হিলি স্থলবন্দর

আমদানি বন্ধের শেষ দিনে এলো ৭৯ ট্রাক চাল

আপডেট : ১৬ এপ্রিল ২০২৫, ০৭:২০ পিএম

কম শুল্কে চাল আমদানির অনুমতির মেয়াদ না বাড়ানোয় দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে চাল আমদানি বন্ধ হয়ে গেছে। এদিকে চাল আমদানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অব্যাহত রয়েছে চালের দাম বৃদ্ধি। মোটা চালের দাম ২ থেকে ৩ টাকা আর চিকন চাল ৪ থেকে ৫ টাকা করে বেড়েছে। দাম বৃদ্ধির ফলে বন্দরে চাল কিনতে আসা পাইকাররা বিপাকে পড়েছেন। তারা এজন্য ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটকে দায়ী করছেন।

বুধবার সকাল থেকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে কোন চালবাহী ট্রাক প্রবেশ করেনি। তবে মঙ্গলবার কম শুল্কে চাল আমদানির অনুমতির শেষ দিনে বন্দর দিয়ে ৭৯টি ট্রাকে ৩ হাজার ২৬৭ টন চাল আমদানি হয়েছে।

এদিকে বন্দরে আগে যে স্বর্ণা জাতের চাল ৫০ টাকা দর ছিল সেটি এখন ৫২ থেকে ৫৩ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর শম্পা কাটারি জাতের যে চাল আগে ৬৪ থেকে ৬৫ টাকা বিক্রি হয়েছিল সেটি এখন বেড়ে ৬৯ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

হিলি স্থলবন্দরে চাল কিনতে আসা নাহিদ হোসেন বলেন, ঈদের আগে চিকন জাতের চাল কিনেছি ৬৪ টাকা থেকে ৬৪ টাকা ৫০ পয়সা দরে। ঈদের পর কিনলাম ৬৫ টাকা কেজি দরে। আর এখন চাইছে ৬৯ থেকে ৭০ টাকা কেজি। কেউ কেউ আবার ৭১ থেকে ৭২ টাকা দাম চাইছে। কেজিতে ৫ থেকে ৭ টাকার মত বেশি চাইছে ব্যবসায়ীরা। আমরা এত দামের কারণে চাল কিনতে পারছি না। সাভার থেকে এসে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ৮-১০ ট্রাক চাল দেখলাম। সবাই একই রকম দাম চায়। চাল আমদানির সময়সীমা ছিল ১৫ তারিখ। এরপরে আর চাল ঢুকবে না এ কারণে সিন্ডিকেট করেই চালের দাম বাড়ানো হয়েছে বলে দাবি তার।

হিলি স্থলবন্দরের চাল আমদানিকারক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, খাদ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক কম শুল্কে চাল আমদানির সর্বশেষ সময়সীমা ছিল ১৫ এপ্রিল মঙ্গলবার পর্যন্ত। গতকাল সেই মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। নতুন করে চাল আমদানির অনুমতির মেয়াদ না বাড়ানোয় বুধবার সকাল থেকে কম শুল্কে চাল আমদানি বন্ধ হয়ে গেছে। আজ থেকে চাল আমদানি করতে আমদানিকারকদের ৬২.৫ শতাংশ শুল্ক দিতে হবে। 

তিনি বলেন, গতকাল বন্দর দিয়ে ৭৯টি ট্রাকে ৩ হাজার ২৬৭ টন চাল আমদানি হয়েছে। কাস্টম কর্তৃক আমদানিকৃত চাল পরীক্ষণ শুল্কায়ন সম্পূর্ণ করে শুল্ক পরিশোধ করে আউটপাশ করা হয়েছে। আমদানিকারকরা এখন বন্দর থেকে চালগুলো খালাস করে নিচ্ছেন। ভারত থেকে চাল আমদানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশের বিভিন্ন মোকামে চালের ব্যাপক চাহিদা বেড়েছে। কিন্তু আমদানি বন্ধ থাকায় চালের দাম ঊর্ধ্বমুখী বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।

হিলি স্থলবন্দরের এই চাল আমদানিকারক বলেন, ভারতে ডলারের দাম পড়ে যাওয়ায় সেখানে চালের দাম বেড়েছে। সেই সাথে গাড়ি ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় বাড়তি খরচ যোগ হচ্ছে। তাই দেশের বাজারে চাল সরবরাহ স্বাভাবিক ও দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে কম শুল্কে চাল আমদানির মেয়াদ আরো একমাস বাড়ানোর দাবি জানিয়েছিলাম।

হিলি স্থলবন্দর উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের উপসহকারী সংগনিরোধ কর্মকর্তা ইউসুফ আলী দেশ রূপান্তরকে বলেন, চাল আমদানির অনুমতির (আইপি) মেয়াদ গতকাল শেষ হয়ে গেছে। আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেছি। নতুন করে চাল আমদানির অনুমতি (আইপি) দেয়া হবে না বলে জানানো হয়েছে। যেহেতু কিছু দিনের মধ্যেই বোরো মৌসুমের ধান কাটা, মাড়াই শুরু হবে। কৃষকের উৎপাদিত ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে মনে হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত