রেহানা-জয়-পুতুল রাদওয়ানের সম্পত্তি জব্দের নির্দেশ

আপডেট : ০১ মে ২০২৫, ০৭:৩৮ এএম

গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার পরিবারের পাঁচ সদস্যের সম্পত্তি জব্দ করেছে আদালত। গতকাল বুধবার দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপ-পরিচালক মনিরুল ইসলাম এসব বাড়ি ও জমি জব্দের আবেদন করেন। শুনানি নিয়ে  ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ জাকির হোসেন এ আদেশ দেন।

যেসব সম্পদ ও যাদের সম্পত্তি জব্দ করা হয়েছে তারা হলেন শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের নামে থাকা রাজধানীর বারিধারার ৪ কোটি ৯৮ লাখ টাকার বাড়ি, খুলনার দিঘলিয়ায় শেখ রেহানা, সায়মা ওয়াজেদ পুতুল এবং সজীব ওয়াজেদ জয়ের নামে থাকা ৬১ লাখ ৮৭ হাজার টাকার ৮৭ দশমিক ৭০ শতাংশ জমি, একই জায়গায় শেখ রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব ববি ও মেয়ে আজমিনা সিদ্দিকের ৪১ লাখ ২৪ হাজার ৫০০ টাকার ৮৭ দশমিক ৭০ শতাংশ জমি এবং গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় শেখ রেহানার নামে থাকা ২০ লাখ ৫০ হাজার টাকার ১৯ শতাংশ জমি।

আবেদনে বলা হয়, সায়মা ওয়াজেদ পুতুলসহ সবার স্থাবর সম্পদ অন্যত্র হস্তান্তর, স্থানান্তর বা বেহাত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। মামলা নিষ্পত্তির আগে সম্পদ হস্তান্তর বা স্থানান্তর হয়ে গেলে অনুসন্ধানে সমস্যা হবে। অভিযোগের সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে অনুসন্ধান শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা যাতে স্থাবর সম্পদ/সম্পত্তির মালিকানা পরিবর্তন/ স্থানান্তর বা অন্য কোনো প্রক্রিয়ায় হস্তান্তর করতে না পারেন, সেজন্য এসব সম্পদ জব্দ করা প্রয়োজন। শুনানি নিয়ে আদালত শেখ পরিবারের পাঁচ সদস্যের সম্পত্তি জব্দের এ আদেশ দেয়।

এর আগে গত মঙ্গলবার সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের নামে থাকা গুলশানের একটি ফ্ল্যাট জব্দের আদেশসহ ফ্ল্যাটটি দেখভালে রিসিভার (তত্ত্বাবধায়ক) নিয়োগের নির্দেশ দেয় একই আদালত। এছাড়া প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির মামলায় তার বিরুদ্ধে গত ২৭ এপ্রিল ইন্টারপোলের মাধ্যমে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেয় আদালত। গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা ও তার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের বিরুদ্ধে প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির মামলায় গত ১০ এপ্রিল গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দিয়েছিল আদালত। এছাড়া প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির অভিযোগে তিনটি মামলায় গত ১৩ এপ্রিল শেখ হাসিনা, তার বোন শেখ রেহানা, রেহানার মেয়ে টিউলিপ সিদ্দিক, ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববিসহ ২১ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ হয় আদালত থেকে। গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের নামে বরাদ্দ হিসেবে নেওয়া প্লটের বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে প্লট বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগে শেখ হাসিনাসহ অন্যদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে ছয়টি মামলা হয়েছে।

শেখ হাসিনাসহ ১৬২ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা : ছাত্র আন্দোলনের সময় যাত্রাবাড়ীতে আব্দুন নূর নামের এক সাংবাদিক নিহতের ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৬২ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। গতকাল ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এম মিজবাউর রহমানের আদালতে নিহতের বাবা হাফেজ মো. আবুল বাশার এ মামলাটি করেন। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে এ বিষয়ে আর কোনো মামলা হয়েছে কি না, তদন্ত করে আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশকে প্রতিবেদন দাখিল করতে নিদেশ দেয়। মামলায় অন্য যাদের আসামি করা হয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছে সাবেক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, আসাদুজ্জামান খান কামাল, আনিসুল হক, হাসান মাহমুদ, শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন, সাবেক ডিবি প্রধান হারুন-অর-রশিদ, সাবেক অতিরিক্ত যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার। বাদী আবুল বাশার বলেন, আব্দুন নূর ময়মনসিংহের গফরগাঁও এলাকায় অভিযান নিউজ নামের একটি পত্রিকার সাংবাদিক ছিলেন।

বাদী তার আভিযোগ বলেন, আন্দোলনের সময় ১ আগস্ট তিনি ঢাকায় আসেন এবং যাত্রাবাড়ীতে ৫ আগস্ট দুপুর ১২টার দিকে যাত্রাবাড়ী থানার সামনে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আব্দুন নূরও ছিলেন। আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশ গুলি চালালে আব্দুন নূরের মাথায় গুলি এসে লাগে। পরবর্তী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত