৩য় দিনের কর্মসূচি 

নগর ভবনের সামনে ফের জড়ো ইশরাকপন্থীরা

আপডেট : ১৭ মে ২০২৫, ১২:০৮ পিএম

ইশরাক হোসেনকে মেয়রের দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে নগর ভবনের সামনে ৩য় দিনের মতো কর্মসুচি চালিয়ে যাচ্ছেন নগরবাসী। ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে ছোট ছোট মিছিল নিয়ে তারা লং মার্চ টু সচিবালয় কর্মসূচি পালন করে নগর ভবনের সামনে এসে আবার জড়ো হচ্ছেন নগরবাসী।

শনিবার (১৭ মে) সকাল ৯ টা থেকে নগর ভবনের সামনে আসতে শুরু করে নগরের ভোটাররা। নগর ভবনের সামনেই অবস্থান নেন তারা। সেখান থেকে ইশরাক হোসেনকে অবিলম্বে মেয়রের দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে নানাবিধ শ্লোগান দিতে থাকেন।

অবিলম্বে ইশরাক হোসেনকে মেয়রের দায়িত্ব বুঝিয়ে দাও, দিতে হবে, বিল্লাল মাস্টারের (আসিফের বাবা) টাকা দিলে, এলজিইডির কাজ মেলে, আসিফ ভূইয়ার কালো হাত, ভেংগে দাও গুরিয়ে দাও, শপথ নিয়ে তালবাহানা চলবেনা চলবেনাসহ প্রভৃতি শ্লোগানে প্রকম্পিত  হতে থাকে নগর ভবনের সামনের এলাকা। 

একই সাথে তৃতীয় দিনের মতো অবরুদ্ধ আছে নগর ভবন। সব ধনের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে আছে।

 

পুর্ব ঘোষণা অনুসারে আজ নগর ভবনের সামনে থেকে সচিবালয় অভিমুখে বিক্ষোভ করার কথা। গত বৃহস্পতিবার ২য় দিনের অবস্থান কর্মসুচি থেকে সচিবালয় অভিমুখের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। সচিবালয়ের উদ্দেশ্যে বিক্ষোভটি রওয়ানা হওয়ার আগে নগর ভবনের সামনে এসে জড়ো হতে থাকে হাজার হাজার নগরবাসী।
সচিবালয় অভিমুখে নগরবাসীর এই কর্মসুচি উপলক্ষে সকাল থেকে পুলিশও সতর্কাবস্থায় রয়েছে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার ২য় দিনের মতো।একই দাবিতে অবস্থান কর্মসুচি পালন করেন নগরের বাসিন্দারা। সেদিন নগরভনের মুল ফটকে তালা ঝুলিয়ে অবস্থান কর্মসুচি চলে। সেই কর্মসূচিতে নগরবাসির সাথে এসে একাত্মতা প্রকাশ করে দক্ষিন সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা- কর্মচারীরা।

আদালতের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে ইশরাক হোসেনকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ঘোষণা করে গত ২৭ এপ্রিল গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

নগরভবনের সামনে অবস্থানকারী বিক্ষোভকারীরা বলেছেন, এখন পর্যন্ত ইশরাকের শপথ গ্রহণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাই তাঁরা ইশরাককে মেয়রের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার দাবিতে গতকাল বিক্ষোভ করেছেন।

শান্তিপূর্ণ এই অবস্থান কর্মসুচিতে অংশ নিয়ে নগরের বাসিন্দারা বলছেন, আদালতের রায় ও নির্বাচন কমিশনের গেজেট অনুযায়ী ইশরাক হোসেন বৈধ মেয়র। এরপরও কেন তাকে এখনো শপথ করানো হয়নি, তার ব্যাখ্যা চাচ্ছেন তারা। তাদের দাবি, একটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, মশামুক্ত এবং দুর্নীতিমুক্ত ঢাকা গড়তে ইশরাকের মতো জনবান্ধব মেয়র প্রয়োজন।

হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যতদিন ইশরাক হোসেনকে শপথ করানো না হবে, ততদিন তারা নগর ভবনের সামনে আন্দোলন চালিয়ে যাবেন এবং প্রয়োজনে আরও কঠোর কর্মসূচি দেবেন।

এদিকে ঢাকাবাসীর এই অবস্থান কর্মসুচিতে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন ঢাকা দক্ষিন সিটি কর্পোরেশনের সাধারণ কর্মচারীরাও। সকাল থেকেই তারা সব কার্যক্রম বন্ধ করে তারাও অবস্থান নেন সেই অবস্থান কর্মসুচিতে। সব গেট বন্ধ করে দেয় তারা।প্রত্যেক গেটেই তালা ঝুলিয়ে দিয়ে নগর ভবনের নীচ তলায় স্টেজ করে অবস্থান কর্মসুচি চালাতে থাকেন তারা। সেই কর্মসুতে ঢাকার বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ী,  রাজনৈতিক এবং সচেতন নাগরিক সমাজের নেতাকর্মীরা।

গত ২৭ মার্চ ইশরাক হোসেনকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ঘোষণা করে রায় দেন নির্বাচনি ট্রাইব্যুনাল। ঈদের পর ১৬ এপ্রিল পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করে ১০ দিনে মধ্যে গেজেট প্রকাশের জন্য নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দেন আদালত। ২২ এপ্রিল ইশরাক হোসেনকে মেয়র হিসেবে গেজেট প্রকাশ করা নিয়ে আইনগত কোন জটিলতা আছে কিনা সেই মতামত চেয়ে আইন মন্ত্রনালয়ে চিঠি পাঠায় নির্বাচন কমিশন। তবে  আইন মন্ত্রনালয়ের মতামতের অপেক্ষায় থেকে নির্ধারিত ১০ দিনের ঠিক শেষ দিন ২৭ এপ্রিল রাত ৯ টায় আইন মন্ত্রনালয়ের মৌখিক অনুমতি নিয়ে গেজেট প্রকাশ করে ইসি। পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য ২৮ এপ্রিল সেই গেজেট স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ের পাঠায় ইসি। স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয় থেকে আবারো আপিলের জন্য পাঠানো হয় নির্বাচন কমিশনে।ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন আপিল করবেনা জানিয়ে দেন। তারও প্রায় এক সপ্তাহ পেড়িয়ে গেলেও শপথের ব্যবস্থা করছেন না স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়।

এদিকে আন্দোলনের মধ্যেই গত ১৪ মে ইশরাক হোসেনকে শপথ না দিতে  উচ্চ আদালত্র একটি রীট করা হয়।তবে অভিযোগ আছে, স্থানীয় সরকার উপদেষ্টার প্ররোচনায় এই রীট করানো হয়ে থাকতে পারে। একইসাথে সেদিন স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতিতে জানানো হয়, ইশরাক হোসেনকে মেয়র হিসেবে শপথ পড়ানো যায় কিনা, জানতে আবারো আইনী।মতামতের জন্য আইন মন্ত্রনালয়ে পাঠানো হয়েছে।এ নিয়ে ৩য় দফার ইশরাক হোসেনের নথি আইনী মতামতের জন্য পাঠানো হলো। তবে, অন্তবর্তীকালীন সরকারের এমন তালবাহানায় ক্ষুদ্ধ হয়ে আন্দোননে নামে ঢাকাবাসী।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত