হাসানাত পরিবারের নাম অর্ধশত সরকারি স্থাপনায়

আপডেট : ১২ এপ্রিল ২০২৫, ০৭:৩৫ এএম

ব্রিজ থেকে ধর্মীয় উপাসনালয় কোনো কিছুই বাদ পড়েনি। রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে বা সহায়তায় গড়ে ওঠা অসংখ্য সরকারি প্রতিষ্ঠানের নামকরণ করা হয়েছিল সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার আত্মীয়দের নামে। এক সময়কার ক্ষমতাসীন দলের একনায়কতন্ত্র শাসনে এটি ছিল নিয়মিত চর্চা। সেই রেওয়াজ থেকে বাদ যায়নি বরিশালও। তবে সময় পাল্টেছে। পটপরিবর্তনের পর এখন বরিশালবাসী জোরালোভাবে চাচ্ছেন এসব নাম পরিবর্তনের।

দীর্ঘদিন বরিশালে একচ্ছত্র আধিপত্য ধরে রেখেছিলেন আওয়ামী লীগের নেতা ও শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ। এক সময় তাকে দক্ষিণাঞ্চলের আওয়ামী রাজনীতির ‘অভিভাবক’ ও ‘সিংহ পুরুষ’ হিসেবেও আখ্যা দেওয়া হতো। তার সিদ্ধান্তই ছিল বরিশালের রাজনীতিতে শেষ কথা।

তবে সেই ক্ষমতার প্রভাবে শুধুমাত্র নিজেই নয়, তার বাবা শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত, বোন আরজু মনি, ছেলে শহীদ সুকান্ত বাবু, স্ত্রী সাহান আরা বেগমসহ পরিবারের বহু সদস্যের নামে বরিশালে গড়ে উঠেছে স্কুল, কলেজ, পার্ক, সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান। যার সংখ্যা প্রায় অর্ধশতাধিক। সবগুলোই গড়ে উঠেছে সরকারি অর্থায়নে বা সহায়তায়। এমনকি ধর্মীয় উপাসনালয়ের নামেও যুক্ত হয়েছে তাদের নাম। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকারের পতনের পর থেকেই এসব প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তনের দাবি তোলা শুরু হয় বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায়। যদিও এরই মধ্যে দু-একটি প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন হলেও অধিকাংশ এখনো পুরনো নামেই রয়ে গেছে। ফলে দ্রুত নাম পরিবর্তনের দাবি তুলেছেন সাধারণ মানুষ।

নগরবাসীর একজন (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন, ‘জনগণের টাকায় বানানো স্থাপনার নাম কোনো পরিবারের নামে হতে পারে না। এই নাম পরিবর্তন হওয়া দরকার।’

আরেকজন জানান, ‘এগুলো ব্যক্তির নাম নয়, জনগণের অনুভূতির প্রতিফলন হওয়া উচিত।’

মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব জিয়া উদ্দিন সিকদার বলেন, ‘এটা ছিল একনায়কতন্ত্রের প্রতিফলন। আমরা চাই অবিলম্বে এসব নাম পরিবর্তন করে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটানো হোক।’

তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর নাম পরিবর্তনে এখনো শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নির্দেশনা আসেনি বলে জানিয়েছেন বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক অধ্যাপক ড. মো. লিয়াকত হোসেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে এখনো পর্যন্ত কোনো সরকারি নির্দেশনা আসেনি। নির্দেশনা পেলে আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা নেব।’

এ প্রসঙ্গে নাগরিক সংগঠন ‘সুজন’-এর বরিশাল শাখার সম্পাদক রফিকুল আলম বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠানে কোনো রাজনৈতিক পরিবারের নামকরণ সুশাসনের পরিপন্থী। এতে রাজনৈতিক পক্ষপাত ও ক্ষমতার অপব্যবহার প্রমাণ হয়।’

নাগরিকরা মনে করছেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে কারও ব্যক্তিপরিচয়ের ছায়া না পড়ে বরং তা জনগণের প্রয়োজন ও ইচ্ছার প্রতিফলন হোক এটাই এখন সময়ের দাবি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত