স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার সাবেক সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) মোয়াজ্জেম হোসেনের বিদেশ গমনের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে তার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ব্লক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গতকাল শনিবার দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. জাকির হোসেন এ আদেশ দেন।
দুদকের আবেদনে বলা হয়, অভিযোগ সংশ্লিষ্ট মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে তদবির বাণিজ্য, চাঁদাবাজি, টেন্ডার বাণিজ্যসহ নানাবিধ অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে শত শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের অনুসন্ধান চলমান রয়েছে। তিনি দেশ ছেড়ে বিদেশে পলায়ন করতে পারেন মর্মে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে। অভিযোগের সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে তার বিদেশ গমন রহিত করা এবং এনআইডি ব্লক করা প্রয়োজন। শুনানি নিয়ে আদালত মোয়াজ্জেম হোসেনের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা ও এনআইডি ব্লক করার আদেশ দেয়।
গত বছরের ৮ আগস্ট আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া অন্তর্র্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেন। ১৪ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মোয়াজ্জেম হোসেনকে নিজের এপিএস হিসেবে নিয়োগ দেন তিনি। অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর গত ২১ এপ্রিল মোয়াজ্জেম হোসেনকে পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
দুর্নীতিতে জড়ালে ব্যবস্থা নেওয়া হবে : এদিকে গতকাল নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া লেখেন, ‘অভিযোগ ও গুঞ্জন উঠলে আমি নিজেই দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) বিষয়টি অনুসন্ধানের অনুরোধ জানিয়েছিলাম। আমার সাবেক এপিএস-সংক্রান্ত অনুসন্ধানে মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সহযোগিতা করতেও নির্দেশ দিয়েছি।’ তিনি লেখেন, ‘কেউ যদি দুর্নীতিতে জড়ায়, সে যে-ই হোক, রাষ্ট্রীয় আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এটাই জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশের অঙ্গীকার। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্ব আমাদের নতুন বাংলাদেশের পথে এগিয়ে চলার প্রমাণ।’ আসিফ মাহমুদ আরও লেখেন, ‘শুরু থেকেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমাকে জড়িয়ে বিভ্রান্তিকর পারসেপশন তৈরির চেষ্টা চলছে। কিন্তু আমার কাছে সত্য ও নৈতিক সাহসই মুখ্য। সে কারণে নিজেই অনুসন্ধানের অনুরোধ করেছি। আশা করি, দুদক নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে তদন্ত পরিচালনা করবে এবং সত্য উদঘাটিত হবে। আমরা সততা, দায়বদ্ধতা এবং সুশাসনের এমন দৃষ্টান্ত রেখে যেতে চাই যা অনুকরণীয় হবে।’
