দক্ষ গ্র্যাজুয়েট ফার্মাসিস্ট তৈরিসহ ১২ দাবি ফার্মাসিস্টস ফোরামের

আপডেট : ২৭ এপ্রিল ২০২৫, ০৯:৫০ পিএম

দেশের ফার্মেসি পেশা ও শিক্ষার মানোন্নয়ে সরকারের ফার্মেসি কাউন্সিলের কাছে ১২ দফা দাবি পেশ করেছে বাংলাদেশ ফার্মাসিস্টস ফোরাম (বিপিএফ)। ফোরাম নেতারা বলেছেন, ৭০০ সরকারি ফার্মেসি চালুর ব্যাপারে গ্র্যাজুয়েট ফার্মাসিস্টরা পূর্ণ  সহযোগিতা করতে প্রস্তুত আছে। কারণ দেশে বর্তমানে ২২ হাজার রেজিস্টার্ড গ্রাজুয়েট ফার্মাসিস্ট রয়েছেন। ৪৬টি বিশ্ববিদ্যালয় আরও প্রায় ৮ হাজার শিক্ষার্থী ফার্মেসি বিভাগে অধ্যয়নরত আছেন। সরকারের যেকোনো উদ্যোগ বাস্তবায়নে পর্যাপ্ত দক্ষ জনবল রয়েছে।  

রবিবার (২৭ এপ্রিল) ফার্মেসি কাউন্সিলের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে ফার্মাসিস্টস ফোরাম নেতারা এসব কথা বলেন। সেখানে ফোরামের পক্ষ থেকে ১২ দফা দাবি পেশ করা হয়।

ফার্মেসি কাউন্সিল অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন ফার্মেসি কাউন্সিলের সচিব মোহাম্মদ  মাহবুবুল হক। ফার্মাসিস্টস ফোরামের সভাপতি মো. আজিবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান তানভীর, শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক মো. সাদ্দাম হোসেন, শিক্ষা ও গবেষণা বিষয়ক সহসম্পাদক নুরুল ইসলাম নাহিদসহ ফোরামের অন্যান্য নেতারা আলোচনায় অংশ নেন।

সভায় ফোরাম সভাপতি মো. আজিবুর রহমান বলেন, ৭০০ সরকারি ফার্মেসি চালুসহ সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগের যেকোনো উদ্যোগ বাস্তবায়ন করার জন্য পর্যাপ্ত দক্ষ ফার্মাসিস্ট রয়েছে। তাই হসপিটাল ফার্মেসি, কমিউনিটি ফার্মেসী ও ক্লিনিক্যাল ফার্মেসি বাস্তবায়নে এবং সকল বিশ্ববিদ্যালয় অতি দ্রুত ফার্ম ডি চালু করে কোর্স কারিকুলামে পরিবর্তন আনা অত্যন্ত জরুরি।

বিপিএফ সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মেহেদী হাসান তানভীর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমানের ‘গ্র্যাজুয়েট ফার্মাসিস্টদের তত্বাবধানেই শুধুমাত্র ওষুধের দোকান রূপান্তরিত হতে পারে’ এমন ভাবনাকে স্বাগত জানান। তিনি এসব ফার্মেসি সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য বি.ফার্ম (ফার্মেসী বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি কোর্স) সিলেবাসে ক্লিনিক্যাল ফার্মেসির ওষুধ ডিস্ট্রিবিউশন, রেশনাল ইউজ অব ড্রাগ, থেরাপিউটিক ফার্মেসি-সহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্তকরণ এবং ৪ বছরের পরিবর্তে ১ বছর বাড়িয়ে ৫ বছরে উন্নীত করার প্রস্তাব দেন।  পাশাপাশি হাসপাতালে ৬ মাসের ইন্টার্নশিপ চালুরও পরামর্শ দেন। 

ফার্মাসিস্টদের ১২ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- 

১. হসপিটাল ফার্মেসি, ক্লিনিক্যাল ফার্মেসি ও কমিউনিটি ফার্মেসির বাস্তবায়ন সফল করতে ফার্মেসী কাউন্সিলকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সাথে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় বুদ্ধিবৃত্তিক ও টেকনিক্যাল সহযোগিতা প্রদান করতে হবে। এতে সার্ভিস বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী ও কার্যকর হবে। 

২. গ্র্যাজুয়েট ফার্মাসিস্টদের তত্ত্বাবধানে সারাদেশে ফার্মেসী নেটওয়ার্ক গঠনের উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ফার্মেসী কাউন্সিলকে দক্ষ গ্র্যাজুয়েট ফার্মাসিস্ট তৈরি করার জন্য দ্রুত ফার্ম ডি (ডক্টর অব ফার্মেসি) প্রোগ্রাম বাস্তবায়ন এবং পর্যাপ্ত ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। 

৩. পর্যায়ক্রমে দেশের সকল সরকারী ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসী প্রোগ্রামকে বি ফার্ম থেকে ফার্ম ডি -তে রূপান্তর করতে হবে। হসপিটাল ও ক্লিনিক্যাল ফার্মেসীর বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ফার্মেসী কাউন্সিলের পুরাতন কারিকুলাম বাতিল ঘোষণা করে সকল বি ফার্ম ও ফার্ম ডি প্রোগ্রামে অবশ্যই ফার্মাকোথেরাপি, ফার্মেসিউটিক্যাল কেয়ার, পেশেন্ট সেইফটি, ফরেনসিক মেডিসিন, এমবুলেটরী কেয়ার, ইন্টার্নাল মেডিসিন, ফার্মাকোজেনোমিকস, ফার্মাকোএপিডেমিওলজি ও নিউক্লিয়ার কোর্স বাধ্যতামূলক অন্তর্ভুক্ত করা হোক। 

৪. হাসপিটাল ফার্মেসি বাস্তবায়ন পরবর্তী ফার্মাসিস্টদের জন্য সুস্পষ্ট ক্যারিয়ার পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেজন্য ফার্মাসিস্ট,  ফার্মাসিস্ট (ক্লিনিক্যাল),  সিনিয়র ফার্মাসিস্ট,  চীফ ফার্মাসিস্ট ও ফার্মেসী ডিরেক্টর পদ বাস্তবায়নের সুযোগ রাখা হোক। 

৫. ফার্মাসিউটিক্যাল সার্ভিসের সুষ্ঠু তদারকির জন্য একজন উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন পরিচালক নিযুক্ত করে পৃথক ফার্মেসি পরিদপ্তর স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হোক। 

৬. ফার্মেসিতে ডিপ্লোমাধারীদের জন্য সরকারি ও বেসরকারি নিয়োগের সকল সার্কুলারে ‘ডিপ্লোমা ফার্মাসিস্ট’ শব্দটি নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে। সেজন্য অবশ্যই কাউন্সিলকে তদারকি করতে হবে। 

৭. বর্তমানে অনেকস্থানে ফার্মেসি কাউন্সিলের রেজিস্ট্রেশনবিহীন ব্যক্তি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও কমিউনিটি পর্যায়ে অবৈধভাবে ফার্মেসী প্র্যাকটিস করে আসছে, যা অনতিবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি ফার্মাসিস্ট, ডিপ্লোমা ফার্মাসিস্ট ও ফার্মেসী টেকনিশিয়ানের দায়িত্ব ও কাজের পরিধি নির্ধারণে হসপিটাল ফার্মেসী কমিটি ও ফার্মেসী কাউন্সিলের যৌথ উদ্যোগে দ্রুত ফার্মেসী প্র্যাকটিস অ্যাক্ট/রেগুলেশনস কার্যকর করতে হবে। 

৮. সরকারি হাসপাতালে ফার্মাসিস্টদের ইন্টার্নশিপের ব্যবস্থা করতে হবে এবং সে জন্য সুপরিকল্পিত গাইডলাইন তৈরি করতে হবে। সরকারি হাসপাতালে ইন্টার্নশিপ প্রক্রিয়া সহজ করার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাথে একটি সমঝোতা চুক্তি করতে হবে। উচ্চতর প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে ক্রমান্বয়ে ফার্মেসি রেসিডেন্সি প্রোগ্রাম চালুর দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ফার্মেসি কাউন্সিলকে গ্রহণ করতে হবে। 

৯. বি ফার্ম ডিগ্রিধারীদের জন্য বি ফার্ম শেষ করার পরে ২ বছর মেয়াদী ফার্ম ডি করার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। এ লক্ষে ফার্মেসি কাউন্সিলকে দ্রুত উপযুক্ত কোর্স কারিকুলাম প্রণয়নের উদ্যোগ নিতে হবে। 

১০. ঔষধ ও কসমেটিকস আইন, ২০২৩-এর আলোকে ৩ মাস মেয়াদি ফার্মেসি রেজিস্ট্রেশন কোর্সধারীদের ‘ফার্মেসি টেকনিশিয়ান’ হিসেবে পুনঃপরিচিত করতে হবে। এ লক্ষ্যে ফার্মেসি কাউন্সিলের ওয়েবসাইট থেকে এ, বি, সি গ্রেড বিভাজন বিলুপ্ত করতে হবে। একই সাথে ফার্মেসি টেকনিশিয়ান কোর্সের মেয়াদ বৃদ্ধি করে ন্যূনতম ৬ মাস থেকে ১ বছর মেয়াদি করা জরুরি, যাতে প্রশিক্ষণের মান ও দক্ষতা আরও উন্নত হয়। 

১১. ফার্মেসি কাউন্সিলের নিকট বর্তমানে যে ফার্মেসী আইনের খসড়া রয়েছে, সেটিকে সময়োপযোগীভাবে সংশোধন ও সম্পাদনা করে দ্রুত আইনে রূপান্তরের উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি। 

১২. ফার্মেসি কাউন্সিলের অধীনে গ্র্যাজুয়েট ফার্মাসিস্টদের জন্য প্রায়োরিটি সার্ভিস চালু করতে হবে, যাতে দ্রুত নিবন্ধন, সার্টিফিকেট এবং অন্যান্য পরিষেবা নিশ্চিত হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত