খুলনা বিএমএ সভাপতি

তল্লাশির নামে বাসা তছনছের অভিযোগ

  • নাগরিক অধিকার খর্ব করার অভিযোগ ডা. বাহারের
আপডেট : ০৮ এপ্রিল ২০২৫, ০৬:০৩ পিএম

বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) খুলনার সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ডা. শেখ বাহারুল আলমের বাস ভবনে অভিযান চালিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। অস্ত্র উদ্ধারের নামে এ অভিযান চালানোকে নাগরিক অধিকার খর্ব করার শামিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে। মঙ্গলবার বেলা ১১টায় নগরীর সাতরাস্তা মোড়স্থ বিএমএ ভবনে অনুষ্ঠিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ডা. শেখ বাহারুল আলম এ অভিযোগ করেন।

ডা. শেখ বাহারুল  আলম বলেন, মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে নগরীর সোনাডাঙ্গা থানার ৩০ নম্বর কেডিএ অ্যাপ্রোচ রোডের তার বাস ভবনে যেভাবে তছনছ করা হয়েছে সেটি কোনো সুস্থ মানসিকতার পরিচয় হতে পারে না। তিনি ৪০ বছরের বেশি সময় ধরে চিকিৎসা সেবায় জড়িত। তার নিজস্ব একটি পরিচয় আছে। তিনি নিজে কোনো লাইসেন্সপ্রাপ্ত অস্ত্রধারীও নন। অস্ত্র উদ্ধারের নামে তার বাসভবনের প্রতিটি কক্ষ বিশেষ করে বেডরুমেও তছনছ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, গত সোমবার বিকেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ‘ট্রমা সেন্টার’ নামে তার চিকিৎসাকেন্দ্র সংলগ্ন বাসভবনে গিয়ে বাসায় অস্ত্র আছে উল্লেখ করে অভিযানের কথা জানায়। প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী বিভিন্ন কক্ষে অভিযানের নামে মালামাল তছনছ করা হয়। কিন্তু কোনো অস্ত্র না পেয়ে তার কাছ থেকে স্বাক্ষর নিয়ে চলে যায়।

অভিযানে কোন সংস্থার সদস্যরা বা নির্দিষ্ট কোন অফিসারের নেতৃত্বে হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি কারওে নাম উল্লেখ করতে পারেননি।

তিনি বলেন, আশপাশের অনেক সিসি ক্যামেরা আছে- সেখান থেকে দেখেই জানা যাবে। তাছাড়া খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশও এর সঠিক তথ্য দিতে পারবে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে ডা. বাহারুল আলম আরো বলেন, ‘যেহেতু অস্ত্র উদ্ধারের কথা বলে তার বাসায় অভিযানটি হয়েছে, কিন্তু অস্ত্র পাওয়া যায়নি- সেহেতু কার বা কাদের মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে এ অভিযানটি হলো তাকেও জনসম্মুখে এনে শাস্তির আওতায় আনতে হবে।’

তিনি বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী আমলে তিনি ছিলেন প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর। এমনকি জুলাই-আগস্টের কোটা বিরোধী থেকে শুরু করে সরকারবিরোধী আন্দোলনে তিনি নিজে ছিলেন রাজপথে সরব। খুলনা বিএমএ’র সামনেই তিনি ছাত্র আন্দোলনের পক্ষে মানববন্ধন করেন। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের ফলে যে সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তার ফল যদি হয় বিনা কারণে, বিনা অপরাধে, মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে রাষ্ট্রের একজন নাগরিককে হেনস্থা করা সেই রাষ্ট্রীয় সংস্থাকে তিনি ধিক্কার জানান।

এ প্রসঙ্গে কেএমপির অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া অ্যান্ড সিপি) মোহা. আহসান হাবীব বলেন, এ ধরনের কোনো অভিযানের খবর তার কাছে নেই।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত