আগামী শনিবার (২৬ এপ্রিল) বৃহত্তর চট্টগ্রাম কাঁচা চামড়া আড়তদার ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির ব্যবস্থাপনা কমিটির নির্বাচন। কিন্তু এই নির্বাচনকে সামনে রেখে সংগঠনে ঘাপটি মেরে থাকা আওয়ামী লীগের কিছু নেতা প্রতিনিয়ত সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে অস্ত্রের মহড়া দিয়ে ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
দীর্ঘসময় ধরে সংগঠনকে কুক্ষিগত করে রাখা আওয়ামী লীগের এসব নেতারা যেকোনো মূল্যে সংগঠনে পুনরায় কর্তৃত্ব-নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় মরিয়া হয়ে উঠেছে গোয়েন্দা সংস্থার পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে।
নির্বাচনকে ঘিরে ভীতিকর পরিস্থিতির বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সংগঠনের সদস্য মো. মোরশেদুল আলম নগর পুলিশ কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগের "দোসর" হিসেবে পরিচিত প্রার্থীদের বিপরীতে এবার নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন স্বচ্ছ ভাবমূর্তির কয়েকজন ব্যবসায়ী। এর মধ্যে সভাপতি পদে চেয়ার প্রতীকে আলহাজ্ব বশির আহমেদ কোম্পানি আর সাধারণ সম্পাদক সাইকেল প্রতীকে মোহাম্মদ ইউনুছ ইনু।
মোরশেদুল আলমের অভিযোগ, ছাতা প্রতীকের সভাপতি প্রার্থী আব্দুল কাদের সর্দার বহিরাগত সন্ত্রাসীদের জড়ো করে প্রতিনিয়ত তাকে হুমকি-ধামকি দিচ্ছেন। অস্ত্রের মহড়া দিচ্ছেন। তার (আব্দুল কাদের) সমর্থকরা প্রকাশ্যে বলছেন, সন্ত্রাসীদের দিয়ে ভোটকেন্দ্র দখল করবেন। গেল রোববার ১৮/২০টি মোটরসাইকেল নিয়ে শোডাউন দিয়েছেন।
অভিযোগ, আবদুল কাদের সর্দার পাঁচলাইশ ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতা। শহীদনগর ও অক্সিজেন এলাকায় তার একটা সন্ত্রাসী বাহিনী আছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে চট্টগ্রামের মুরাদপুর এলাকায় তার অনুগত সন্ত্রাসীরা শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি চালিয়েছিল। তার বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে। এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে আজ বিকালে একাধিকবার কল করা হলেও সাড়া দেননি কাদের সর্দার।
সরকারি একটি সংস্থার অভিযোগ, গত দেড় দশক ধরে কাদের সর্দারসহ আওয়ামী লীগের লোকজন চট্টগ্রামে কাঁচা চামড়ার ব্যবসায় একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সিন্ডিকেটবাজি করে তারা এ খাত থেকে শতশত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। ঈদুল আযহার সময় সংগ্রহ করা কাঁচা চামড়ার বেচাকেনা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে লুটপাট করছেন। অস্বচ্ছল, মৌসুমি সংগ্রহকারীদের ঠকিয়ে এই সিন্ডিকেট নিজেদের পকেট ভারি করেছে।
ঈদুল আযহার আগে নির্বাচনের তারিখ ঘোষিত হওয়ায় তারা লুটপাটের সাম্রাজ্য হারানোর আশঙ্কায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে কাদের সর্দার বলেন সমিতির এক সদস্য। এ অবস্থায় নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কি না তা নিয়ে আশঙ্কা করেছেন সমিতির একাধিক সদস্য।
এই বিষয়ে বায়েজিদ বোস্তামি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, আব্দুল কাদের নামে এক ব্যক্তি যিনি সাবেক স্বৈরশাসক আওয়ামী লীগের দোসর ছিলেন। তিনি এই নির্বাচনকে বানচাল, সন্ত্রাসীদের নিয়ে ভীতিকর পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছে বলে আমাদের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। তবে এ নির্বাচন ঘিরে কোন সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। সন্ত্রাসী যে দলেরই হোক ছাড় দেওয়া হবে না। নির্বাচন নির্বিঘ্ন করতে যা যা করণীয় তাই করা হবে।
