মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখান উপজেলার ধলেশ^রী ও ইছামতী বিধৌত একটি গ্রামের নাম ফুলহার। চারপাশে নদীবেষ্টিত এ গ্রামের বাসিন্দাদের যাতায়াতের জন্য ৫০ বছর আগে ইছামতীর শাখা নদীতে নির্মিত হয় একটি বাঁশের সাঁকো। ১১৫ ফুট দৈর্ঘ্যরে পুরনো ওই বাঁশের সাঁকোই ফুলহার গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষের যাতায়াতের ভরসা। অনেক ঝুঁকি নিয়ে বিশাল এ জনগোষ্ঠীর যাতায়াত করতে হয়।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিশাল এ জনগোষ্ঠীর উপজেলা সদর ছাড়াও মসজিদ, মাদ্রাসা, কমিউনিটি ক্লিনিক ও পাশর্^বর্তী হাটবাজারে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম বাঁশের সাঁকো। অনেক ভয় নিয়ে স্কুল ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা বাঁশের সাঁকো পারাপার হয়ে থাকে। গ্রামের কেউ অসুস্থ হলে হাসপাতাল কিংবা কমিউনিটি ক্লিনিকে নিতে গিয়ে পড়তে হয় বিড়ম্বনায়। উপজেলার ফুলহার গ্রাম থেকে ঢাকার কেরানীগঞ্জের বাবুবাজার খুবই কাছে। এ গ্রামের বাসিন্দাদের কেরানীগঞ্জ হয়ে রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও বিমানবন্দরে যাতায়াতের পথ সহজ। ইছামতী শাখা নদীর বাঁশের সাঁকো হয়ে গ্রামবাসীকে ধলেশ্বরী নদীর খেয়া ধরতে হয়। শাখা ইছামতীতে একটি সেতু হলে ধলেশ^রীর খেয়াঘাট পাড়ি দিয়ে অল্প সময়ে রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যেতে পারবেন বলে জানান গ্রামের বাসিন্দারা। তাই ইছামতীর শাখা নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণের দাবি তাদের।
ফুলহার গ্রামের মিয়াজ উদ্দিন (৬৫) বলেন, ‘গ্রামবাসীর কাছে শাখা ইছামতীর বাঁশের সাঁকো যেন দুর্ভোগের নাম। অর্ধশত বছর ধরে এ সাঁকোর ওপর দিয়ে হেঁটে যাতায়াত করছি। শীত-বর্ষা কিংবা ঝড়ের মধ্যে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ সাঁকো দিয়েই আমাদের চলাচল করতে হয়। প্রতি বছর গ্রামবাসীর টাকায় বাঁশের সাঁকো সংস্কারও করতে হয়। অথচ এখানে একটি সেতু নির্মিত হলে পাশর্^বর্তী ধলেশ^রী নদীর খেয়া পারাপার হয়ে অল্প সময়ে মোহাম্মদপুর ও ঢাকার বিমানবন্দরে যেতে আসতে পারত ফুলহার গ্রামবাসী। শুধু ফুলহার নয় সেতু নির্মিত হলে এ উপজেলার চিত্রকোট, কেয়াইন ও শেখরনগর ইউনিয়নের আরও ১২ গ্রামের বাসিন্দারাও এ সুবিধা ভোগ করতে পারবে।’
একই গ্রামের হাজি ইস্পাহানি (৫৫) বলেন, জন্মের পর থেকেই দেখে আসছি এ বাঁশের সাঁকো। সরকার আসে, সরকার যায় কিন্তু বাঁশের সাঁকো পাল্টায় না। মৃত্যুর আগে এখানে অন্তত একটি পাকা সেতু দেখে যেতে চাই।’
রাজানগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মজিবর রহমান বলেন, ‘সৈয়দপুর বাজারের পশ্চিম পাশে ইছামতী শাখা নদীর ওপর সেতু নির্মাণ এই এলাকার মানুষের প্রাণের দাবি। বাঁশের সাঁকো দিয়ে অনেক কষ্টে মানুষকে যাতায়াত করতে হয়। স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রী ও এলাকাবাসীর জন্য কীভাবে এই সেতুটি নির্মাণ করা যায় আমি সেই চেষ্টা করছি।’
উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী রেজাউল ইসলাম বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে সেতুটি নির্মাণ করার জন্য অনুমোদন বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছি। এখানে ১০০ মিটার দৈর্ঘ্যরে সেতু করতে হবে। এত বড় সেতু অনুমোদন পেতে দেরি হয়। আমরা অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছি।’
