‘সন্তুষ্ট’ ট্রাম্প তবে চান ‘স্থায়ী চুক্তি’

আপডেট : ০১ মে ২০২৫, ০২:৫৮ এএম

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক আগ্রাসনের মাধ্যমে ইউক্রেন যুদ্ধের শুরু হয়। সে থেকে দুই দেশের মধ্যে সংঘাত অব্যাহত আছে। উভয় দেশ দীর্ঘ এই যুদ্ধে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গত তিন বছরের বেশি সময় ধরে চলমান এই যুদ্ধ থামাতে তৎপর হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশটির প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রত্যাবর্তনের পর এই যুদ্ধ অবসানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। যার পরিপ্রেক্ষিতে মস্কো-কিয়েভ উভয়ের সঙ্গে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে আসছে ট্রাম্প প্রশাসন। যদিও এখনো দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। কিন্তু সম্প্রতি তিন দিনের একটি যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন। আর তাতে সন্তুষ্টি জানিয়েছে ওয়াশিংটন। তবে একই সঙ্গে ট্রাম্প ইউক্রেনের স্থায়ী যুদ্ধবিরতি চান বলে জানিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। একই দাবি কিয়েভেরও।

পুতিনের যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মুখপাত্র ব্রিয়ান হিউজেস বলেন- সংঘাত থামাতে ভøাদিমির পুতিন যে সদিচ্ছা দেখিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তা স্বাগত জানিয়েছেন। তবে প্রেসিডেন্ট এ বিষয়ে পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে তিনি একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি চান এবং এই যুদ্ধের একটি শান্তিপূর্ণ সমাধান চান। পুতিনের ঘোষণা অনুযায়ী আগামী ৮ মে মধ্যরাত থেকে ১১ মে মধ্যরাত পর্যন্ত এই যুদ্ধবিরতি চলবে। প্রতি বছর ৯ মে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বিজয় দিবস হিসেবে উদ্যাপন করে রাশিয়া। একই দিনে নাৎসি জার্মানিকে পরাজিত করার ৮০তম বার্ষিকীও উদ্যাপন করবে দেশটি। মস্কো জানিয়েছে, এই সময়ের মধ্যে মানবিক বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সব ধরনের সামরিক হামলা বন্ধ রাখা হবে। একই সঙ্গে ইউক্রেনও তা মেনে চলবে বলে মনে করছে রাশিয়া।

পুতিনের এই প্রস্তাবকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সমর বিশ্লেষকরা। কেননা দীর্ঘ এই যুদ্ধকালের মধ্যে এটিই প্রথম একাধিক দিনের যুদ্ধবিরতির ঘটনা হতে যাচ্ছে। এর আগে খ্রিস্টানদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান ইস্টার সানডে উপলক্ষে ১৯ এপ্রিল ৩০ ঘণ্টার জন্য যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন রুশ প্রেসিডেন্ট। ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেও সেদিন ২ হাজার ৯০০টি হামলা চালিয়েছিল রাশিয়া। ইউক্রেনের বিরুদ্ধেও সেদিন রাশিয়ায় হামলা চালানোর অভিযোগ আনা হয়েছিল।

তবে রাশিয়ার এ ঘোষণায় সন্তুষ্ট নয় ইউক্রেন। পুতিনের ঘোষণার দিনই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই প্রস্তাবের সমালোচনা করে বলেন, তিন দিনের এই যুদ্ধবিরতি ঘোষণা একটি প্রতারণার চেষ্টা। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রেই সিবিহা বলেছেন, রাশিয়া যদি সত্যিকার অর্থেই শান্তি চায়, তাহলে তাদের এখনই যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করতে হবে। ৮ মে পর্যন্ত অপেক্ষার কারণ কী? ইউক্রেন একটি দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধবিরতি করতে প্রস্তুত। কিন্তু ক্রেমলিনের দাবি, রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন ইউক্রেনের সঙ্গে সরাসরি শান্তি আলোচনা শুরু করার একাধিক প্রস্তাব দিলেও কিয়েভ এখনো সাড়া দেয়নি। এছাড়াও পুতিন আগামী মাসে তিন দিনের যেই যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছেন, তাতে ইউক্রেন যোগ দেবে কি না সেটিও স্পষ্ট নয়। মঙ্গলবার ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, প্রেসিডেন্ট পুতিন একাধিকবার বলেছেন, রাশিয়া কোনো পূর্বশর্ত ছাড়াই আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। কিন্তু কিয়েভের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে এখনো কোনো সাড়া মেলেনি।

এদিকে, দীর্ঘদিনের গুঞ্জন শেষে সম্প্রতি ইউক্রেন যুদ্ধে সেনা পাঠানোর কথা স্বীকার করেছে উত্তর কোরিয়া। বুধবার তাদের প্রতিবেশী দক্ষিণ কোরিয়া দাবি করেছে, ইউক্রেনে যুদ্ধ করতে গিয়ে অন্তত ছয়শ উত্তর কোরিয় সেনা প্রাণ হারিয়েছে। গোয়েন্দা প্রতিবেদনের বরাতে গতকাল বুধবার দক্ষিণ কোরিয়ার একাধিক আইনপ্রণেতা এই দাবি করেছেন। দেশটি দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছে ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার পক্ষে প্রায় ১৫ হাজার সেনা মোতায়েন করেছিল উত্তর কোরিয়া। গোয়েন্দা প্রতিবেদনের বরাতে আইনপ্রণেতারা বলেছেন, শেষ ছয় মাসে উত্তর কোরীয় বাহিনীর প্রায় চার হাজার ৭০০ সেনা হতাহত হয়েছেন। এর মধ্যে ছয়শ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে এই একই সময়ের মধ্যে তাদের যুদ্ধ দক্ষতায় উল্লেখযোগ্য উন্নতিও চোখে পড়েছে। তারা আরও দাবি করেন, সেনা মোতায়েনের বিনিময়ে কারিগরি ও প্রযুক্তিগত কিছু সুবিধা নিয়েছে পিয়ংইয়ং। এরমধ্যে রয়েছে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের পাশাপাশি এবং কৃত্রিম গোয়েন্দা উপগ্রহের (স্পাই স্যাটেলাইট) জন্য কারিগরি সহায়তা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত