বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন

মামলায় গ্রেপ্তারে পূর্বানুমতির সিদ্ধান্ত  ৩ মাস স্থগিত

আপডেট : ২৪ এপ্রিল ২০২৫, ০৩:৫৭ এএম

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ঘটনার মামলায় আসামি গ্রেপ্তারে ঊর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষের অনুমতি সংক্রান্তে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সিদ্ধান্তের ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছে উচ্চ আদালত। এ সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা এক রিট আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে গতকাল বুধবার বিচারপতি ফাতেমা নজীব ও বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ ডিএমপির ওই অফিস আদেশটির ওপর তিন মাসের স্থগিতাদেশসহ রুল দেয়। রুলে ৯ এপ্রিলের এ সিদ্ধান্ত (অফিস আদেশ) কেন আইনগত কর্র্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট। স্বরাষ্ট্রসচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, ডিএমপি কমিশনার, ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) প্রধানসহ সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের (রিট মামলার বিবাদী) রুলের জবাব দিতে বলেছে হাইকোর্ট।

গত ৯ এপ্রিল ঢাকা মহানগর পুলিশ সদর দপ্তর থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঘটনায় করা মামলায় আসামি গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে জারিকৃত অফিস আদেশে বলা হয়, ‘বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন-সংক্রান্ত মামলায় অধিকাংশ ক্ষেত্রে এজাহারভুক্ত আসামির সংখ্যা অধিক। এসব মামলার এজাহারভুক্ত কিংবা তদন্তে প্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে উপযুক্ত প্রমাণসহ অবশ্যই ঊর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে গ্রেপ্তার করতে হবে। উপযুক্ত প্রমাণ ও ঊর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ঘটনার মামলার এজাহারভুক্ত কিংবা তদন্তে প্রাপ্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তর করার জন্য নির্দেশক্রমে আনুরোধ করা হলো।

পুলিশ কর্তৃপক্ষের এ সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. জসিম উদ্দিন গত ২০ এপ্রিল হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট আবেদনটি করেন। ২১ এপ্রিল রিট আবেদনটি শুনানির জন্য উপস্থাপন করা হলে ২৩ এপ্রিল (গতকাল) ধার্য করে হাইকোর্টের এই বেঞ্চ। এর ধারাবাহিকতায় এ আদেশ আসে।

আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। সঙ্গে ছিলেন রিট আবেদনকারী অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আখতার হোসেন মো. আবদুল ওয়াহাব।

ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল সাংবাদিকদের বলেন, ‘এই অফিস আদেশটি পুলিশের স্বাধীন কাজ করার ক্ষেত্রে একটা প্রতিবন্ধকতা হিসেবে কাজ করবে এবং প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির কারণে সমাজে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। এমনকি এ রকম একটি আদেশ প্রতিপালন করতে গেলে অনেক ক্ষেত্রে পুলিশের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ আসতে পারে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ফৌজদারি অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা আইনের আওতায় আসবেন এটা হচ্ছে শাশ্বত নিয়ম। পুলিশের এ ধরনের সিদ্ধান্ত ফৌজদারি আইনের বাইরে গিয়ে এক ধরনের বিশেষ সুবিধা প্রদান করার মতো। তাদের দায়িত্ব থেকে নিষ্ক্রিয় ও বিরত রাখার শামিল। এটা সম্পূর্ণভাবে আমাদের সংবিধান, ফৌজদারি আইন ও পুলিশ প্রবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। আদালত আমদের বক্তব্য শুনে ওই অফিস আদেশের ওপর স্থগিতাদেশ ও রুল দিয়েছেন।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত