চলতি ২০২৪–২৫ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (জুলাই–এপ্রিল) দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে রাজস্ব ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৬ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। এই সময়ে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬২৮ কোটি ২৮ লাখ টাকা, কিন্তু আদায় হয়েছে ৫৮১ কোটি ৫২ লাখ টাকা।
হিলি স্থল শুল্ক স্টেশন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে হিলি স্থলবন্দরে ৭৪০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। সেই মোতাবেক অর্থবছরের প্রথম জুলাই মাসে ৪৫ কোটি ০৯ লাখ টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আহরণ হয়েছে ৪৫ কোটি ৭৬ লাখ, আগষ্ট মাসে ৬০ কোটি
৮৯ লাখ টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আহরণ হয়েছে ৫৮ কোটি ৩৯ লাখ টাকা, সেপ্টেম্বর মাসে ৫৯ কোটি ৬৬ লাখ টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে হয়েছে ৫৫ কোটি ৭ লাখ টাকা, অক্টোবর মাসে ৬২ কোটি ৬৫ লাখ টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে হয়েছে ৬১ কোটি ৮৯ লাখ টাকা, নভেম্বর মাসে ৬৫ কোটি ১৯ লাখ টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে হয়েছে ৪৩ কোটি ৮৯ লাখ টাকা, ডিসেম্বর মাসে ৬৯ কোটি ২১ লাখ টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে হয়েছে ৫৩ কোটি ৫৬ লাখ টাকা, জানুয়ারি মাসে ৬৭ কোটি ৮৫ লাখ টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে হয়েছে ৪৯ কোটি ৩১ লাখ টাকা, ফেব্রুয়ারি মাসে ৫১ কোটি ৬১ লাখ টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে হয়েছে ৭০ কোটি ২ লাখ টাকা, মার্চ মাসে ৭৬ কোটি ৩০লাখ টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে হয়েছে ৯৫ কোটি ৭৭ লাখ টাকা, এপ্রিল মাসে ৬৯ কোটি ৮৩লাখ টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে হয়েছে ৪৭ কোটি ৮৬ লাখ টাকা।
হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারক নূর ইসলাম বলেন, বন্দর দিয়ে আমদানি কমে যাওয়ার কারণ হচ্ছে গত ১৫ দিন ধরে হঠাৎ করে দেশে ডলারের দাম কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। যেখানে ব্যাংকে এলসি করার সময় আমরা প্রতি ডলার ১২২টাকা মূল্য কিনছি আবার পণ্য আমদানি করে বিল ছাড়ার সময় সেই ডলারে মূল্য দিতে হচ্ছে ১২৩টাকা থেকে ১২৩টাকা ৫০ পয়সা হিসেব করে। এতে করে পণ্য আমদানিতে আমাদের পড়তা হচ্ছেনা। আবার কিছু কিছু পণ্যের ভারতে দাম বাড়িয়ে দিয়েছে যার কারণে পড়তা না হওয়ায় আমদানিকারকরা আমদানি করছেননা। পাশাপাশি কাস্টমসের কিছু জটিলতা রয়েছে একটু যদি ১০ থেকে ২০ কেজি পণ্য বেশী হয় সেক্ষেত্রে তার শুল্ক দিতে হচ্ছে। এসব কারণে আমদানিকারকরা পণ্য আমদানিতে নিরুৎসাহিত বোধ করায় আমদানি কমছে।
একইভাবে আমদানিকারক দয়াল মোল্লা বলেন, পাথর আমদানির উপর নির্ভর করতো এই বন্দর। এখন তা পুরোপুরি বন্ধ। অন্য বন্দরে সুবিধা থাকলেও এখানে পণ্যের লোকাল হ্যান্ডলিং খরচ বেশি।
হিলি আমদানি-রফতানিকারক গ্রুপের সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ১৫ এপ্রিল থেকে আইপির মেয়াদ শেষ হওয়ায় চাল ও পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ। ভারতের কিছু অঞ্চল থেকে পণ্য আসাও বন্ধ রয়েছে সাম্প্রতিক যুদ্ধাবস্থার কারণে। ফলে আমদানি কমে গেছে।
হিলি কাস্টমসের রাজস্ব কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন বলেন, রেয়াতি শুল্কে চাল আমদানির সময়সীমা শেষ, ভুসি আমদানিও বন্ধ—এসব কারণে রাজস্ব ঘাটতি হয়েছে। তবে সামনে কোরবানির ঈদে মসলাজাতীয় পণ্যের আমদানি বাড়বে, তখন ঘাটতি অনেকটাই পুষিয়ে যাবে বলে আমরা আশাবাদী।
শাওমির ঈদ ক্যাম্পেইনে জয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিলেন তামিম ইকবাল
সাকিবের ১৬৯ দিনের অপেক্ষা ঘুচতে যাচ্ছে আজ?
মা হচ্ছেন আম্বানি পুত্রবধূ রাধিকা?