ঈদ উপলক্ষে অতিদরিদ্রদের জন্য ভিজিএফের (ভালনারেবল গ্রুপ ফিডিং) চাল জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার প্যানেল চেয়ারম্যানদের দায়িত্বের অবহেলার কারণে এখনো বিতরণ কাজ সম্পন্ন করতে পারেনি। গত ৩ জুনের মধ্যেই চাল বিতরণ শেষ করার কথা থাকলেও উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের মধ্যে একটি ইউনিয়নেও বিতরণ কাজ সম্পন্ন হয়নি।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়ে সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ১১ ইউনিয়নে ৪৭ হাজার ২১৬ জন মানুষকে অতিদরিদ্রের আওতায় নেওয়া হয়েছে। এদের জন্য ৪৭২ দশমিক ১৬০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। গত ২৯ মে এই চাল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে।
মেলান্দহ উপজেলায় ১১টি ইউনিয়ন ও দুইটি পৌরসভা রয়েছে। এই ১১ ইউনিয়নের ৪৭ হাজার ২১৬ জন মানুষকে অতিদরিদ্রের আওতায় নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ঘোষেরপাড়া ইউনিয়নে ৫ হাজার ৯৩০ জন মানুষের জন্য ৫৯ দশমিক ৩০০ মেট্রিক টন চাল, দুরমুঠ ইউনিয়নের ৩ হাজার ৬০০ জন মানুষের জন্য ৩৬ মেট্রিক টন, কুলিয়া ইউনিয়নের ৪ হাজার মানুষের জন্য ৪০ মেট্রিক টন, মাহমুদপুর ইউনিয়নের ৬ হাজার ৪৩০ জন মানুষের জন্য ৬৪ দশমিক ৩০০ মেট্রিক টন, নাংলা ইউনিয়নের ৩ হাজার ৮৬০ জন মানুষের ৩৮ দশমিক ৬০০ মেট্রিক টন, নয়ানগর ইউনিয়নের ৩ হাজার ৬০০ জন মানুষের জন্য ৩৬ মেট্রিক টন, আদ্রা ইউনিয়নের ৩ হাজার ৫৪০ জন মানুষের জন্য ৩৫ দশমিক ৪০০ মেট্রিক টন, চরবানিপাকুরিয়া ইউনিয়নের ৫ হাজার ৪১০ জন মানুষের জন্য ৫৪ দশমিক ১০০ মেট্রিক টন, ফুলকোচা ইউনিয়নের ২ হাজার ৯৬১ জন মানুষের জন্য ২৯ দশমিক ৬১০ মেট্রিক টন ঘোষেরপাড়া ইউনিয়নের ৫ হাজার ৯৩০ জন মানুষের জন্য ৫৯ দশমিক ৩০০ মেট্রিক টন, ঝাউগড়া ইউনিয়নের ৪ হাজার ৯৩৫ জন মানুসের জন্য ৪৯ দশমিক ৩৫০ মেট্রিক টন ও শ্যামপুর ইউনিয়নের ২ হাজার ৯৫০ জন মানুষের জন্য ২৯ দশমিক ৫০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
গত ৩ জুনের মধ্যেই অতিদরিদ্রদের জন্য ভিজিএফ’র চাল বিতরণের কাজ শেষ করার কথা থাকলেও ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যানদের দায়িত্বের অবহেলার জন্য ১১ টি ইউনিয়নের একটিতেও বিতরণ কাজ সম্পন্ন করতে পারেননি। এরমধ্যে কিছু কিছু ইউনিয়নের বিতরণ কাজ শুরু করলেও এখনো ঘোষেরপাড়া ইউনিয়নের চাল বিতরণ শুরুই করা হয়নি। প্যানেল চেয়ারম্যানদের দায়িত্বের অবহেলায় বিতরণ করতে পারেননি বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
এছাড়াও আদ্রা, দুরমুঠ, কুলিয়া, ফুলকোচা ইউনিয়নের চাল গত মঙ্গলবার বিতরণ শুরু করে। তবে বরাদ্দকৃত চালের এক শতাংশও বিতরণ করতে পারেনি। এতে ঈদের আগে অতিদরিদ্র ও অসহায় পরিবার চাল না পাওয়ার আশঙ্কা করছেন। ঈদের আগে দরিদ্ররা চাল না পেলে বিপাকে পড়বেন জানিয়েছেন সেবাপ্রত্যাশীরা।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (ভিজিডি-২) কাজী মো.লিয়াকত হোসেনের স্বাক্ষরিত এক পত্রে বলা হয়, পবিত্র ঈদ-উল-আজহা উপলক্ষ্যে ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় সারাদেশের ৬৪ টি জেলার ৪৯৫ টি উপজেলার জন্য বরাদ্দকৃত চাল ৩ জুনের মধ্যে উত্তোলনসহ বিতরণ নিশ্চিত করতে হবে।
ভুক্তভোগী অসহায় মানুষেরা বলছেন, ‘অল্প সময়ের মধ্যে চেয়ারম্যানরা চাল বিতরণ সম্পন্ন করতে পারবে না। এখানে তাদের গাফিলতির কারণে চাল সঠিক সময় দেওয়া সম্ভব হয়নি। ঈদের আগে চাল না পেলে বিপাকে পড়বেন তারা।
ঘোষেরপাড়া এরকারা অতিদরিদ্র কার্ডধারী এক নারী বলেন, ‘প্রতিবছর ঈদের আগে আমাদের আশা থাকে, যে চাল পাবো। ঈদের আর মাত্র দুই-একদিন আছে এখনো চাল পাইলাম না। শুনেছিলাম আজকে (বুধবার) চাল দিবে পরিষদে গিয়ে শুনি আজকেও চাল দিবে না।
এ ব্যাপারে ঘোষেরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো.জুয়েল মিয়া বলেন, ‘চাল বিতরণের বিষয়টি প্যানেল চেয়ারম্যান বলতে পারবেন। তবে গতকাল শুনেছি, মাস্টাররোলের কাজ শেষ করতে পারেননি। যার কারনে চাল বিতরন করতে পারছে না।’
এ বিষয়ে ঘোষেরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘চাল পরিষদ আনা হয়েছে। তবে দুই-তিন টি ওয়ার্ডের দরিদ্রদের তালিকা নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। যার কারনে দেরি হচ্ছে।’
এ প্রসঙ্গে ঘোষেরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আমিনুল হকসহ একাধিক চেয়ারম্যানের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু তাঁরা ফোন রিসিভ করেন নাই।’
এ বিষয়ে মেলান্দহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএম আলগীর বলেন, ‘সব ইউনিয়নেই বিতরণ কাজ শুরু করে দেওয়া হয়েছে। আশা করি ঈদের আগেই চাল বিতরণের কাজ শেষ হবে।’
দুর্গাপুর সীমান্ত দিয়ে ৩২ জনকে পুশইন করেছে বিএসএফ
চারদিনের সফরে যুক্তরাজ্য যাচ্ছেন প্রধান উপদেষ্টা
ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন ফুটবলের 'মিনি মেসি'