ঐকমত্য কমিশনের প্রথম পর্যায়ের আলোচনা শেষ

আপডেট : ২০ মে ২০২৫, ০৭:১৫ এএম

সংস্কার বিষয়ে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাথমিক পর্যায়ের আলোচনা শেষ হয়েছে। গতকাল সোমবার বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সঙ্গে অনুষ্ঠিত বর্ধিত আলোচনার মাধ্যমে শেষ হয় কমিশনের প্রথম পর্যায়ের আলোচনা।

অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, দুমাস আগে শুরু হওয়া রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে প্রথম পর্যায়ের আলোচনার আজকে সমাপ্তি ঘটেছে। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে অব্যাহত এ আলোচনায় অনেকগুলো বিষয়ে আমরা ঐকমত্যে পৌঁছাতে পেরেছি এবং বেশ কিছু বিষয়ে আমাদের ভিন্নমতও রয়েছে। খুব শিগগির দ্বিতীয় পর্যায়ের আলোচনা শুরু করে যে সব বিষয়ে মতভিন্নতা রয়েছে তা বিষয়ভিত্তিকভাবে আলোচনা করে দ্রুত জাতীয় সনদ তৈরিতে অগ্রসর হতে পারব।

সিপিবির সঙ্গে বৈঠকে সূচনা বক্তব্যে আলী রিয়াজ বলেন, প্রথম ধাপের আলোচনায় উত্থাপিত ভিন্নমতগুলো নিয়ে বিষয়ভিত্তিক আলোচনা হবে দ্বিতীয় পর্যায়ের সংলাপে। জাতীয় ঐকমত্য গঠনে বড় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের মতানৈক্য নেই।

আলোচনার শুরুতেই সিপিবি সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশের দাবি জানিয়ে বলেন, জনগণের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে যে অনিশ্চয়তা ও সংশয় বিরাজ করছে, তা দূর করতে কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশ করা জরুরি। সিপিবি নেতা আরও অভিযোগ করেন, কমিশনের পক্ষ থেকে রাজনৈতিক দলগুলোকে পাঠানো ‘স্প্রেডশিট’-এ অনেক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু বাদ পড়েছে। এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়া প্রয়োজন।

এদিন আলোচনায় জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ ছাড়াও সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. বদিউল আলম মজুমদার, সফর রাজ হোসেন, বিচারপতি মো. এমদাদুল হক, ড. ইফতেখারুজ্জামান, মো. আইয়ুব মিয়া এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার।

সিপিবির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্সের নেতৃত্বে আলোচনায় দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অনিরুদ্ধ দাশ অঞ্জন এবং সহকারী সাধারণ সম্পাদক মিহির ঘোষসহ ৭ সদস্যের প্রতিনিধিদলে আরও কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদক অ্যাডভোকেট হাসান তারিক চৌধুরী, আবিদ হোসেন, অ্যাডভোকেট আনোয়ার হোসেন রেজা এবং লুনা নূর উপস্থিত ছিলেন।

সংস্কার প্রশ্নে জাতীয় ঐকমত্য গঠনের উদ্দেশ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠিত হয়েছে। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি এ কমিশনের কার্যক্রম শুরু হয় এবং ২০ মার্চ লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা শুরু করে কমিশন। সে ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), গণঅধিকার পরিষদ, গণসংহতি, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টিসহ ৩৩টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনায় বসে কমিশন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত