পাল্টাপাল্টি আকাশসীমা বন্ধের মেয়াদ বাড়াল ভারত-পাকিস্তান

আপডেট : ২৫ মে ২০২৫, ০৭:২০ এএম

পাকিস্তান ও ভারত একে অন্যের বিমানের জন্য নিজেদের আকাশসীমা বন্ধের মেয়াদ বাড়িয়েছে। গত শুক্রবার প্রতিবেশী দেশ দুটির পক্ষ থেকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। পাকিস্তানের বিমানবন্দর কর্র্তৃপক্ষ (পিএএ) এক বিজ্ঞপ্তি জারি করে বলেছে, ভারতীয় বিমানের আকাশসীমা ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা ২৪ জুন পর্যন্ত বহাল থাকবে। একই ঘোষণা দিয়েছে ভারতও। এদিকে, সিন্ধু পানিচুক্তি স্থগিত করার সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে পাকিস্তানের ভ্রান্ত তথ্য প্রচারের বিরুদ্ধে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভারত। গতকাল শনিবার জাতিসংঘে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত পার্বতনেনি হরিশ বলেন, পাকিস্তান যত দিন পর্যন্ত তাদের সীমান্ত-পারের সন্ত্রাসবাদে মদদ দেওয়া বন্ধ না করবে, তত দিন পর্যন্ত এই চুক্তি স্থগিত থাকবে। তবে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের উন্মুক্ত বিতর্কে নয়াদিল্লির বক্তব্যের জবাবে পাকিস্তানের স্থায়ী মিশনের মানবাধিকারবিষয়ক কাউন্সিলর সায়মা সেলিম ভারতকে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ বন্ধ করে সংলাপ শুরুর আহ্বান জানিয়েছেন।

গতকাল শনিবার পাকিস্তান সংবাদমাধ্যম ডন এক প্রতিবেদনে জানায়, পাকিস্তানের আকাশসীমা দিয়ে ভারতীয় বিমান চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা ২৪ জুন, ২০২৫ ভোর ৪:৫৯ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। পাকিস্তানের বিমানবন্দর কর্র্তৃপক্ষের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে সামরিক ফ্লাইটসহ ভারতের নিবন্ধিত, পরিচালিত বা মালিকানাধীন উড়োজাহাজ এবং দেশটির উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থাগুলোর ইজারা নেওয়া উড়োজাহাজ পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহার করতে পারবে না। এ ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। পিএএ বলেছে, এ নিষেধাজ্ঞা ভূমি থেকে শুরু করে সীমাহীন উচ্চতা পর্যন্ত প্রযোজ্য হবে। নির্দেশনার আওতায় কোনো ভারতীয় উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থা বা নিয়ন্ত্রকের ফ্লাইট পাকিস্তানের আকাশসীমায় প্রবেশ বা অতিক্রম করতে পারবে না। তবে অন্যান্য আন্তর্জাতিক উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থা এ নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বে না। ভারতের বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয়ও একই রকম বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, সামরিক ফ্লাইটসহ পাকিস্তানে নিবন্ধিত, পরিচালিত, মালিকানাধীন বা ইজারা নেওয়া উড়োজাহাজ ২৩ জুন পর্যন্ত ভারতের আকাশসীমায় প্রবেশ করতে পারবে না।

এদিকে, জাতিসংঘে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভারত। সিন্ধু পানিচুক্তি স্থগিতের প্রেক্ষিতে পাকিস্তান ভ্রান্ত তথ্য প্রচার করছে অভিযোগ করে জাতিসংঘে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত পার্বতনেনি হরিশ বলেন, পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদের বৈশ্বিক কেন্দ্র। পাকিস্তান যত দিন পর্যন্ত সীমান্ত-পারের সন্ত্রাসবাদে মদদ দেওয়া বন্ধ না করবে, তত দিন পর্যন্ত এই চুক্তি স্থগিত থাকবে। জাতিসংঘে পাকিস্তানি প্রতিনিধি যখন চুক্তি প্রসঙ্গ উত্থাপন করে বলেন, পানিই জীবন, তা যুদ্ধের অস্ত্র নয়। এর প্রেক্ষিতে ভারতের পক্ষ থেকে এই জবাব আসে। পার্বতনেনি হরিশ আরও বলেন, ভারত ৬৫ বছর আগে সম্পূর্ণ সদিচ্ছা নিয়ে সিন্ধু পানিচুক্তি করেছিল। ওই চুক্তির প্রস্তাবনায় বন্ধুত্বপূর্ণ চেতনার কথা বলা হয়েছে। অথচ এই ছয় দশকে পাকিস্তান তিনটি যুদ্ধ এবং হাজার হাজার সন্ত্রাসী হামলার মাধ্যমে ওই চুক্তির চেতনাকে লঙ্ঘন করেছে। জাতিসংঘে ভারতের স্থায়ী এই প্রতিনিধি আরও বলেন, পাকিস্তান তার ভূখণ্ডকে ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে ভারতের বিরুদ্ধে সীমান্ত-পারের সন্ত্রাস চালাচ্ছে। এই সন্ত্রাসবাদের বলি হয়েছেন হাজার হাজার নিরপরাধ ভারতীয়। তিনি জানান, গত চার দশকে সন্ত্রাসী হামলায় ২০ হাজারের বেশি ভারতীয় নাগরিক নিহত হয়েছে। পাশাপাশি পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদের মাধ্যমে ভারতের সাধারণ নাগরিক, ধর্মীয় সম্প্রীতি এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে ব্যাহত করছে।

তবে ভারতকে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ বন্ধ করে অর্থপূর্ণ সংলাপ শুরু করার আহ্বান জানিয়েছে পাকিস্তান। গতকাল শনিবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের উন্মুক্ত বিতর্কে ভারতের বক্তব্যের জবাবে এই আহ্বান জানান জাতিসংঘে পাকিস্তানের স্থায়ী মিশনের মানবাধিকারবিষয়ক কাউন্সিলর সায়মা সেলিম। তিনি বলেন, ভারত আবারও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের আশ্রয় নিয়েছে। কিন্তু কোনো ধরনের বিভ্রান্তির মাধ্যমেই তথ্য গোপন করা সম্ভব নয়। ভারত বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে স্পষ্ট আগ্রাসন চালিয়েছে এবং আমার দেশে এবং বিশ্ব জুড়ে সন্ত্রাসবাদ ও হত্যাকাণ্ডের পৃষ্ঠপোষকতা করছে। সিন্ধু নদীর পানিচুক্তি প্রসঙ্গে সায়মা সেলিম বলেন, পাকিস্তানের ২৪ কোটি মানুষের জীবনরেখা হিসেবে কাজ করে এমন নদীর প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করে ভারত নিজেদেরই বিতর্কিত করছে। পানি কখনো যুদ্ধের অস্ত্র হতে পারে না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত