দেশের কোনো মেডিকেল কলেজ বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন। গতকাল শনিবার সকালে নীলফামারী সরকারি মেডিকেল কলেজ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।
ডা. নাজমুল হোসেন বলেন, দেশের কোনো সরকারি মেডিকেল কলেজ বন্ধের এমন কোনো সিদ্ধান্ত এখন পর্যন্ত নেওয়া হয়নি। কিন্তু নীলফামারী মেডিকেল কলেজসহ ছয়টি মেডিকেল কলেজ বা এর বাইরে অন্য যেকোনো সরকারি বা বেসরকারি মেডিকেল কলেজ যেখানে মানসম্পন্ন শিক্ষা দেওয়া সম্ভব না হয়। তাহলে অবশ্যই আমাদের কিছু কঠিন সিদ্ধান্ত নিতেই হবে। এই সিদ্ধান্তগুলো কিন্তু সবার ভালোর জন্য। আমরা চাই না মেডিকেল কলেজগুলোতে এমন চিকিৎসক তৈরি হোক যেখানে তারা মানসম্পন্ন চিকিৎসা দিতে পারবে না। কারণ হচ্ছে আমরা যদি যথাযথ শিক্ষা দিতে না পারি তাহলে যথাযথ চিকিৎসক হবে না। আমাদের প্রথম চেষ্টা অবশ্যই অবশ্যই এই মেডিকেল কলেজগুলোর মান উন্নয়ন করা।
মহাপরিচালক বলেন, আমাদের দেশে ৩৭টি মেডিকেল কলেজ আছে তার মধ্যে ৬টি নবীন মেডিকেল কলেজের মধ্যে নীলফামারী মেডিকেল কলেজ একটি। যেগুলো ২০১৮ সালে দিকে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। স্বাভাবিকভাবে এই মেডিকেল কলেজগুলো এখনো পরিপূর্ণ অবকাঠামো গড়ে ওঠা সম্ভব হয়নি। ২০১৮ সালে তৎকালীন সরকার যথাযথ পরিকল্পনা ছাড়াই মেডিকেল কলেজগুলো স্থাপন করেন। পরে এই সমস্যা আরও জটিল হয়ে যায় যখন ২২-২৩ সালে এসে এক সিদ্ধান্তে মেডিকেল কলেজগুলোতে ১ হাজার ৩০টা আসন বাড়িয়ে ফেলা হয়। এটার জন্য যে প্রস্তুতি নেওয়া দরকার সেটি নেওয়া হয়নি। এর কারণে আমার মেডিকেল কলেজগুলো ভারাক্রান্ত হয়ে পড়েছে। একটা মেডিকেল কলেজ যে পরিমাণ শিক্ষার্থীর জন্য উপর্যুক্ত তার থেকে অনেক বেশি পরিমাণে শিক্ষার্থী নিয়ে চলতে হচ্ছে।
এর আগে সকালে নীলফামারী সরকারি মেডিকেল কলেজে সম্মেলন কক্ষে প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. জিম্মা হোসেনের সভাপতিত্বে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন।
