তালা ভেঙে হলে প্রবেশ করলেন কুয়েটশিক্ষার্থীরা

আপডেট : ১৬ এপ্রিল ২০২৫, ০৭:২৫ এএম

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ছয়টি আবাসিক হলের তালা ভেঙে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ভেতরে প্রবেশ করেছেন। টানা দুই রাত প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নেওয়ার পর গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে সংঘবদ্ধভাবে তালা ভেঙে হলগুলোয় প্রবেশ করেন শিক্ষার্থীরা। এদিকে, সিন্ডিকেট সভায় কুয়েটের ৩৭ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছেন শিক্ষার্থীরা। উপাচার্যের অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা এক দফা দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গতকাল দুপুর ১টার দিকে শিক্ষার্থীরা বন্ধ থাকা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ সমাবেশের মাধ্যমে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার ও আবাসিক হল খুলে দিয়ে ক্লাস শুরু করার দাবি জানাতে থাকে। তবে, শিক্ষকরা তাতে সাড়া দেননি। ফলে শিক্ষার্থীরা দুপুর ২টায় সংঘবদ্ধভাবে খাজা খানজাহান আলী হল, ড. এম এ রশিদ হল, শহীদ স্মৃতি হল, ফজলুল হক হল, অমর একুশে হল ও লালন শাহ হলের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন।

এ সময় শিক্ষার্থীরা প্রেস ব্রিফিংয়ে উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মাছুদের পদত্যাগের এক দফা দাবি জানিয়ে বলেন, ‘উপাচার্য (ভিসি) কুয়েটশিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছেন, ব্যর্থতার দায় নিতে অস্বীকার করেছেন, ইন্টারনেট, পানি বন্ধ করে দিয়ে শিক্ষার্থীদের হল থেকে বের করে দিয়েছেন। ভিসি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলার ইন্ধন দিয়েছেন, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বহিষ্কার করেছেন। তাই আমরা ছয় দফা থেকে এক দফা ঘোষণা করছি। এই ভিসিকে অপসারণ আমাদের একমাত্র দাবি। একই সঙ্গে নতুন ভিসির অধীনে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটির মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।’

শিক্ষার্থীরা বলেন, সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত হঠকারী। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আবার তার দায়িত্ব জ্ঞানহীন পরিচয় দিয়েছেন।

শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, যে ৩৭ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে, তারা কারা? সেটি প্রশাসন না জানিয়ে তাদের সঙ্গে প্রতারণা করছে। ৩৭ জনের ভেতর আহত ও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা আছেন কি না, সেটি প্রশাসনই ভালো জানে। শিক্ষার্থীরা সিন্ডিকেটের এমন সিদ্ধান্তকে হঠকারী আখ্যা দিয়ে উপাচার্যের সমালোচনা করেন।

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, ১৮ ফেব্রুয়ারি ক্যাম্পাস ও বাইরে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছাত্রদল এবং বহিরাগতদের সংঘর্ষের ঘটনায় গঠিত বিশ^বিদ্যালয় তদন্ত কমিটির কেউই তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। এমনকি আহত ছাত্রদের সঙ্গেও কথা বলতে চাননি । তাই তদন্ত কমিটির সিদ্ধান্ত একপেশীয়।

এর আগে গত সোমবার কুয়েটের সিন্ডিকেটের সভায় গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ক্যাম্পাস ও বাইরে ছাত্রদল এবং বহিরাগতদের সংঘর্ষের ঘটনায় ৩৭ শিক্ষার্থীর সম্পৃক্ততা পাওয়ায় তাদের বহিষ্কার করা হয়। এ ছাড়া আগামী ২ মে ক্যাম্পাস খুলে দেওয়া এবং ৪ মে ক্লাস শুরু নির্দেশনা দেওয়া হয়। গত সোমবার রাতে সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত ক্যাম্পাসে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজনা দেখা দেয়।

টেলিফোনে উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মাছুদ জানান, সিন্ডিকেটের সভায় আবাসিক হল বন্ধের সিদ্ধান্ত আসে। এটি তার একক সিদ্ধান্ত নয়। এখন আবাসিক হলের তালা ভাঙা মানে শিক্ষার্থী কুয়েটের আইন ভঙ্গ করল।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত