া পাড়া গ্রামের মৃত মোহাম্মদ আলীর ছেলে সোলাইমান হোসেনের সাথে রুমানার বিয়ে ঠিক হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে বৌভাতের অনুষ্ঠান ছিল। সে অনুষ্ঠানে বর পক্ষ অতিরিক্ত মেহমান নিয়ে বৌভাতের অনুষ্ঠানে চলে আসেন। এতে নিয়মিত খাবারে সংকট পড়ে যায়। তবে অল্প সময়ে মধ্যেই খাবার রেডি করার কাজ চলছিল। কিন্তু বর পক্ষের কিছু উশৃঙ্খল লোক খাবার দিতে দেরি হচ্ছে কেন তা বলতে বলতে হট্টোগোল বাধিয়ে দেয়। এক সময় তারা কনে পক্ষের লোকজনের ওপর হামলা করে। এ সময় তারা প্যান্ডেল, গ্লাস জগ ও থালাবাসন ভাঙচুর করে।

কনের চাচা আবুল কালাম জানান, গোলমাল হট্টোগালের পর বিয়ে ভেঙে যায়। মারামারির সময় বেশকজন পালিয়ে গেলেও আরও কিছু বরযাত্রী আটকে পড়ে। এ সময় দুইপক্ষের সমঝোতে বাকিদের ছেড়ে দেওয়া হয়। তিনি বলেন, বরের কিছু উশৃঙ্খল স্বজন ও বন্ধু-বান্ধব এ কাণ্ড ঘটিয়েছে। 

তবে এ ব্যাপারে বর পক্ষের কারও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

শ্রীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জয়নাল আবেদীন মণ্ডল বলেন, বিয়েতে মারামারির খবর পেয়ে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। বরপক্ষের লোকজনের পক্ষ থেকে হামলা ভাঙচুর চালানোর সত্যতা পাওয়া গেছে। তবে এ ব্যাপারে কনে পক্ষের স্বজনরা কোনো অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত