বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের সময় আহত ফেনীর ছয় সাংবাদিক পাননি সরকারি কোনো সহায়তা। এমনকি আহতদের তালিকায়ও নাম নেই তাদের।
স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ থেকে গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের চূড়ান্ত তালিকাভুক্তির জন্য গত জানুয়ারি মাসে জেলা প্রশাসক বরাবর প্রয়োজনীয় তথ্য প্রমাণসহ আবেদন করেন আহত ৬ সাংবাদিক। গত ৪ আগস্ট মহিপালে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্ত ও আহত ছয় সাংবাদিককে যাচাই-বাছাই কমিটি তাদের নাম বাদ দিয়ে অন্যদের নাম তালিকাভুক্ত করেন। বাতিলকৃত আবেদনগুলো বিবেচনার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর কথা থাকলেও গত তিন মাসেও তা পাঠানো হয়নি।
তালিকা থেকে বাদ পড়া আহত সাংবাদিকরা হলেন- দৈনিক দেশ রূপান্তর ও ইউএনবির ফেনী প্রতিনিধি মো. শফি উল্লাহ রিপন, বাংলাভিশন ও বাংলা ট্রিবিউন ফেনী প্রতিনিধি রফিকুল ইসলাম, দৈনিক দিনকাল প্রতিনিধি মফিজুর রহমান, আজকের ফেনী সম্পাদক আমজাদুর রহমান, ফেনীর গৌরব সম্পাদক কামাল উদ্দিন ভূঞা ও জবাবদিহি পত্রিকার সংবাদদাতা হাসনাত তুহিন।
আহত সাংবাদিক শফি উল্লাহ বলেন, সংঘর্ষের সময়ের ভিডিও ফুটেজ, আহত হওয়ার সকল ডকুমেন্ট ও ছাত্রলীগের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত বাইকটি আগুনে পুড়িয়ে দেওয়াসহ শারীরিকভাবে নির্যাতিত হলেও তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ে যায়। যার কারণে সরকারিভাবে কোনো সহায়তা পাইনি।
সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম বলেন, ৪ আগস্ট সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে দুপক্ষের সংঘর্ষ ও গোলাগুলিতে আহত হয়ে তিনদিন হাসপাতালে ভর্তি ছিলাম। হাসপাতাল থেকে তালিকা পাঠানো হলেও কেন আহতের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি জানি না। উল্লেখ্য, ফেনীতে বিভিন্ন পেশার মোট ৪০৬ জন ছাত্র-জনতার আন্দোলনের আহতদের তালিকাভুক্ত হয়।
গত বুধবার (২১ মে) ফেনীতে গণঅভ্যুত্থানে আহত সি ক্যাটাগরির ৩৪৩ জন আহতদের এক লাখ টাকা করে আর্থিক অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম বলেন, আহতদের তালিকায় যাদের নাম ছিল তারা সবাই আর্থিক অনুদান পেয়েছেন। বাতিলকৃত আবেদনগুলো বিবেচনা করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।
