পলিটেকনিক শিক্ষার্থীরা অসন্তুষ্ট বৈঠককে বলছে প্রতারণা

আপডেট : ১৮ এপ্রিল ২০২৫, ০৬:৪২ এএম

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব রেহানা ইয়াসমিনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। তবে বৈঠক শেষে শিক্ষার্থীরা বলেছেন, ‘আলোচনায় তারা সন্তুষ্ট নন। প্রতারণা করা হয়েছে তাদের সঙ্গে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবেন বলে জানিয়েছেন তারা। গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দুপুর ১২টার কিছু আগে শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধিদল সচিবালয়ে ঢোকে। বেলা সাড়ে ৩টার কিছু আগে তারা এ কথাগুলো জানান।

এর আগে ছয় দফা দাবিতে গতকাল সারা দেশে ‘রেল ব্লকেড’ বা রেলপথ অবরোধের কর্মসূচি শিথিল করার কথা জানিয়েছিল কারিগরি ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ। বৈঠকের ওপর ভিত্তি করে সারা দেশের সব পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের জন্য পরবর্তী কর্মসূচি প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছিল তারা। তবে বৈঠকের পর আবার নতুন কর্মসূচির কথা জানাল শিক্ষার্থীরা।

যদিও ছয় দফা দাবিতে বুধবার ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা সড়ক, মহাসড়ক ও রেলপথ অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। সড়ক আটকে রাখায় তীব্র যানজটে দিনভর ভোগান্তি ছিল মানুষের।

শিক্ষার্থীরা জানান, আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। শিক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে আমাদের বৈঠক করার জন্য ডেকে আনা হয়েছিল। কিন্তু একজন অতিরিক্ত সচিব বৈঠক করেছেন। আমাদের দাবি-দাওয়া লিখে নিয়ে তিনি সচিবের কাছে উপস্থাপন করবেন, তারপর উপদেষ্টার কাছে দেবেন। আমাদের সঙ্গে এমন প্রতারণা করা হয়েছে। তারা আরও জানান, ‘মন্ত্রণালয়ের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ দেখতে পাইনি। এই বৈঠকে আমরা সন্তুষ্ট নই। ফলে আমরা কঠোর কর্মসূচির দিকে যাব। দাবি আদায়ের জন্য আমাদের আন্দোলন চলমান থাকবে।’

এদিকে ছয় দফা দাবিতে সারা দেশে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান খানকে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে এবং ইনস্টিটিউটের উপাধ্যক্ষ সাহেলা পারভীনকে অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। গত বুধবার রাতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বিভাগ থেকে এক প্রজ্ঞাপনে এ আদেশ প্রদান করা হয়েছে। জনস্বার্থে জারিকৃত এ আদেশ তাৎক্ষণিক কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে সই করেছেন উপসচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান তালুকদার।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের সচিব ড. খ ম কবিরুল ইসলাম বলেন, ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের বিষয়ে আমরা অবগত রয়েছি। ছাত্রদের যৌক্তিক ও ন্যায়সঙ্গত দাবিগুলো পূরণের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে দায়িত্বে রদবদল আনা হয়েছে। অচিরেই তাদের অন্য দাবির বিষয়গুলোও দৃশ্যমান হবে। ছাত্রদের দাবির বিষয়গুলো সরকার সব সময়ই ন্যায্যতা ও যৌক্তিকতার আলোকে বিবেচনা করে। আমরা আশা করি ছাত্ররা কর্মসূচি স্থগিত করে ক্লাসে ফিরবে।

উল্লেখ্য, পলিটেকনিক শিক্ষার্থীদের ছয় দফা দাবির মধ্যে প্রথমটি হলো জুনিয়র ইনস্ট্রাক্টর পদে ক্র্যাফট ইনস্ট্রাক্টরদের ৩০ শতাংশ প্রমোশন কোটা বাতিল করতে হবে। জুনিয়র ইনস্ট্রাক্টর পদে ক্র্যাফট ইনস্ট্রাক্টরদের অবৈধ পদোন্নতির রায় হাইকোর্টকে বাতিল করতে হবে। ক্র্যাফট ইনস্ট্রাক্টরদের পদবি পরিবর্তন, মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের চাকরিচ্যুত করতে হবে। ২০২১ সালে রাতের আঁধারে নিয়োগপ্রাপ্ত ক্র্যাফট ইনস্ট্রাক্টরদের নিয়োগ সম্পূর্ণভাবে বাতিল এবং সেই বিতর্কিত নিয়োগবিধি অবিলম্বে সংশোধন করতে হবে।

দ্বিতীয় দাবি, ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সে যেকোনো বয়সে ভর্তির সুযোগ বাতিল করতে হবে। উন্নত বিশ্বের আদলে চার বছর মেয়াদি মানসম্পন্ন কারিকুলাম চালু করতে হবে এবং একাডেমিক কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে ইংরেজি মাধ্যমে করতে হবে। তৃতীয়ত, উপসহকারী প্রকৌশলী ও সমমান (দশম গ্রেড) থেকে পাস করা শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষিত থাকা সত্ত্বেও যেসব সরকারি, রাষ্ট্রীয়, স্বায়ত্তশাসিত ও স্বশাসিত প্রতিষ্ঠানে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের নিম্ন পদে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

চতুর্থ দাবি, কারিগরি সেক্টর পরিচালনায় পরিচালক, সহকারী পরিচালক, বোর্ড চেয়ারম্যান, উপসচিব, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, অধ্যক্ষসহ সংশ্লিষ্ট সব পদে কারিগরি শিক্ষা বহির্ভূত জনবল নিয়োগ নিষিদ্ধ করতে হবে এবং তা আইনানুগভাবে নিশ্চিত করতে হবে। এই পদগুলোয় অনতিবিলম্বে কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত জনবল নিয়োগ ও সব শূন্য পদে দক্ষ শিক্ষক ও ল্যাব সহকারী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে হবে। পঞ্চম দাবি, স্বতন্ত্র ‘কারিগরি ও উচ্চশিক্ষা’ মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা ও ‘কারিগরি শিক্ষা সংস্কার কমিশন’ গঠন করতে হবে।

আর ষষ্ঠ দাবি হলো পলিটেকনিক ও মনোটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে পাস করা শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগের লক্ষ্যে একটি উন্নত মানের টেকনিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করতে হবে। পাশাপাশি নির্মাণাধীন চারটি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে (নড়াইল, নাটোর, খাগড়াছড়ি ও ঠাকুরগাঁও) পলিটেকনিক ও মনোটেকনিক থেকে পাস করা শিক্ষার্থীদের জন্য অস্থায়ী ক্যাম্পাস এবং ডুয়েটের আওতাভুক্ত একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে আগামী সেশন থেকে শতভাগ আসনে ভর্তির সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত