পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘাত নিয়ে উত্তেজনাপূর্ণ মন্তব্য করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজস্থানের বিকানেরে এক জনসভায় মোদি বলেন, রক্ত নয়, তার শিরায় টগবগ করে ফুটছে সিঁদুর। পাশাপাশি মাত্র ২২ মিনিটেই ভারত পেহেলগামে হামলার প্রতিশোধ নিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তবে ভারতের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে সংলাপের আহ্বান জানানো পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বলছেন, এ আলোচনার জন্য নিরপেক্ষ স্থান হতে পারে সৌদি আরব। আর পারমাণবিক শক্তিধর পাকিস্তান এবং ভারতের মধ্যে সামরিক সংঘাত নিছক বোকামি বলে মন্তব্য করেছেন পাকিস্তান আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী। এদিকে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই আরেক পাকিস্তানি কূটনীতিককে বহিষ্কার করেছে ভারত।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজস্থানের পাকিস্তান সীমান্তবর্তী জেলা বিকানেরে এক জনসভা থেকে মোদি দাবি করেন, যারা ভারতের মা-বোনদের মাথার সিঁদুর মুছে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল, তাদের মোক্ষম জবাব দেওয়া হয়েছে। ২২ এপ্রিলের হামলার জবাব দেওয়া হয়েছে মাত্র ২২ মিনিটে। ৯টি সন্ত্রাসী ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, গোটা দেশ ও বিশ্ব দেখেছে যখন সিঁদুর বারুদের মতো জ¦লে ওঠে, তখন কী হয়। রক্ত নয়, আমার শিরায় সিঁদুর টগবগ করে ফুটছে। এ সময় মোদি বলেন, ভারত সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ। পেহেলগামে গুলি চললেও, আঘাত লেগেছে ১৪০ কোটির হৃদয়ে। আমরা সন্ত্রাসের হৃদয়েই আঘাত করেছি। সরকার সেনাবাহিনীকে পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছে, আর ভারতীয় বাহিনী পাকিস্তানকে মাটিতে নামিয়ে এনেছে। জনসভা থেকে ১০৩টি অমৃত ভারত স্টেশন ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করেন নরেন্দ্র মোদি।
এই প্রকল্পে ভারতের সহস্রাধিক রেলস্টেশন আধুনিক করে গড়ে তোলা হচ্ছে। অপারেশন সিঁদুরের পর এটিই মোদির প্রথম জনসভা। ২০১৯ সালে বালাকোটে ভারতীয় বাহিনীর বিমান হামলার পরেও তার প্রথম জনসভা হয়েছিল রাজস্থান সীমান্তে।
এদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বলেছেন, পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় সংলাপের জন্য সৌদি আরব একটি ‘নিরপেক্ষ’ স্থান হতে পারে। বুধবার প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে একদল টেলিভিশন সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন তিনি। ভারত সংলাপে সন্ত্রাসবাদ নিয়ে আলোচনা করতে চায়, আর পাকিস্তান চায় কাশ্মীরকে প্রাধান্য দিতে। এই প্রশ্নের জবাবে শাহবাজ শরিফ জোর দিয়ে বলেন, কাশ্মীর, পানি, বাণিজ্য ও সন্ত্রাসবাদ এই চারটি বিষয়ই পাকিস্তান-ভারত সংলাপের মূল পয়েন্ট হবে। আর পাকিস্তান আইএসপিআরের ডিজি আহমেদ শরীফ দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশের সামরিক সংঘাতকে নিছক বোকামি হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেন, এটি একটি অযৌক্তিক ধারণা। পারমাণবিক সংঘাত উভয় দেশের জন্য পারস্পরিক ধ্বংস ডেকে আনতে পারে। পাকিস্তানের সামরিক মুখপাত্র বলেন, পাকিস্তান শান্তি চায় কিন্তু যদি যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হয় তাহলে আমরা সর্বদা প্রস্তুত।
তিনি দুই দেশের মধ্যে সংঘাতের খবর নিয়ে ভারতের প্রচার কৌশলের নিন্দা করেছেন। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে পারমাণবিক সংঘাতের সম্ভাবনা সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে আইএসপিআরের মহাপরিচালক বলেন, ভারত মিথ্যা আখ্যানের ওপর ভিত্তি করে আগুন নিয়ে খেলছে।
চলমান এ উত্তেজনার মধ্যেই দিল্লিতে পাকিস্তানি হাইকমিশনের আরেক কূটনীতিককে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছে ভারত। বুধবার সন্ধ্যায় ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বিবৃতি প্রকাশ করে এ কথা জানানো হয়েছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ওই পাকিস্তানি কর্মকর্তাকে ভারত ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বলছে, একই সঙ্গে পাকিস্তান হাইকমিশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বুধবার এক বিবৃতিতে জানায়, বহিষ্কার হওয়া পাকিস্তানি কূটনীতিক এমন কিছু কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন, যা আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক রীতিনীতি, বিশেষ করে ১৯৬১ সালের ভিয়েনা কনভেনশন অনুযায়ী অগ্রহণযোগ্য। যদিও সরকারিভাবে ওই কর্মকর্তার নাম প্রকাশ করা হয়নি। তবে সূত্রমতে তিনি হাইকমিশনের একটি গোয়েন্দা শাখার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
