কচুরিপানার দুর্ভোগে ইছামতি পাড়ের মানুষ, অপসারণের উদ্যোগ স্বেচ্ছাসেবীদের

আপডেট : ১২ এপ্রিল ২০২৫, ০৯:০৫ পিএম

কচুরিপানায় অতিষ্ঠ ঢাকার নবাবগঞ্জ ও দোহারের ইছামতি নদীর পাড়ের মানুষের জীবন। নদীতে স্রোত নেই, ফলে কচুরিপানায় সয়লাব ইছামতি নদীর বিভিন্ন অংশ। বিশেষ করে ধাপারী বাজার থেকে বান্দুরা হয়ে শিকারীপাড়া বেড়িবাঁধ পর্যন্ত ও দোহারের কার্তিকপুর পর্যন্ত বিভিন্ন স্থান কচুরিপানা এখন স্তুপে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয়রা বাসিন্দারা জানান, কচুরিপানা দ্রুত বৃদ্ধি পায়। তার ওপর নদীতে স্রোত না থাকায় বড় হয়ে এগুলো স্তুপে পরিণত হয়েছে। অসংখ্য স্থানে কচুরিপানা পঁচে নষ্ট হয়ে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। পঁচা পানি কারণে বাড়ছে রোগবালাই। এমন পরিস্থিতিতে নদীতে যে অল্প কিছু মাছগুলো মরে ভেসে উঠছে। এতে বেকার হয়ে পড়েছে নদী সংশ্লিষ্ট জেলে পরিবার। পানি না থাকায় এবং কচুরিপানার কারণে পানি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় ইছামতি নদীর এ অংশের পানি ব্যবহার করতে পারছেন না এ অঞ্চলের মানুষ। কচুরিপানার দুর্ভোগ থেকে মুক্তি চাইলেও সরকারিভাবে এ বিষয়ে কোনো উদ্যাগ নেই।  

ইতিমধ্যে ইছামতি নদী থেকে কচুরিপানা অপসারণের উদ্যোগ নিয়েছেন ‘ইছামতি নদীর কচুরিপানা অপসারণ কমিটি।’ এদের সাথে একতা প্রকাশ করেছে ‘সেভ দ্য সোসাইটি অ্যান্ড থান্ডারস্টোর্ম অ্যাওয়ারনেস ফোরাম’ ও ‘নৌকা বাইচ ঐতিহ্য রক্ষা জাতীয় কমিটি।’ এ তিন সংগঠনের সমন্বয়ে এবার ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার শিকাড়িপাড়া ইউনিয়নের ইছামতি নদীর নারায়নপুর-দাউদপুর পয়েন্টের কচুরিপানা অপসারণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। 

শনিবার (১২ এপ্রিল) সকাল ৯টায় ইছামতি নদীর কচুরিপানা অপসারণের এ কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। কার্যক্রমের বিভিন্ন পেশাজীবির মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

কর্মসূচিতে উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন ইছামতি নদীর কচুরিপানা অপসারণ কমিটির উদ্যোক্তা মো. খালেদ বিন ওয়াহিদ কনক। তিনি বলেন, ‘এক সময় এই নদী আমাদের জন্য আর্শীবাদ ছিল। কিন্তু গত দুই যুগ ধরে নদীতে আগের মতো আর পানি নেই, স্রোত নেই। এর ফলে প্রায় বছরই নদী কচুরিপানায় আটকে থাকে। এক সময় পঁচে পানি নষ্ট হয়ে যায়। পানি থেকে দুর্গন্ধ ছড়ায়। এই অবস্থা থেকে আমরা পরিত্রাণ চাই। এখন আমরা দায়িত্ববোধ থেকে স্বেচ্ছাসেবীদের সংগঠিত করে উদ্যাগ নিয়েছি।’ 

ইছামতি নদীর কচুরিপানা অপসারণ কমিটির সমন্বয়ক মো. রাশিম মোল্লা সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে জোর দাবি জানিয়ে বলেন, মৃত প্রায় ইছামতি নদীকে বাঁচাতে দ্রুত সোনাবাজু-কাশিয়াখালী বেড়িবাঁধ ও কার্তিকপুরে নদীর মূল অংশে প্রয়োজনীয় স্লুইচগেট স্থাপন করতে হবে। একইসঙ্গে জরুরি ভিত্তিতে কচুরিপানা অপসারণের দাবি জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, আমরা তিনটি সংগঠনের উদ্যোগে আজ ইছামতি নদীর নারায়নপুর-দাউদপুর অংশের কচুরিপানা অপসারণের কার্যক্রম শুরু করেছি।

এভাবে পরিষ্কার করব নবাবগঞ্জ উপজেলার কাশিয়াখালি বেরিবাঁধ থেকে বান্দুরা পর্যন্ত এবং দোহার উপজেলার কার্তিকপুর থেকে বান্দুরা পর্যন্ত ইছামতি নদীর ১০টি পয়েন্টের কচুরিপানা। এরপর তুইতাল, বারুয়াখালী, শিকাড়িপাড়াা, জয়কৃষ্ণপুর কার্তিকপুর, কাচারিঘাট ও বান্দুরাসহ আরো কয়েকটি পয়েন্ট। রাশিম মোল্লা আরও বলেন, আমরা হয়তো পুরো ইছামতি নদী পরিষ্কার করতে পারবো না, কিন্তু একটি পথ দেখিয়ে যাচ্ছি। সম্মিলিতভাবে যদি চেষ্টা করি তাহলে কিন্তু অনায়াসেই কচুরিপানার দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবো আমরা। আর সে জন্য নদীপাড় ও সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসীকে এগিয়ে আসতে হবে।  

সিনিয়র সাংবাদিক মোহাম্মদ আলম বলেন, ইছামতি নদীকে রক্ষা করতে আমাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। আমাদেরকে নিজেদের আরো অনেক সচেতন হতে হবে নদীতে ময়লা আবর্জনা ফেলা বন্ধ করতে হবে। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সেভ দ্য সোসাইটি অ্যান্ড থান্ডারস্টোর্ম অ্যাওয়ারনেস ফোরামের খালিদ হোসেন সুমন, কচুরিপানা অপসারণ কমিটির সেচ্ছাসেবক মো. ওমর ফারুক, নৌকা বাইচ ঐতিহ্য রক্ষা জাতীয় কমিটির ক্রীড়া সম্পাদক দুলাল দেওয়ান, শিকাড়িপাড়া টিকেএম উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. আবুল কালাম আজাদ, দাউদপুর উচ্চ বিদ্যালয় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল মান্নান খান, নারায়ণপুর জামে মসজিদের খতিব হযরত মাওলানা আব্দুল মতিন, মসজিদ কমিটির কার্যনির্বাহী সদস্য জমির উদ্দিন মন্ডল, বিভিন স্কুলের শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীরা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত