সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) সঙ্গে ২০০ বিলিয়ন ডলারের একাধিক চুক্তি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। বৃহস্পতিবার চুক্তি স্বাক্ষরের পর ট্রাম্প বলেন, দুদেশের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হবে। ট্রাম্পের সঙ্গে আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের বৈঠকের পর হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে, আমিরাতের ইতিহাদ এয়ারওয়েজ ১,৪৫০ কোটি (সাড়ে ১৪ বিলিয়ন) ডলারে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি ২৮টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এ ছাড়া দুদেশের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধিরও সিদ্ধান্ত এসেছে। আমিরাতের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে পাঁচ গিগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি নতুন এআই ক্যাম্পাস উদ্বোধন করেন ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে এটি হবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় এআই স্থাপনা।
চার দিনের মধ্যপ্রাচ্য সফরে সৌদি আরব ও কাতার হয়ে বৃহস্পতিবার সংযুক্ত আরব আমিরাতে পৌঁছান ট্রাম্প। আবুধাবির বিমানবন্দরে ট্রাম্পকে প্রথমে অভ্যর্থনা জানান আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান। পরে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ কাসর আল-ওয়াতানে খোলা চুলের ঐতিহ্যবাহী আমিরাতি ও ওমানী সুলতানাতের নাচ ‘আল-আইয়ালা’ পরিবেশন করে ট্রাম্পকে স্বাগত জানানো হয়। সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রাচীন রীতিগুলোর অন্যতম খোলা চুলের এই নাচ।
এর আগে মধ্যপ্রাচ্য সফরে কাতারের সঙ্গেও বড় অঙ্কের চুক্তি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউজ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ট্রাম্প ও কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি বেশ কয়েকটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন। দুই দেশের মধ্যে এসব চুক্তির আওতায় কমপক্ষে ১ লাখ ২০ হাজার কোটি ডলার মূল্যের অর্থনৈতিক লেনদেন হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, কাতার এয়ারওয়েজের সঙ্গে ৯ হাজার ৬০০ কোটি ডলারের চুক্তি হয়েছে ট্রাম্পের। এর আওতায় কাতার এয়ারওয়েজ বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার এবং ৭৭৭ এক্স সিরিজের মোট ২১০টি উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনা করেছে।
তার আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ৬০০ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি করে সৌদি আরব। মঙ্গলবার সৌদির রাজধানী রিয়াদে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান চুক্তিগুলো স্বাক্ষর করেন। হোয়াইট হাউজ থেকে জানানো হয়, চুক্তির প্রথম দফায় জ¦ালানি, নিরাপত্তা, প্রযুক্তি ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর ওপর নজর দেওয়া হয়েছে। এর আওতায় আমেরিকার কাছ থেকে ১৪২ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র কিনবে সৌদি আরব।
