চার জুন বিশ্বের ১২০টিরও বেশি দেশ থেকে আগত ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মিনা অভিমুখে যাত্রার মধ্য দিয়ে শুরু হবে ২০২৫ সালের পবিত্র হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা। গত বছর হজের সময় প্রচণ্ড গরমে তিন শতাধিক হজযাত্রীর মৃত্যু হওয়ায় এ বছর আগেভাগেই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে সৌদি প্রশাসন। হজ মৌসুমে অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে নেওয়া হয়েছে নজিরবিহীন ব্যবস্থা।
সৌদি সরকারের সর্বশেষ তথ্যমতে, গতকাল পর্যন্ত ২ লাখ ৬৫ হাজারের বেশি অবৈধ অনুপ্রবেশকারীকে মক্কা ও আশপাশের এলাকা থেকে আটক করে শহরের বাইরে পাঠানো হয়েছে। শুধু নকল পরিচয়পত্র ব্যবহার করে প্রবেশের চেষ্টায় গ্রেপ্তার হয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ।
সৌদির আবহাওয়া অধিদপ্তর আগাম সতর্কতা দিয়ে জানিয়েছে, এ বছর হজ মৌসুমে তীব্র গরম, হিট স্ট্রোক ও ধুলিঝড়ের আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি ইসরায়েলের ফিলিস্তিনে আগ্রাসন এবং ইরান ও ইয়েমেনের সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাতের প্রেক্ষাপটে সার্বিক নিরাপত্তা বিবেচনায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।
তাই আগামী ১৩ জুন পর্যন্ত অনুমতি ছাড়া মক্কা ও হজ-সংশ্লিষ্ট এলাকায় প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ নির্দেশনা অমান্য করলে সর্বোচ্চ এক লাখ রিয়াল জরিমানা, ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং আজীবনের জন্য সৌদি আরব থেকে বহিষ্কারের বিধান রাখা হয়েছে।
এই কড়াকড়িতে স্থানীয় প্রবাসীরা কিছুটা বিপাকে পড়লেও হজযাত্রীরা সৌদি সরকারের এ পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন।
ইতোমধ্যে ছয়টি দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানসহ অসংখ্য ভিআইপি মক্কায় পৌঁছালেও বাংলাদেশ থেকে এ বছর কোনো ভিআইপি কিংবা ভিভিআইপি হজযাত্রী যাননি।
বাংলাদেশের হজযাত্রীদের ক্ষেত্রে এবারও সামান্য কিছু জটিলতা থাকলেও পরিস্থিতি ছিল অনেকটাই নিয়ন্ত্রিত। ভিসা জটিলতা ও অন্যান্য কারণে মাত্র ২৮ জন হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছাতে পারেননি, যেখানে গত বছর এ সংখ্যা ছিল তিন শতাধিক।
অন্তর্বর্তী সরকারের তৎপরতায় এবার হজ ফ্লাইটে কোনো সময়সূচী বিপর্যয় হয়নি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মিনায় তাঁবু বরাদ্দ, সার্ভিস কোম্পানি (মোয়াল্লেম) চুক্তি সম্পন্ন, এবং আইবিএন মাধ্যমে অর্থ পাঠানোসহ সবকিছু সময়মতো সম্পন্ন হওয়ায় বাংলাদেশের আবেদন করা ৮৭ হাজারের বেশি হজযাত্রী হজ পালনের সুযোগ পেয়েছেন।
এদিকে একই প্রক্রিয়ায় জটিলতার কারণে প্রতিবেশী ভারত, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, নাইজেরিয়াসহ আফ্রিকার কয়েকটি দেশের মোট ৩ লাখ ৬৫ হাজার হজযাত্রী এ বছর হজের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
তবে এবারও কিছু সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে হজযাত্রীদের। কখনো কখনো খাবার পৌঁছাতে বিলম্ব, রুট টু মক্কা ইনিশিয়েটিভের আওতায় ওকালা কোম্পানির লাগেজ পরিবহনে সমস্যা, এবং সিভিল ডিফেন্সের কারণে দুটি হোটেল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কয়েকশ যাত্রীকে জরুরি ভিত্তিতে ভাড়াবাড়িতে তুলে দিতে হয়েছে।
তবু মক্কায় গিয়ে হজ মিশনের কার্যক্রম ঘুরে দেখা গেছে—ধর্মবিষয়ক উপদেষ্টা এফ এম খালিদ হোসেন, ধর্মসচিব আফতাব হোসেন প্রমাণিক, হজ অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মতিউল ইসলাম ও হজ কাউন্সিলর জহিরুল ইসলামের নেতৃত্বে হজ মিশন অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে কার্যক্রম চালাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
গত বছর হজে সরকারি খরচে বিভিন্ন আমলা, মন্ত্রী, এমপি, সাংবাদিক এমনকি ব্যক্তিগত ড্রাইভার ও অফিস সহকারীরাও হজে অংশ নিয়েছিলেন। তাদের সেবা দিতে বাংলাদেশ হজ মিশনের কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা চলতো। শুধু তাই নয়, ভিআইপিদের সেবায় নিয়োগ দেওয়া হতো শতাধিক অতিরিক্ত হজকর্মী।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এসব ভিআইপিদের জন্য শত কোটি টাকার বেশি ব্যয় হতো—যার বড় অংশই আসতো সাধারণ হাজীদের আমানতের অর্থ থেকে।
তবে এ বছর সেই চিত্রে এসেছে নাটকীয় পরিবর্তন। হজ মিশনের কর্মকর্তারা এখন ব্যস্ত হজযাত্রীদের হারানো লাগেজ খুঁজে বের করতে, সমস্যা সমাধানে বৈঠক করতে এবং হোটেলগুলোতে হাজীদের সেবা নিশ্চিত করতে। এমন উদ্যোগ গত বছরগুলোতে কল্পনাও করা যেত না।
স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ বলছেন, ভিআইপি-সিআইপি হজযাত্রার নামে চলা 'উৎসব' বন্ধ হওয়ায় এবার সাধারণ হজযাত্রীরা পাচ্ছেন প্রকৃত সেবা।
বাংলাদেশ সরকারের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি গোলাম সারোয়ার ও মহাসচিব ফরিদ আহমেদ মজুমদার। তারা আশা প্রকাশ করেছেন, এ ধারা যেন ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকে, যাতে সরকারি অর্থের অপচয় বন্ধ করে সাধারণ হাজিদের উন্নত সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।
বাজেটে যেসব পণ্যের দাম বাড়ছে ও কমছে
আজ দক্ষিণ সিটি ও নারায়ণগঞ্জের কিছু এলাকায় গ্যাস থাকবে না
আসছে ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার বাজেট