বরিশালের বাবুগঞ্জে নেই কোনো দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী। তারপরও প্রায় আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছে আধুনিক দুটি আবাসিক হোস্টেল। সরকারি অর্থায়নে নির্মিত ভবন দুটি পাঁচ বছরেও উদ্বোধন হয়নি। প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ না থাকায় এসব অব্যবহারযোগ্য ভবন পড়ে রয়েছে অযতেœ। একটি আংশিক ব্যবহৃত হলেও অন্যটি বছরের পর বছর তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে দুটি হোস্টেল ভবন করান সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন।
২০১৮ সালে ‘দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য হোস্টেল নির্মাণ ও সম্প্রসারণ’ শীর্ষক একটি প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও গণপূর্ত অধিদপ্তর। তৎকালীন সরকারের প্রভাবশালী সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন তার নিজের নামে প্রতিষ্ঠিত বাবুগঞ্জ হাই স্কুল (বালক) এবং বাবুগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে (বালিকা) এ দুটি হোস্টেল নির্মাণের অনুমোদন দেন। একই বছরের সেপ্টেম্বর মাসে স্থানীয় দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রায় আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে ২০ শয্যার আবাসিক এ দুটি হোস্টেলের নির্মাণকাজ শুরু করে। ২০২০ সালে কাজ শেষে ভবন দুটি সমাজকল্যাণ অধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
বরিশাল সমাজকল্যাণ অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘অপরিকল্পিতভাবে কেবল ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে মন্ত্রী মেনন এ ভবন দুটি বরাদ্দ দিয়েছিলেন। এতে সরকারি অর্থের অপচয় হয়েছে, ভবন দুটি কোনো কাজেই আসছে না।’
স্থানীয়দের অভিযোগ, হোস্টেল দুটি নির্মাণের শুরুতেই জানা গিয়েছিল, এগুলো দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য। কিন্তু এলাকায় এমন শিক্ষার্থী না থাকায় কোটি টাকার ভবনগুলো বছরের পর বছর ধরে পড়ে আছে অপ্রয়োজনে।
স্থানীয় বাসিন্দা আবু হান্নান বলেন, এই ভবনগুলোর জায়গায় যদি কোনো কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা কমিউনিটি ক্লিনিক হতো, তাহলে এলাকার ছেলেমেয়েদের উপকার হতো। এখানে উন্নয়নের নামে যে কাজ হয়েছে, তা শুধু লোকদেখানো। আমাদের এলাকার মানুষের কোনো উপকারে আসেনি।
ভবন দুটি চালুর বিষয়ে বরিশাল সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক এ কে এম আখতারুজ্জামান মামুন বলেন, প্রয়োজনীয় জনবল চেয়ে আমরা ইতিমধ্যে মন্ত্রণালয়ে লিখিতভাবে জানিয়েছি। সমাজসেবা ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। সরকারের উদ্দেশ্য ছিল এ হোস্টেলগুলোতে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা আবাসিক সুবিধা নিয়ে লেখাপড়া করবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, বাবুগঞ্জের ওই দুই বিদ্যালয়ে বর্তমানে কোনো দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী নেই। ফলে হোস্টেল দুটি চালু করাও সম্ভব হচ্ছে না।
