গুলিবিদ্ধ ছাত্রদল নেতার নাম নেই তালিকায়, পাননি সহায়তা

আপডেট : ২২ মে ২০২৫, ১২:২৮ এএম

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল নেতা মিলন হোসেন রাকিব পাননি সরকারি  কোনো সহায়তা। এমনকি আহতদের তালিকায়ও নাম নেই তার।

 বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে বগুড়া শহরে গত ৪ আগস্ট পুলিশের ছোড়া ১৮টি ছররা গুলিতে আহত হন মিলন। এ পর্যন্ত সরকারিভাবে কোনো চিকিৎসা খরচ পাননি তিনি।

মিলন হোসেন রাকিব নাটোরের সিংড়া উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির ১ নম্বর সদস্য ও পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক। তিনি পৌরসভার নিংগইন মহল্লার মৃত কালাম ও মোছা. মরিয়ম বেগম দম্পতির সন্তান।

সবশেষ গত ২২ এপ্রিল সিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অস্ত্রোপচার করে তার শরীর থেকে ১৮তম গুলিটি বের করা হয়।

আহত ছাত্রদল নেতা মিলন জানান, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন শুরু হলে তিনি ১৮ জুলাই সিংড়ায় আন্দোলনে অংশ নেন। ১৯ জুলাইও আন্দোলন করেন। পরে ১, ২, ৩ ও ৪ আগস্ট বগুড়া শহরে ছাত্র-জনতার সঙ্গে আন্দোলনে অংশ নেন। পুলিশের সঙ্গে ছাত্র-জনতার সংঘর্ষের একপর্যায়ে ৪ আগস্ট বিকেল ৪টার দিকে তার শরীরে ১৮টি ছররা গুলি লাগে। তাৎক্ষণিক তাকে বগুড়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে ১৫টি গুলি বের করে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়িতে আনা হয়। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিন ৫ আগস্ট সিংড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আহত অবস্থায় আবার তিনি আন্দোলনে অংশ নেন। মিলন বলেন, ‘দেশের স্বার্থে নিজের পরিবার ও জীবনের কথা চিন্তা না করে আন্দোলনে অংশ নিয়ে পুলিশের গুলিতে আহত হই। এ পর্যন্ত কোনো সরকারি সহযোগিতা পাইনি। পরিবারের টাকায় চিকিৎসা করেছি। সরকারের কাছে আবেদন, আমাকে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা এবং চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করা হোক।’

মিলনের মা মরিয়ম বেগম বলেন, ‘আমার ছেলের চিকিৎসার জন্য সরকার কোনো সহযোগিতা করেনি। সংসারের টাকা থেকে ছেলের চিকিৎসায় খরচ করেছি। সরকারের কাছে আমার আবেদন, সরকারি তালিকায় আমার ছেলের নাম তুলে দেবেন এবং চিকিৎসা বাবদ আর্থিক সহায়তা দেবেন।’

সিংড়া উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান মিজান বলেন, ‘মিলন ছাত্রদলের একজন সক্রিয় নেতা। তিনি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে আহত হলেও সরকারি তালিকায় তার নাম নেই। পরিবারের অর্থে চিকিৎসা করেছেন। তার নাম তালিকাভুক্ত করতে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করছি।’

এ বিষয়ে সিংড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে আহতদের সরকারিভাবে তালিকা হয়েছে। কিছুদিন আগে দ্বিতীয় দফা তালিকা হয়েছে। তিনি (মিলন) এখন মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় অথবা উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগে যোগাযোগ করলে সরকারি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারবেন। এ ছাড়া জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করলে চিকিৎসা বাবদ আর্থিক সহায়তা পেতে পারেন।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত