ভারতের মিসাইল হামলার পাল্টা জবাবে দেশটির পাঁচটি যুদ্ধবিমান গুঁড়িয়ে দেওয়ার দাবি করেছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা জানান। একইসঙ্গে কয়েকজন ভারতীয় সেনাকে যুদ্ধবন্দি হিসেবে আটকের কথাও জানান তিনি।
খাজা আসিফ বলেন, “যদি এসব শত্রুতাপূর্ণ কর্মকাণ্ড বন্ধ হয়, আমরা অবশ্যই ভারতের সঙ্গে কথা বলব। আমরা চাই না এই পরিস্থিতি আরও খারাপ হোক। কিন্তু ভারত থেকে যদি শত্রুতাপূর্ণ কিছু আসে, তাহলে আমাদের জবাব দিতে হবে।” তিনি জানান, ভারত যদি আগ্রাসী মনোভাব থেকে সরে আসে, তবে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত ইসলামাবাদ; তবে সশস্ত্র আগ্রাসনের জবাব দেওয়া হবে সমুচিতভাবে।
ঘটনার সূত্রপাত গতকাল মঙ্গলবার মধ্যরাতে। পাকিস্তানের আজাদ কাশ্মিরসহ একাধিক স্থানে মিসাইল নিক্ষেপ করে ভারত। এরই জবাবে তাৎক্ষণিকভাবে নয়াদিল্লির বিরুদ্ধে পাল্টা হামলা শুরু করে পাকিস্তান। পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর এক কর্মকর্তা রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল পিটিভিকে জানান, ভারতের সেনাবাহিনীর একটি ব্রিগেড সদরদপ্তরে হামলা চালিয়ে তা ধ্বংস করা হয়েছে। সীমান্তের দুদনিয়াল সেক্টরেও ভারতীয় সেনাদের একটি চৌকিতে মিসাইল হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম এক্সপ্রেস ট্রিবিউন।
পাকিস্তান আরও দাবি করেছে, পাল্টা হামলায় একটি ড্রোনও ভূপাতিত করা হয়েছে। প্রথমে তিনটি যুদ্ধবিমান ধ্বংসের খবর এলেও প্রতিরক্ষামন্ত্রী আসিফ এখন বলছেন, ভূপাতিত বিমানের সংখ্যা পাঁচটি।
পাকিস্তানের ডিজিএফআইয়ের মহাপরিচালক লেফটেনেন্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী জানিয়েছেন, ভারতের হামলায় পাকিস্তানে এখন পর্যন্ত অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে একজন শিশু রয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ৩৫ জন। জেনারেল শরীফ জিও টিভিকে বলেন, “আকাশ ও স্থলে পাকিস্তানের জবাব চলছে।”
পাকিস্তানের সরকারি টেলিভিশন পিটিভি জানায়, নিরাপত্তা বাহিনীর সূত্রের বরাতে ভারতের বিভিন্ন এলাকায় পাল্টা হামলা চালানো হচ্ছে।
এদিকে পাকিস্তান অভিযোগ করছে, ভারত ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক জনপদে হামলা চালিয়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বলেন, ‘বেসামরিক এলাকায় কাপুরুষের মতো হামলা চালিয়েছে ভারত। তারা তাদের নিজস্ব আকাশসীমা থেকে বাইরে আসেনি। তাদের বের হয়ে আসতে দিন, আমরা উপযুক্ত জবাব দেব।’
ভারতের পক্ষ থেকে অবশ্য সম্পূর্ণ ভিন্ন দাবি উঠে এসেছে। দেশটির সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে, ‘অপারেশন সিন্দুর’ নামের অভিযানে পাকিস্তান ও পাকিস্তান অধিকৃত জম্মু-কাশ্মিরের ৯টি স্থানে হামলা চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, এই আক্রমণ সন্ত্রাসীদের অবকাঠামো লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে, সেনা সদস্যদের ওপর নয়।
ভারতীয় বাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়, ‘কিছুক্ষণ আগে, ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী ‘অপারেশন সিন্দুর’ পরিচালনা করেছে। পাকিস্তান এবং পাকিস্তান অধিকৃত জম্মু-কাশ্মিরে সন্ত্রাসীদের যে অবকাঠামো থেকে ভারতের বিরুদ্ধে হামলার পরিকল্পনা করা হচ্ছিল, সেখানে হামলা চালানো হয়েছে। সব মিলিয়ে ৯টি জায়গায় আঘাত হানা হয়েছে।’
তারা আরও জানায়, হামলাটি ‘কেন্দ্রীভূত ও পরিমিত’ ছিল এবং উত্তেজনা যাতে আরও না বাড়ে, সে বিষয়েও নজর রাখা হয়েছে।
এই সামরিক উত্তেজনার মূলে রয়েছে ২২ এপ্রিল জম্মু-কাশ্মিরের পেহেলগামে বন্দুকধারীদের হামলা, যেখানে ২৬ জন নিহত হন। এই ঘটনার জন্য ভারত সরাসরি পাকিস্তানকে দায়ী করলে, দু’দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে এবং তা চূড়ান্ত আকার নেয় মঙ্গলবার রাতের ঘটনাপ্রবাহে।
দখলে ছোট হচ্ছে ভাওয়াল বন
দুই গ্রুপের সংঘর্ষে যুবলীগ নেতার সমর্থক নিহত
ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় মস্কোর সব বিমানবন্দর বন্ধ