ছক্কা-ঝড়ে বদলে যাচ্ছে পাকিস্তান, ৭ ম্যাচে যা পেয়েছে তিনবার

আপডেট : ৩০ মে ২০২৫, ১১:০৮ এএম

গত কয়েক বছরে ব্যাটিংয়ের ধীরগতির জন্য সমালোচনার তীরে বিদ্ধ হয়েছে পাকিস্তান টি-টোয়েন্টি দল। বিশেষ করে ওপেনার বাবর আজম ও মোহাম্মদ রিজওয়ানের রক্ষণাত্মক ব্যাটিং স্টাইলকে ঘিরেই বিতর্ক ছিল তুঙ্গে। বড় সংগ্রহ গড়তে না পারা, মাঝের ওভারে গতি হারানো—সবকিছুর কেন্দ্রে ছিল এ দুজনের ‘ধীর জুটি’। তবে সময় বদলে দিয়েছে পাকিস্তানকে, আর সেই পরিবর্তনের মূলমন্ত্র—আগ্রাসী ক্রিকেট।

বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টির সময় সম্প্রচারিত এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০২৪ সাল থেকে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৩৮ জন ক্রিকেটার খেলিয়েছে পাকিস্তান। এত পরিবর্তন কেবল পরীক্ষা-নিরীক্ষা নয়, বরং সঠিক কম্বিনেশন খুঁজে পাওয়ার মরিয়া চেষ্টা। তবে এসব পরীক্ষা এবার সফলতার ছোঁয়া পেতে শুরু করেছে।

সাম্প্রতিক ৭ টি-টোয়েন্টির তিনটিতেই ২০০ বা তার বেশি রান তুলেছে পাকিস্তান। অথচ এর আগে টানা ৫০ ম্যাচেও একাধিকবার এমন স্কোর করতে পারেনি দলটি।

বাবর-রিজওয়ান জুটি ভেঙে দেওয়ার পর নতুন এক পাকিস্তানের উত্থান দেখা যাচ্ছে। নিউজিল্যান্ড সিরিজ দিয়ে শুরু সেই পথচলায় দল হেরেছে ৪-১ ব্যবধানে, কিন্তু চতুর্থ ম্যাচে ২২০ রানের বিশাল লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ১৬.২ ওভারে জয় তুলে নেয় তারা।

সেই ম্যাচে ঝড় তোলেন তরুণ হাসান নেওয়াজ—৪৪ বলে সেঞ্চুরি করে গড়েন পাকিস্তানের দ্রুততম টি-টোয়েন্টি শতকের রেকর্ড। যদিও সিরিজে তিনবার ‘ডাক’ মেরেছিলেন তিনি, তবুও তার প্রতিভার প্রতি আস্থা রেখেছে টিম ম্যানেজমেন্ট। বাংলাদেশ সিরিজের প্রথম ম্যাচেই সেই আস্থার প্রতিদান দিয়েছেন ডানহাতি এই ব্যাটার—২২ বলে খেলেছেন ৪৪ রানের ঝোড়ো ইনিংস।

টপ অর্ডারে সুযোগ পাওয়া আরেক ব্যাটার মোহাম্মদ হারিসও ছিলেন উজ্জ্বল। নিউজিল্যান্ড সিরিজে ব্যর্থ হলেও পাওয়ারপ্লেতে আগ্রাসী মনোভাবই যেন তাঁর মূল শক্তি। বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ১৮ বলে ৩১ রানের ইনিংস খেলে দলকে চাপমুক্ত করেন তিনি।

পাকিস্তানের ব্যাটিং বদলে যাওয়ার বড় প্রমাণ হলো কৌশলের পরিবর্তন। আগের মতো উইকেট বাঁচিয়ে ইনিংস গড়া নয়, এখন শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মনোভাব। ৫ রানে ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়লেও বাংলাদেশ ম্যাচে দল পিছু হটেনি। বরং আধুনিক টি-টোয়েন্টির ভাষাতেই ব্যাট করেছে তারা—ডট বল কমিয়ে ছক্কা-চারে এগিয়ে গিয়েছে ২০০ রানের পার।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ যেন থেমে আছে গতানুগতিক চিন্তায়। তানজিদ হাসানের আউটের সময় স্কোর ছিল ৪ ওভারে ২ উইকেটে ৩৭। কিন্তু পরের ছয় ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়ে এসেছে মাত্র ৩৮ রান। টি-টোয়েন্টির আধুনিক ধারা যেখানে দ্রুত গতি বাড়ানো জরুরি, সেখানে বাংলাদেশের এমন ব্যাটিং ইনিংসের গতি থামিয়ে দিয়েছে।

আরেকটি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০২৪ সালের পর থেকে সবচেয়ে কম খেলোয়াড় খেলিয়েছে বাংলাদেশ—মাত্র ২২ জন। যখন বিশ্বজুড়ে টি-টোয়েন্টিতে চলছে নতুন ছকে দল গোছানোর লড়াই, তখন বাংলাদেশ এখনও স্থবির এক স্কোয়াডেই সীমাবদ্ধ।

একদিকে পাকিস্তান যেখানে ছক্কাবাজদের খুঁজে তুলে আনছে, অন্যদিকে বাংলাদেশ ব্যস্ত ‘আধুনিক খেলার’ সংজ্ঞাই বোঝার চেষ্টায়।

টি-টোয়েন্টিতে সাফল্যের জন্য এখন কেবল প্রতিভা নয়, দরকার সঠিক মানসিকতা আর কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গিরও। পাকিস্তান সেই বার্তাই যেন দিয়ে ফেলেছে ছক্কা–ঝড়ে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত