গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড ‘যুদ্ধাপরাধের কাছাকাছি’

আপডেট : ২৩ মে ২০২৫, ০৬:১৪ এএম

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা ও দখলকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড ‘যুদ্ধাপরাধের কাছাকাছি’ বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী এহুদ ওলমার্ট। ইসরায়েলের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম কান নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। এমনকি গাজায় যুদ্ধাপরাধ নতুন কিছু নয় বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরে বিদেশি কূটনীতিকদের লক্ষ্য করে ইসরায়েলি বাহিনী গুলিবর্ষণ করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আরব ও এশীয় দেশগুলোর ওই কূটনীতিকরা পশ্চিম তীরের জেনিন শরণার্থীশিবিরে মানবিক পরিস্থিতি পর্যালোচনায় গিয়ে ইসরায়েলি সেনাদের গুলির মুখে পড়েন। এদিকে গাজায় ত্রাণসামগ্রীবোঝাই ১০০টি ট্রাক প্রবেশ করতে দিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। তবে ময়দা, শিশুখাদ্য এবং স্বাস্থ্য সরঞ্জামসহ ট্রাকগুলো বুধবার গাজায় প্রবেশ করলেও সাধারণ মানুষের কাছে কোনো সহায়তা পৌঁছায়নি বলে দাবি জাতিসংঘের। অন্যদিকে ইসরায়েলের ভূখ- লক্ষ্য করে ফের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা।

কান নিউজকে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে সাবেক ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী এহুদ ওলমার্ট বলেন, গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে যুদ্ধাপরাধের কাছাকাছি হিসেবে অভিহিত করাই যায়। কিন্তু পশ্চিম তীরেও প্রতিদিন ইসরায়েলিরা এমন অপরাধ করছে, যেখানে পুলিশ বা সেনাবাহিনী হস্তক্ষেপ করে না বরং চোখ বুজে থাকে। ওলমার্ট ইসরায়েলের বর্তমান ডানপন্থি সরকারের নেতাদের বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন। এ সময় অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচের উত্তর-পশ্চিম তীরের হুওয়ারা গ্রাম পুড়িয়ে দেওয়ার আহ্বানকে গণহত্যার ডাক হিসেবে আখ্যা দেন তিনি। ওলমার্ট বলেন, যদি কেউ গ্রাম পুড়িয়ে দেওয়ার ডাক দেয়, সে মূলত গণহত্যারই ডাক দিচ্ছে। ২০০৬ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ওলমার্ট বলেন, গাজায় ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধ সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যহীন রাজনৈতিক যুদ্ধ। তিনি আরও বলেন, নেতানিয়াহু সরকারের সামরিক নীতির জন্যই বহু নিরীহ মানুষ মারা যাচ্ছে।

এদিকে ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরে বিদেশি কূটনীতিকদের লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। জেনিন শরণার্থীশিবিরে মানবিক পরিস্থিতি পর্যালোচনায় গিয়েছিলেন ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আরব ও এশীয় দেশগুলোর ওই কূটনীতিকরা। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি, কূটনীতিকরা পূর্বনির্ধারিত রুট থেকে সরে গিয়ে একটি নিষিদ্ধ এলাকায় প্রবেশ করেছিলেন। যার জেরেই তাদের সতর্ক করতে গুলি চালানো হয়। তবে তাদের ভাষ্য, এটি সতর্কতামূলক গুলি ছিল এবং কেউ আহত হয়নি। পশ্চিম তীরের জন্য নিযুক্ত ইসরায়েলি সামরিক প্রশাসনের প্রধান জানিয়েছেন, তারা ঘটনাটি নিয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলবেন এবং ঘটনার প্রাথমিক তদন্ত সম্পর্কে কূটনীতিকদের অবহিত করবেন। আলজাজিরার ফ্যাক্টচেক ইউনিট ‘সানাদ’ যাচাই করে নিশ্চিত করেছে ঘটনাস্থলের পাশে দুজন ইসরায়েলি সেনা দাঁড়িয়ে ছিলেন এবং তাদের অস্ত্র কূটনীতিকদের দিকে তাক করা ছিল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ত্রাণকর্মী বার্তা সংস্থা এপিকে জানান, প্রায় ২০ জন কূটনীতিক তখন জেনিনের পরিস্থিতি নিয়ে ব্রিফিং করছিলেন, তখন এ গুলির ঘটনা ঘটে।

ইসরায়েল সীমিত পরিসরে গাজায় ত্রাণ প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার পর থেকে ত্রাণসামগ্রীবোঝাই ১০০টি ট্রাক গাজায় প্রবেশ করেছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। তবে জাতিসংঘের দাবি, ময়দা, শিশুখাদ্য এবং স্বাস্থ্য সরঞ্জামসহ ট্রাকগুলো সেখানে প্রবেশ করলেও সাধারণ মানুষের কাছে কোনো সহায়তা পৌঁছায়নি। প্রায় ১১ সপ্তাহ অবরোধের পর গাজায় মানবিক সহায়তা প্রদানকারী কর্মীরা এ সরবরাহকে চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল হিসেবে উল্লেখ করেছেন। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির কর্মকর্তা আন্তোন রেনার্দ বলেছেন, প্রয়োজনের তুলনায় সামান্য ত্রাণই এসে পৌঁছেছে। আর যেটুকুও এসেছে, সেটাও জনসাধারণ পায়নি। তিনি বলেন, গাজা সীমান্তের কাছে হাজার হাজার টন খাদ্য ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র অপেক্ষমাণ রয়েছে। তবে নিরাপদে বিতরণের ব্যবস্থা না থাকায় তা ঢুকছে না। ফলে গাজার প্রায় এক-চতুর্থাংশ জনগণ এখনো দুর্ভিক্ষের ঝুঁকিতে রয়েছে।

অন্যদিকে ইসরায়েলে ফের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে হুতি বিদ্রোহীরা। ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর দাবি, বৃহস্পতিবার ভোরে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রটি মাঝ আকাশে ধ্বংস করা হয়েছে। এরপরই সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চলে। এ ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে রাজধানী তেল আবিবসহ আশপাশ এলাকায়। হাজারো বাসিন্দাকে সরানো হয়েছে নিরাপদ স্থানে। এ ঘটনায় কোনো হতাহত কিংবা ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেনি। যদিও হুতি বিদ্রোহীরা এখনো এ হামলার দায় স্বীকার করেনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত