তিন বছর পর তুরস্কে কিয়েভ-মস্কো শান্তি আলোচনায় বসেছে। তবে নতুন করে শান্তি আলোচনা শুরুর আগেই রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের আলোচনায় অনুপস্থিত থাকার সিদ্ধান্তে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র বিভ্রান্তি। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে তুরস্কে মুখোমুখি আলোচনার আহ্বান পেয়েও পুতিন সেখানে না যাওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে আলোচনার গুরুত্ব ও উদ্দেশ্য নিয়ে। রুশ কর্র্তৃপক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আলোচক দল ইতিমধ্যে ইস্তাম্বুলে পৌঁছেছে এবং তারা গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করতে প্রস্তুত। তবে আলোচনার স্থান হিসেবে রাশিয়া যে দোলমাবাহচে প্রাসাদের কথা বলেছে, সেখানেই উপস্থিত সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, নির্ধারিত বৈঠকের কোনো সূচি এখনো দেওয়া হয়নি।
ইউক্রেনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পুতিন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ এবং শীর্ষ কূটনৈতিক উপদেষ্টার অনুপস্থিতি আলোচক দলকে কেবল ‘শোভাময়’ করে তুলেছে। আঙ্কারায় পৌঁছে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি সাংবাদিকদের বলেন, রুশ প্রতিনিধিদল আসলে কী পর্যায়ের, তাদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার কতটুকু ক্ষমতা আছে, সেটা বুঝেই আমরা পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব। তিনি বলেছেন, আমি এখানে এসেছি। এটিই আমার বার্তা পুতিনের জন্য।
পুতিনের পাঠানো প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে রয়েছেন প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা ভøাদিমির মেডিনস্কি, উপপ্রতিরক্ষামন্ত্রী আলেকজান্ডার ফোমিন, উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মিখাইল গালুজিন এবং সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা জিআরইউ (বর্তমানে জিইউ)-এর প্রধান ইগর কস্তুকভ। তবে ইউক্রেনীয় পক্ষের অভিযোগ, এই প্রতিনিধিদের হাতে যথেষ্ট রাজনৈতিক ম্যান্ডেট নেই। ২০২২ সালের আলোচনায় ইউক্রেনের একজন অংশগ্রহণকারী বলেছেন, তখনো মেডিনস্কির হাতে প্রকৃতপক্ষে বড় কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ছিল না। মূল ব্যক্তিরা এখনো আলোচনার টেবিলে নেই।
শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কয়েক মাস ধরেই দুপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি করে যাচ্ছেন। ফেব্রুয়ারিতে হোয়াইট হাউজে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে তিনি জেলেনস্কির ওপর চাপ প্রয়োগ করেন এবং সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে পুতিনের প্রতিও প্রকাশ্য বিরক্তি জানান। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, এ যুদ্ধের কোনো সামরিক সমাধান নেই। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যেকোনো কার্যকর পন্থার প্রতি উন্মুক্ত। রাশিয়া ইউক্রেনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এলাকা দখলে রেখেছে। পুতিনের দাবি, আলোচনার শুরুর আগে কিয়েভকে নিজেকে নিরপেক্ষ দেশ ঘোষণা করতে হবে, ন্যাটো সদস্যপদ প্রত্যাখ্যান করতে হবে এবং কিছু ভূখণ্ড ছেড়ে দিতে হবে। ইউক্রেন এসব শর্তকে আত্মসমর্পণের শামিল বলে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিশ্চয়তার জন্য পশ্চিমা শক্তিগুলোর ওপর নির্ভর করতে চাইছে।
জেলেনস্কি এই মুহূর্তে এক মাসের যুদ্ধবিরতির পক্ষে হলেও রাশিয়া বলছে, আগে আলোচনার কাঠামো নির্ধারণ করতে হবে, তারপর যুদ্ধবিরতির প্রশ্ন আসবে। ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল বারো মন্তব্য করেছেন, জেলেনস্কি তুরস্কে পৌঁছে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন। কিন্তু যেখানে পুতিনের বসার কথা, সেখানে এখন শূন্য চেয়ার। এস্তোনিয়া এ আলোচক দলকে ‘নিম্ন পর্যায়ের’ বলে অভিহিত করেছে এবং একে ইউরোপীয় কূটনৈতিক প্রচেষ্টার প্রতি ‘চপেটাঘাত’ হিসেবে দেখছে। একই সঙ্গে দেশটি অভিযোগ করেছে, একটি রুশ যুদ্ধবিমান ব্রিটিশ নিষেধাজ্ঞার আওতাধীন একটি তেলবাহী ট্যাংকার আটকাতে গিয়ে ন্যাটোর আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছে।
