সাত বছর একসঙ্গে খেলেছেন বার্সেলোনায়। একসঙ্গে গড়া হয়েছে বহু সোনালি মুহূর্ত, জিতেছেন একের পর এক শিরোপা। কিন্তু সেই পথচলা শুধুই আলোয় মোড়া ছিল না। মেসির সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েনের কথাও অকপটে বললেন বার্সেলোনার বর্তমান অধিনায়ক মার্ক-আন্ড্রে টের স্টেগেন। জার্মান পত্রিকা বিল্ড-কে দেওয়া সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে তুলে ধরলেন সেই সব না-বলা কথা।
২০১৪ সালে মাত্র ২২ বছর বয়সে বার্সেলোনায় যোগ দেন টের স্টেগেন। শুরুর দিনগুলো সহজ ছিল না। অভিজ্ঞ ক্লাওদিও ব্রাভোর ছায়ায় সুযোগের অপেক্ষায় থাকতে হয়েছে। খেলতে না পেরে একসময় ক্লাব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। পেপ গুয়ার্দিওলার ম্যানচেস্টার সিটিতেও দেখা করেছিলেন। কিন্তু কোচ লুইস এনরিকে তাঁকে যেতে দেননি। ব্রাভো চলে যাওয়ার পর ২০১৬ সাল থেকে তিনি হয়ে উঠেছেন বার্সার প্রধান গোলরক্ষক।
সময়ের সঙ্গে ক্লাবে নিজের অবস্থান মজবুত করেছেন এই জার্মান। আর তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় কেটেছে ক্লাব ইতিহাসের সেরা তারকা লিওনেল মেসির সঙ্গে। সেই সময়টা মনে করে এখন বলছেন, “সেরা স্মৃতি? সেটা ভালো নাকি খারাপ? (হাসি) আমাদের দুটোই আছে।”
স্টেগেন মনে করেন, মেসি এমন একজন যার মনোভাব বোঝা সহজ নয়। “লিও এক বিশেষ চরিত্র। তিনি এমন অনেক কিছু থেকে অনুপ্রেরণা নেন যা আমরা দেখতে পাই না। আমাদের মধ্যে এমন সময়ও এসেছে, যখন আমাদের সম্পর্কটা ভালো ছিল না। তিনি আমার ওপর বিরক্ত ছিলেন, আমিও তাঁর ওপর।"
এই অসন্তোষের অভিজ্ঞতা যে শুধু মানসিক ছিল তা নয়, মাঠেও পেয়েছেন টের স্টেগেন।
“আমার মনে হয়, লিও সম্ভবত একমাত্র খেলোয়াড়, যিনি চাইলে সরাসরি তোমার মুখে বল মারতে পারে। অন্যরা হয়তো যেকোনো দিকে মারবে, কিন্তু ওর লক্ষ্যভেদ করার দক্ষতা অবিশ্বাস্য।”
“এমনটা আমার সঙ্গে কয়েকবার ঘটেছে (হাসি)। তবে রাগের কারণে নয়। এটা লিওর সহজাত ক্ষমতা। তিনি যদি কাউকে মাঠে ছোট করে দেখাতে চান, সেটা তিনি এমন এক পাস বা শট দিয়ে করেন, যেটা দেখলে মনে হয়, ‘এটা কি আসলেই সম্ভব?’ আমি এই অভিজ্ঞতা বহুবার পেয়েছি।”
তবে মেসির প্রতিভার প্রশংসা করতে ভোলেননি স্টেগেন। “এই কারণেই আমি কৃতজ্ঞ যে, আমি সব সময় ম্যাচে তাকে আমার দলে পেয়েছি, প্রতিপক্ষ দলে নয়।”
মেসির সঙ্গে সম্পর্ক কি পরে ঠিক হয়েছিল? এ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে জবাবটা ছিল পরিপক্ব, “আমাদের মধ্যে কখনও এমন ঝগড়া হয়নি যে বলা যায়, সম্পর্কটাই খারাপ ছিল। তবে আমাদের কিছু কঠিন মুহূর্ত ছিল, এবং সেটা স্বাভাবিক।”
'একই লকার রুমে দীর্ঘ সময় ছিলাম। ওকে দলে পাওয়া, আর তার নেতৃত্ব দেখাটা সত্যিই একটা অভিজ্ঞতা। সেটা আমার পছন্দের স্টাইল হোক বা না হোক—দেখার মতো।”
“লিও বেশি কথা বলেন না। তিনি তাঁর উপস্থিতি দিয়ে নেতৃত্ব দেন। খুব বেশি বলার প্রয়োজন হয় না তাঁর। কিন্তু যখন বলেন, তখন সবাই শোনে। একজন অধিনায়কের পক্ষে এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—তাঁর কথা শোনার মতো প্রভাব থাকা।”
টের স্টেগেনের এই বক্তব্যগুলো শুধু তাদের সম্পর্ক নয়, একজন মেসির প্রতি শ্রদ্ধা আর প্রশংসার দৃষ্টিভঙ্গিটাও স্পষ্ট করে তোলে। ঝড়ঝাপটা থাকা সত্ত্বেও, মেসির সঙ্গে কাটানো সময়টাকে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় বলেই মনে করেন তিনি।
আবাহনী-মোহামেডানের জয়ের দিন সন্দেহজনক আউট নিয়ে গুঞ্জন
৩৩৮ ম্যাচে ফ্রি-কিকে গোল করতে না পারা ডেকলান রাইস হয়ে গেলেন মেসি
দেড় ঘন্টা অতিরিক্ত সময় ব্যয়ে লাখ টাকা জরিমানা প্রাইম ব্যাংকের