মুক্তি পেলেন ৭৮০ যুদ্ধবন্দি

আপডেট : ২৫ মে ২০২৫, ১২:৪৭ এএম

রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয়পক্ষই ৩৯০ জন করে বন্দি বিনিময় করেছে। ২০২২ সালে যুদ্ধ শুরুর পর এখন পর্যন্ত দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় বন্দিবিনিময়ের ঘটনা এটিই। গত শুক্রবার ২৭০ জন করে সেনা ও ১২০ জন করে বেসামরিক নাগরিককে মুক্তি দিয়েছে মস্কো-কিয়েভ। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, আজ রবিবার পর্যন্ত তিন দিনে ১ হাজার জন করে বন্দি বিনিময় করবে রাশিয়া ও ইউক্রেন।

গত সপ্তাহে ইস্তামবুলে তিন বছরের মধ্যে প্রথমবার মুখোমুখি আলোচনায় বসেছিল দুইপক্ষ। যদিও সে আলোচনা থেকে যুদ্ধবিরতিতে ঐকমত্যে পৌঁছানো যায়নি। তবে ওই বৈঠক থেকেই বন্দিবিনিময়ের এই চুক্তির বিষয়ে সম্মত হয়েছিল উভয় দেশ। রাশিয়া জানিয়েছে, এই বিনিময়ের পর তারা শান্তিচুক্তির জন্য ইউক্রেনকে নিজেদের প্রস্তাব পাঠাবে। বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, চেরনিহিভ অঞ্চলের একটি হাসপাতালে সদ্য মুক্তি প্রাপ্ত ইউক্রেনীয় সেনারা বের হয়ে আসেন। তারা দুর্বল চেহারা নিয়ে এসেও হাসিমুখে জনতার প্রতি হাত নাড়ছিলেন। অনেকে তাদের স্বজনদের জড়িয়ে ধরেন, আবার কেউ কেউ নিখোঁজ প্রিয়জনের ছবি হাতে দাঁড়িয়ে ছিলেন। বন্দি বিনিময় নিয়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এক্স বার্তায় বলেন, কেবল প্রথম ধাপ সম্পন্ন হয়েছে। এখনো পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি। ৫৮ বছর বয়সী ইউক্রেনীয় সেনা ভিক্টর সিভাক বলেন মারিউপোলে বন্দি হয়েছিলাম, এরপর ৩৭ মাস ১২ দিন ধরে আটক ছিলাম। এখন ফিরে এসে আনন্দে ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। আরেক সেনা কস্তিয়ানতিন স্তেবলেভ বলেন, তিন বছর ধরে মনে হয়েছে আমি এখনো ২০২২-এ আছি। ২০২৫ কেমন তা কল্পনাও করতে পারছি না। অনেকে জানান, প্রিয়জনদের ফিরে পাওয়া বা সন্ধান পাওয়ার আশায় তারা অপেক্ষা করছিলেন। বাহমুতে নিখোঁজ হওয়া ছেলের খোঁজে অপেক্ষায় ছিলেন লিউদমিলা পারখোমেনকো। ২৮ বছর বয়সী আনাস্তাসিয়া রুদা বলেন, আট মাস ধরে ভাইয়ের কোনো খোঁজ নেই আজ যদি কেউ তার খবর দিতে পারে, সেটিই হবে সবচেয়ে বড় স্বস্তি।

শান্তিচেষ্টার ইঙ্গিত!

রাশিয়ার ধারণা অনুযায়ী, তাদের হাতে ৮,০০০ থেকে ১০,০০০ ইউক্রেনীয় বন্দি রয়েছে। ইউক্রেনের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রতিটি বিনিময়ে এমন ব্যক্তিরাও ফিরে আসেন যাদের নিখোঁজ বা মৃত বলে মনে করা হয়েছিল। রাশিয়া বলেছে বিনিময় শেষে তারা শান্তিপ্রস্তাব পাঠাবে, তবে সেই প্রস্তাবে কী রয়েছে তা প্রকাশ করেনি। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ বিনিময়কে স্বাগত জানিয়ে তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে লিখেছেন, এটা কী বড় কিছুর ইঙ্গিত? তবে জানুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পরও ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে ট্রাম্প এখনো উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি আনতে পারেননি। রাশিয়া এখনো পূর্ণ ও নিঃশর্ত যুদ্ধবিরতির জন্য ইউরোপীয় চাপ প্রত্যাখ্যান করছে। বরং উল্টো ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মাত্রা বাড়িয়েছে মস্কো।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত