আগামী দিনগুলোতে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ইউক্রেনের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসার প্রস্তাব দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন। গতকাল রবিবার সকালে ক্রেমলিনে দেওয়া এক বক্তব্যে পুতিন এ প্রস্তাব দেন। ৫ মে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে ইউক্রেনের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসার প্রস্তাব দিয়েছেন পুতিন। তবে ইউরোপীয় নেতাদের দেওয়া ৩০ দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
এদিকে পুতিনের প্রস্তাব দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, তার দেশ আলোচনায় বসবে, তবে তার আগে রাশিয়াকে ১২ মে থেকে ৩০ দিনের নিঃশর্ত যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হতে হবে। তিনি বলেন, রাশিয়ানরা যে অবশেষে যুদ্ধ শেষ করার কথা ভাবছে, তা বেশ ইতিবাচক লক্ষণ। সমগ্র বিশ্ব অনেক দিন ধরে এর জন্য অপেক্ষা করছে। আর যেকোনো যুদ্ধ থামানোর প্রথম ও জরুরি শর্তই হলো যুদ্ধবিরতি।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, গত শনিবার কিয়েভ এবং ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য ও পোল্যান্ডের নেতারা এক বৈঠকে আগামীকাল সোমবার থেকে রাশিয়ার প্রতি ৩০ দিনের নিঃশর্ত যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান। যুক্তরাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতায় কিয়েভে এ বৈঠক হয়েছে বলে বিভিন্ন খবরে উঠে এসেছে।
পুতিন বলেন, আমরা কিয়েভ সরকারকে আহ্বান জানাচ্ছি, তারা ২০২২ সালে যে আলোচনা ভেঙে দিয়েছিল, তা যেন আবার শুরু করে। আর আমি জোর দিয়ে বলছি (এ আলোচনা হবে) কোনো শর্ত ছাড়াই।’
ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের শুরুর দিকে ইস্তাম্বুলে দেশ দুটির মধ্যে কয়েক দফা আলোচনা হয়, কিন্তু যুদ্ধ বন্ধে কেউই সম্মত হয়নি। এরপর থেকে তিন বছরের বেশি সময় ধরে এ যুদ্ধ চলছে।
রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, ১৫ মে ইস্তাম্বুলে আলোচনা শুরুর প্রস্তাব দিচ্ছি আমরা। আলোচনার আয়োজনে সহায়তা চাইতে শিগগিরই তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সঙ্গে তিনি কথা বলবেন বলেও জানান পুতিন।
পুতিন আরও বলেন, তিনি ইউক্রেনের সঙ্গে গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। চলমান সংঘাতের মূলোৎপাটন করতে ও দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় তিনি কথা বলতে চান।
মস্কো যেসব বিষয়কে ‘সংঘাতের মূল কারণ’ হিসেবে উল্লেখ করেছে, তার মধ্যে রয়েছে ইউক্রেনের পশ্চিমাঘেঁষা কৌশলগত অবস্থান, ন্যাটোতে যোগদানের চেষ্টা, পূর্ব ইউক্রেনের রুশভাষীদের নিরাপত্তার মতো বিষয়। মস্কোর এ দাবিকে পশ্চিমা দেশগুলো ও কিয়েভ বরাবরই অগ্রহণযোগ্য বলে আসছে। তাদের ভাষায়, রাশিয়ার সামরিক অভিযান মূলত তার সাম্রাজ্যবাদী মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ।
রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আলোচনা চলাকালে আমরা একটি নতুন যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছি না।’
তবে ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, তার দেশ আলোচনায় বসবে তবে তার আগে রাশিয়াকে ১২ মে থেকে ৩০ দিনের নিঃশর্ত যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হতে হবে। তিনি বলেন, একটি দিনও মানুষ হত্যা অব্যাহত রাখার কোনো কারণ থাকতে পারে না। আমরা আশা করছি, রাশিয়া আগামীকাল (১২ মে) থেকে পূর্ণাঙ্গ, টেকসই ও নির্ভরযোগ্য যুদ্ধবিরতিতে রাজি হবে আর ইউক্রেনও তাদের সঙ্গে বসতে প্রস্তুত।
এদিকে পুতিনের সরাসরি আলোচনার প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ বলেছেন, রাশিয়া-ইউক্রেন সরাসরি আলোচনা শুরু করতে হলেও আগে যুদ্ধবিরতি দরকার।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট এবং ইউরোপের আরও কয়েকটি দেশের শীর্ষনেতা গত শনিবার কিয়েভে একত্রিত হয়ে রাশিয়াকে সোমবার থেকে ৩০ দিনের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। প্রস্তাবে রাজি না হলে মস্কোকে ‘ব্যাপক’ নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হতে হবে বলে হুঁশিয়ারিও দিয়েছিলেন তারা।
