সাংবাদিকদের আমীর খসরু

বিএনপি ক্ষমতায় গেলে সুবিধা পাবে বিনিয়োগকারীরা

আপডেট : ১১ এপ্রিল ২০২৫, ০৫:৫৯ এএম

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, আগামীতে বিএনপি যদি ক্ষমতায় আসতে পারে তাহলে বাংলাদেশের অর্থনীতির উন্নয়নের জন্য বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সহযোগিতা করার জন্য সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে প্রত্যেক বিনিয়োগকারীর জন্য বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্র্তৃপক্ষ একজন করে ‘ক্যাপ্টেন’ দেবে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর বনানীতে অবস্থিত হোটেল সারিনাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগ সম্মেলনে আমন্ত্রিত অতিথিদের সঙ্গে মতবিনিময়ের আগে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, অর্থনীতিতে যত ধরনের সংস্কার হয়েছে তার প্রায় সবই বিএনপির করা। আগামী দিনের যে অর্থনীতি হবে সেটা মাথায় রেখে আমরা একটা পরিকল্পনা আগেভাগেই করেছি। আমাদের ভিশন ২০৩০-তে এটার প্রতিফলন ঘটেছে। ৩১ দফার সংস্কারের মধ্যেও তার প্রতিফলন ঘটেছে। সেটাকে মাথায় রেখে আমরা আমাদের দেশে আসা বিনিয়োগকারীদের বলছি, আমরা কী কী পরিবর্তন আনব।

তিনি বলেন, পরিবর্তনের মধ্যে সবকিছু সহজীকরণ সরলীকরণ করার মাধ্যমে বিনিয়োগকারীরা যে বাধা-বিপত্তির মধ্যে পড়ে সেটা যাতে না পরে আগামী দিনে তার জন্য আমরা আমূল পরিবর্তন আনতে চাই। তার মধ্যে একটি সিরিয়াস ডিরেগুলেশন করব। সিরিয়াস লিবারেলাইজেশন করব। এর মধ্যে বিনিয়োগকারীদের সুযোগ সৃষ্টি করে দেওয়ার জন্য যত ধরনের সুযোগ সুবিধা...। সাবেক এ বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিকে একটি মুক্ত অবস্থায় নিয়ে যেতে চাই।

তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান সাহেব ১৯৮০ সালে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সুরক্ষা দেওয়ার জন্য আইন করেছেন। লিবারেলাইজেশন যতই করেন দেখবেন এগুলো বাস্তবায়ন হয় না। এজন্য আমরা এখানে বাস্তবায়নের কথাও বলেছি। যেমন বিনিয়োগকারী আসার পর তার প্রজেক্টটা শুরু করার জন্য সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় দপ্তর দপ্তরের লাইসেন্সিংয়ের বিষয় আছে অনুমতির বিষয় আছে আমরা এর জন্য বিডাতে ইনভেস্টমেন্ট ক্যাপ্টেন বলে অনেকগুলো ক্যাপ্টেন আমরা দেব। প্রত্যেকটা ইনভেস্টরের জন্য একজন ক্যাপ্টেন থাকবে। যে ক্যাপ্টেনটা আমাদের আগামী দিনের বিনিয়োগকারীর পুরো প্রজেক্ট এ টু জেড এই ক্যাপ্টেনের দায়িত্বে থাকবে। অর্থাৎ বিনিয়োগকারীকে কোনো অফিসে যেতে হবে না। কোনো মন্ত্রণালয় যেতে হবে না। ওই ক্যাপ্টেনকে কাজের সময় নির্ধারণ করে দেওয়া হবে।

বিনিয়োগকারীদের অবস্থা তুলে ধরে বিএনপির এই নেতা বলেন, বিশ্বের বিনিয়োগকারীরা এখন রি লোকেশন করার চেষ্টা করছেন। এজন্য তারা ভালো দেশ কোনটা সেটা খুঁজে বেড়াচ্ছে। সবাই রিক্যালিব্রেট করছে তাদের পলিসি। সেজন্য আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে। সেই প্রস্তুতি বিএনপি নিয়েছে আগামী দিনের জন্য এবং আমরা আশা করি আমাদের যে প্রস্তুতি, যে নীতিমালা এটার মাধ্যমে বিএনপি বিগত দিনে যেভাবে রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা করেছে, যেভাবে বেসরকারি খাতের জন্য স্বাধীনতা দিয়েছে। বিএনপি যখন ইপিজেড করেছে তখন এই সাব-কন্টিনেন্টে কীভাবে এটা চিন্তাও করেনি। ঠিক একইভাবে আমাদের এই যে ভবিষ্যতের চিন্তা আমরা সব দেশের চেয়ে এগিয়ে থাকব এই অঞ্চলে। একই সঙ্গে এই সাব-কন্টিনেন্টে সবার চেয়ে প্রতিযোগিতামূলক থাকব। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিকভাবেও প্রতিযোগিতামূলক থাকব আমরা। আমরা মনে করি আমাদের প্রস্তাবনা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য আগামী দিনের বাংলাদেশে একটি নতুন দিগন্তের উন্মোচন হবে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সাবেক এ বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের বিনিয়োগ সম্মেলনের উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাচ্ছি। একই সঙ্গে জাতীয় স্বার্থে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ আগামী দিনের নির্বাচিত সরকার। কারণ, বিনিয়োগ তো এটা অল্প সময়ের জন্য নয়। সুতরাং তারা জানতে চাচ্ছে, আগামী দিনে আমাদের নীতিমালাগুলো কী হবে। সেগুলোই আমরা তাদের সামনে তুলে ধরছি। আমরা আশা করি আমরা যে নীতিমালা প্রস্তুত করেছি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য, তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে।

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বিএনপি সবসময় বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। এজন্য জিয়াউর রহমানের নীতির মধ্যে প্রথমেই ছিল বেসরকারি খাতের বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। রপ্তানির মাধ্যমে অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং উন্নয়ন মানে উৎপাদন। এটাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে বিনিয়োগের বিকল্প কিছু নেই। বিএনপির জন্ম থেকেই এ ধারণা নিয়েই আমাদের রাজনীতি। এজন্য বিনিয়োগের স্বার্থে দেশের সবার একটা ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা থাকা উচিত। যে কারণে আমরা এ বিনিয়োগ সম্মেলনে যোগ দিয়েছি এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আমাদের পক্ষ থেকে তাদের আসার জন্য অনুরোধ জানিয়েছি।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ইসমাইল জবিউল্লাহ ও তাজভীরুল ইসলাম, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য হুমায়ুন কবির, মাহাদি আমিন ও বিএনপি আন্তর্জাতিক সহপরামর্শ কমিটির সদস্য ইসরাফিল চৌধুরী খসরু।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত