স্টারলিংক বৃত্তান্ত

আপডেট : ০৯ এপ্রিল ২০২৫, ০১:৪৮ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্কের মস্তিষ্কপ্রসূত স্টারলিংক। চলমান দশকে ইন্টারনেট ব্যবস্থার মধ্যমণি হওয়ায় স্টারলিংককে ঘিরে চলছে নানা উদ্দীপনা। সেই ঢেউয়ে ভেসেছে বাংলাদেশও। যার ফলে স্টারলিংক ঘিরে সাধারণের মনে কৌতূহলের কমতি নেই। এই প্রেক্ষাপটে চলুন জেনে নেওয়া যাক কী এই স্টারলিংক এবং এর কার্যপদ্ধতিই বা কী?

স্টারলিংক কী

পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে স্যাটেলাইট বা কৃত্রিম উপগ্রহ চালু করা প্রথম বেসরকারি প্রতিষ্ঠান স্টারলিংক। প্রতিষ্ঠানের নামানুসারেই উপগ্রহ ক্লাস্টারের নামকরণ হয়েছে। ২০১৯ সালে ৬০টি স্যাটেলাইট নিয়ে যাত্রা শুরু হলেও বর্তমানে তা ৭ হাজারেরও বেশি। এই স্যাটেলাইটগুলোর মাধ্যমে বিশ্ব জুড়ে ১০০টিরও বেশি দেশে ইন্টারনেট সেবা দিয়ে থাকে স্টারলিংক। ভূপৃষ্ঠ থেকে এদের অবস্থান প্রায় ৩৫ হাজার ৭৮৬ কিলোমিটার ওপরে। শহরাঞ্চলের পাশাপাশি অনুন্নত এলাকাগুলোতেও সমানভাবে কার্যকর স্টারলিংক পরিষেবা।

স্টারলিংকের কার্যপদ্ধতি

স্টারলিংক গ্রাহকের ডিভাইস থেকে ডাটা রিকোয়েস্ট প্রথমে নিকটতম স্যাটেলাইটে পৌঁছায়। সেই রিকোয়েস্ট পরবর্তী সময়ে প্রেরিত হয় নির্দিষ্ট গন্তব্যের কাছাকাছি অন্য স্যাটেলাইটে। পরে সেই স্যাটেলাইটের অধীনে থাকা সুনির্দিষ্ট ডাটা সার্ভারে প্রবেশ করে কাক্সিক্ষত তথ্য নিয়ে একই ভাবে গ্রাহকের ডিভাইসে প্রেরণ করা হয়। নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ রক্ষার্থে গেটওয়ে হিসেবে বসানো হয় গ্রাউন্ড স্টেশন। প্রতিটি গ্রাউন্ড স্টেশনের বন্ধনীতে ঘেরা থাকে ৯ দশমিক ৪ ফুট উচ্চতার ৯টি অ্যান্টেনা। এই ব্যবস্থায় যোগাযোগ বিলম্ব থাকে মাত্র ২৫ থেকে ৩৫ মিলি সেকেন্ড। যা কেবল ও ফাইবার নেটওয়ার্কের তুলনায় অনেক কম। পিয়ার-টু-পিয়ার প্রোটোকল ব্যবহার করায় স্টারলিংক বর্তমান সময়ের আইপিভি৬ থেকে অধিক নিরাপদ ও উন্নত।

এই পরিষেবা ব্যবহারে গ্রাহককে ডিশ অ্যান্টেনার মতো একটি যন্ত্র বসাতে হবে। যা স্যাটেলাইটগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে। এর টুলকিটে স্টারলিংক অ্যান্টেনা ছাড়াও থাকে স্ট্যান্ড, স্টারলিংক কেবল, জেন থ্রি রাউটার, এসি কেবল এবং পাওয়ার অ্যাডাপ্টার। এই অ্যান্টেনা যে কোনো জায়গায় প্রতিস্থাপন করা যাবে। তবে শর্ত হচ্ছে আকাশ ও অ্যান্টেনার মধ্যে কোনো প্রতিবন্ধকতা থাকা যাবে না। এই রাউটারে এক সঙ্গে ২৫৪টি ডিভাইস যুক্ত হতে পারে। তবে স্টারলিংক ৫০টির কম ডিভাইস ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত