ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় পথে কুড়িয়ে পাওয়া ৫২ হাজার ৫০০ টাকা, ১ টি মোবাইল ফোন মালিকের কাছে ফেরত দিয়েছে বৃদ্ধ মো. মিজানুর রহমান। মঙ্গলবার (৬ মে) দুপুরে দিকে প্রকৃত মালিককে টাকা ফেরত দেন তিনি।
মো. মিজানুর রহমান আখাউড়া পৌর শহরের কলেজ পাড়ার বাসিন্দা।
মো. মিজানুর রহমান বলেন, মঙ্গলবার সকালে বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে আখাউড়া শহীদ স্মৃতি সরকারি কলেজের সামনের সড়কে ছোট দুটি শপিং ব্যাগ কুড়িয়ে পাই।পরে ব্যাগ খুলে ভেতরে একটি মোবাইল ও একটি ওয়ালেট দেখতে পাই। ওয়ালেটের ভেতরে টাকার সাথে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) দেখতে পাই।
তিনি বলেন, ওই এনআইডির ঠিকানা অনুযায়ী উপজেলা মনিয়ন্দ ইউনিয়নের শামসু মিয়ার ছেলে মো. আলমগীর মিয়ার বাড়িতে যাই। বাড়িতে গিয়ে আলমগীরকে বাড়িতে না পেয়ে ফোনে যোগাযোগ করি। পরে মিজানুর রহমান আখাউড়া পোস্ট অফিসের সামনে আলমগীরের সাথে দেখা করে। আলমগীর দুইটি ব্যাগের রং সহ ভেতরে কী কী ছিল তা বর্ণনা করেন। এনআইডির ছবি ও সবকিছু সঠিক বর্ণনা ঠিক পাওয়ায় মিজানুর রহমান আলমগীরকে টাকা, মোবাইলসহ দুটি শপিং ব্যাগ বুঝিয়ে দেন।
কলেজ পাড়ার বাসিন্দা ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী মো. সিয়াম সরকার বলেন, আমাদের প্রতিবেশী মিজান আংকেল ব্যাগ দুটি পেয়ে আমাকে ডেকে বলার পর আমি প্রথমে ব্যাগ দুটির ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেই। পরে ব্যাগে থাকা এনআইডির ঠিকানা অনুযায়ী আমিসহ মিজান আংকেল একটা অটোরিকশা করে উপজেলার মনিয়ন্দ এলাকার আলমগীর মিয়ার বাড়িতে গিয়ে তার সাথে যোগাযোগ করে সবকিছু বুঝিয়ে দেই। মিজান আংকেল আমাদের প্রতিবেশী। তিনি অত্যন্ত ভালো মনের মানুষ।
হারানো টাকা, মোবাইল ফেরত পেয়ে উচ্ছ্বসিত মো. আলমগীর মিয়া বলেন, আমি টাকাটা হারিয়ে পাগল প্রায় ছিলাম। আখাউড়ার বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করছিলাম।এমন সময় বাড়ি থেকে ফোন আসে। পরে মিজানুর রহমানের কথা বলেন। বর্তমান সময়ে মো. মিজানুর রহমানের মতো লোকের বেশ অভাব রয়েছে। তিনি সততার এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
কারাগারের দেয়াল টপকে হাজতির পালানোর চেষ্টা