সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার চান্দাইকোনা ইউনিয়নের সোনারাম পূর্বপাড়া গ্রামের সুমনের বাড়ির একটি আবদ্ধ ঘরে অপহরণের পর ছয় মাস ধরে দুজনকে আটকে রাখা হয়। গতকাল শুক্রবার ভোরে তারা সার্জিক্যাল কেচি দিয়ে ঘরের মেঝেতে সুড়ঙ্গ খুঁড়ে বাইরে পালিয়ে এসে জীবন বাঁচান। ব্যক্তিগত ‘আয়নাঘরে’ অবরুদ্ধ থাকা দুই ব্যক্তি হলেন রায়গঞ্জ উপজেলার লক্ষ্মীবিষ্ণুপ্রসাদ গ্রামের মনসুর আলীর স্ত্রী শিল্পী খাতুন (৫৫) ও পূর্বপাইকড়া গ্রামের মৃত রুস্তম শেখের ছেলে আব্দুল জব্বার (৬০)।
এ বিষয়ে অপহৃত শিল্পী খাতুন জানান, গত ছয় মাস আগে তাদের অজ্ঞান করে অপহরণ করা হয়। এরপর বিভিন্ন স্থানে এক মাস রাখার পর তাদের এই বাড়িতে এনে গত পাঁচ মাস ধরে আটকে রেখে নির্যাতন করা হচ্ছে। নির্যাতনে জব্বারের পাছার মাংস পচে যাওয়ায় তা কেটে পরিষ্কার করার একপর্যায়ে অপহরণকারীরা ভুলে কেচিটি ফেলে রেখে চলে যায়। এরপর ওই কেচিটি লুকিয়ে রেখে গত ১০-১৫ দিন ধরে একটু একটু করে ঘরের মেঝে খুঁড়ে তারা বেরিয়ে পালাতে সক্ষম হয়। এরপর তারা নিজ নিজ বাড়ি ফিরে গ্রামবাসীকে বিষয়টি জানান। এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে এদিন সকালে বাড়িটি ঘিরে ফেলে। এরপর বাড়িটি ভাঙচুর করে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। এদিকে এই নিখোঁজের ঘটনায় অপহৃতদের পরিবার রায়গঞ্জ থানায় অভিযোগ করে। স্থানীয়দের দাবি, এ আয়নাঘর নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা রহস্যময় গুঞ্জন ছিল। ঘটনার তারা সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।
এ বিষয়ে পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, চান্দাইকোনা ইউনিয়নের সোনারাম পূর্বপাড়া গ্রামের জহুরুল ইসলামের ছেলে সুমনের বাড়ির একটি আয়নাঘরে তাদের আটকে রাখা হয়। পালিয়ে আসা ব্যক্তিদের তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব, পুলিশ ও সেনাবাহিনী যৌথভাবে এদিন ওই বাড়িতে অভিযান চালায়। এ অভিযানে অপহরণচক্রের সদস্য নাজমুল ইসলাম আরফাতকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তারা আটক করেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রায়গঞ্জ থানার ওসি আসাদুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবারের পক্ষ থেকে পূর্বে অভিযোগ করা হয়েছিল। প্রাথমিক তদন্তে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত আছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
