ফিক্সিংয়ের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি ফারুকের

আপডেট : ২০ এপ্রিল ২০২৫, ০৬:৫৪ এএম

ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে সন্দেহজনক আউট নিয়ে গত কয়েকদিন তোলপাড় হয়েছে দেশের ক্রিকেটে। হাস্যকরভাবে অভিযুক্ত ক্রিকেটারদের নিয়ে আউট হওয়ার দৃশ্য পুনঃমঞ্চায়নও করেছে বিসিবি। এর মধ্যে গত মঙ্গলবার বিসিবিতে আকস্মিক অনুসন্ধানে আসে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তিন সদস্যের একটি দল। এসব নাটকীয়তার মধ্যে আইসিসি সভায় যোগ দিতে দেশের বাইরে ছিলেন বিসিবি প্রধান ফারুক আহমেদ। গতকাল তিনি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ফিক্সিংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। সেই সঙ্গে বিসিবি দুদককে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে বলেও জানান।

গত ৯ এপ্রিল শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাব ও গুলশান ক্রিকেট ক্লাবের ম্যাচের দুটি আউটকে কেন্দ্র করে প্রিমিয়ার লিগে ফিক্সিং সন্দেহ দানা বাঁধে। টিভি রিপ্লেতে দেখা যায় স্বেচ্ছায় স্টাম্পিংয়ের শিকার হয়েছেন শাইনপুকুরের ব্যাটার রহিম আহমেদ এবং মিনহাজুল। যথেষ্ট সময় থাকার পরও এই দুজন ক্রিজে ব্যাট ছোঁয়ানোর কোনো চেষ্টাই করেননি! প্রকাশ্যে ব্যাটসম্যানদের এমন আচরণে হতবাক হন সবাই। সেই ভিডিও ফারুক আহমেদেরও নজরে এসেছে। শনিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ফারুক আহমেদ বলেন, ‘এই পাতানো খেলাটা দ্বিতীয় বা তৃতীয় ডিভিশনের ক্রিকেটে বড় হারে কমেছে। এটা কিন্তু একেবারে বন্ধ হয়ে যায়নি। পাতানো খেলা হলে ওই খেলা দিয়ে আপনি কোনোদিন ভালো ক্রিকেটার পাবেন না। আপনার সেরা ব্যাটারকে আপনি বলবেন ডাক মেরে আউট হতে। আপনার সেরা বোলারকে আপনি বলবেন ওয়াইড, নো দিতে উইকেট না নিতে। আসলে এটা কোনো খেলা না।’ ওই ম্যাচ ঘিরে বিসিবির দুর্নীতি দমন ইউনিট তদন্ত করছে। ফিক্সিংয়ের অভিযোগ প্রমাণিত হলে জড়িতদের শাস্তি দিয়ে উদাহরণ সৃষ্টি করতে চান বিসিবি সভাপতি, ‘আমরা চেষ্টা করব... উদাহরণ তৈরি করা (শাস্তির) খুব জরুরি। এটা নিয়ে আমাদের একটা টেকনিক্যাল কমিটি আছে। আমি এসেছি ২-৩ দিন হয়েছে। এরমধ্যে আমরা চেষ্টা করব এটা নিয়ে একটা তদন্ত করতে। যদি তদন্তে কিছু পাওয়া যায় অবশ্যই শাস্তির ব্যবস্থা করব আমরা।’

দুদক কর্মকর্তাদের অনুসন্ধানের বিষয়ে ফারুক আহমেদ বলেন, ‘যেদিন দুদক বিসিবিতে অভিযান চালিয়েছে, সেদিন রাতেই আমি দেশে ফিরেছি। আমার মনে হয়েছে, তারা কারও নির্দিষ্ট কোনো অভিযোগের ভিত্তিতে এসেছে। বোর্ড হিসেবে আমরা সর্বাত্মকভাবে তাদের সহযোগিতা করব বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি সিইওকে বলে দিয়েছি, তারা যেসব নথিপত্র চেয়েছে, সেগুলো দিয়ে সহযোগিতা করতে। সিইও ইতিমধ্যে সে বিষয়ে কাজ শুরু করেছে।’ এ অনুসন্ধান নিয়ে অবশ্য নির্দিষ্ট করে কিছু বলতে পারেননি বিসিবি সভাপতি, ‘তদন্ত কর্মকর্তারা যেকোনো তথ্য বা কাগজপত্র চাইলেই তা যেন দেওয়া হয়, আমি সেই নির্দেশনা দিয়ে রেখেছি। তাদের অনুসন্ধান কতদূর এগিয়েছে বা কতদিন চলবে, তা নির্দিষ্ট করে এখনই বলা যাচ্ছে না। কোথা থেকে কী বেরিয়ে আসবে, তাও বলতে পারছি না। তবে তদন্ত চলুক।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত