ফরাসি ওপেনের শিরোপা ধরে রাখার অভিযানে দুর্দান্ত পথেই এগোচ্ছেন কার্লোস আলকারাজ। মঙ্গলবার রাতে ফিলিপ শাত্রিয়ের কোর্টে মাত্র ৯৪ মিনিটে টমি পলকে হারিয়ে সেমিফাইনালে পৌঁছে গেছেন স্প্যানিশ তারকা। সেটের হিসেবে জয় ৬-০, ৬-১, ৬-৪।
ম্যাচের শুরু থেকেই ছিল একচেটিয়া আধিপত্য। মাত্র ৫৩ মিনিটে প্রথম দুই সেট শেষ করে দেন ২২ বছর বয়সী আলকারাজ। প্রথম দুই সেটে পল কেবল একটি গেম জিততে সক্ষম হন। তৃতীয় সেটে কিছুটা প্রতিরোধ গড়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের এই ১২ নম্বর বাছাই, কিন্তু ৫-৪ ব্যবধানে ব্রেক করে জয় নিশ্চিত করেন আলকারাজ।
সেমিফাইনালে আলকারাজের প্রতিপক্ষ ইতালির লরেঞ্জো মুসেত্তি। ২৩ বছর বয়সী এই খেলোয়াড়ও দেখিয়েছেন চমৎকার পারফরম্যান্স। ফ্রান্সেস টিয়াফোকে ৬-২, ৪-৬, ৭-৫, ৬-২ ব্যবধানে হারিয়ে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় গ্র্যান্ড স্ল্যাম সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। এর আগে ২০২৪ সালে উইম্বলডনের শেষ চারে খেলেছিলেন মুসেত্তি।
টিয়াফো ছিলেন দীর্ঘ ২২ বছর পর ফরাসি ওপেনের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা প্রথম মার্কিন পুরুষ খেলোয়াড়। দ্বিতীয় সেট জিতে লড়াইয়ে ফিরলেও তৃতীয় সেটে হারের পর ধসে পড়েন তিনি। মুসেত্তির মসৃণ কিন্তু নিখুঁত আক্রমণের ধার ধরে রাখতে পারেননি ১৫ নম্বর বাছাই এই আমেরিকান।
আলকারাজের পারফরম্যান্স নিয়ে ম্যাচ শেষে প্রশংসার সুর তুলেছেন সাবেক ব্রিটিশ নাম্বার ওয়ান গ্রেগ রুসেদস্কিও। বিবিসি রেডিওতে তিনি বলেছেন, 'এটা ছিল এক দারুণ বার্তা—আলকারাজ আজ দুর্দান্ত ছিলেন।' আলকারাজ নিজেও বলেন, 'আজকের ম্যাচটা ছিল এমন এক দিন, যেদিন সবকিছুই ঠিকঠাক হচ্ছিল।'
টমি পলের বিপক্ষে ছিল আলকারাজের দাপুটে উপস্থিতি—১৭টি ব্রেক পয়েন্টের মধ্যে ছয়টিতে সফল, এবং পুরো ম্যাচে একটি ব্রেক পয়েন্টও দেননি প্রতিপক্ষকে। আগের তিন ম্যাচে চার সেট খেলে সেমিফাইনালে এমন রূপ বদল সত্যিই চোখে পড়ার মতো।
সেমিফাইনালের লড়াই আরও জমজমাট হবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। কারণ, চলতি মৌসুমে ক্লে কোর্টে দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন মুসেত্তি। ২২টি ম্যাচে ১৯টি জয় নিয়ে এগিয়ে চলেছেন তিনি। তবে এই মৌসুমেই ক্লে কোর্টে আলকারাজের বিপক্ষে দুবার হেরেছেন—রোমে সেমিফাইনাল ও মন্টে কার্লোর ফাইনালে।
অভিনব ‘রেট্রো স্টাইলে’ খেলা মুসেত্তি এক হাতে ব্যাকহ্যান্ডে দুর্দান্ত দক্ষ। খেলায় যেমন পরিপক্বতা এসেছে, তেমনি জীবনের ক্ষেত্রেও আরও দায়িত্ববান হয়ে উঠেছেন তিনি। কারণ, গত বছর মার্চে বাবা হওয়ার পর থেকে জীবন ও খেলায় এসেছে ইতিবাচক পরিবর্তন।
'বাবা হওয়ার পর দায়িত্ববোধটা বেড়েছে। এখন প্রতিদিনের রুটিনেও শৃঙ্খলা আনার চেষ্টা করি। পরিবার আমার কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ। তারা এখানে না থাকলেও, তারা সবসময় আমার হৃদয়ে থাকে। এই জয় তাদের জন্য,' ম্যাচ শেষে আবেগময় কণ্ঠে বলছিলেন মুসেত্তি।
তবে কোয়ার্টার ফাইনালের দ্বিতীয় সেটে রাগে বল লাথি মেরে বসেছিলেন তিনি, যেটা গিয়ে লেগেছিল এক লাইন জাজের গায়ে। ঘটনাটি নিয়ে সতর্কতা পেলেও বড় ধরনের শাস্তি হয়নি, কারণ বলটি গুরুতরভাবে আঘাত করেনি।
এবার দেখা যাক, সেমিফাইনালে আলকারাজের গতি থামাতে পারেন কি না এই ‘রেট্রো ঘরানার’ ইতালিয়ান! ম্যাচটা হতে যাচ্ছে আধিপত্য বনাম কৌশলের লড়াই।
ব্রাজিলের একাদশ কি জানিয়ে দিলেন আনচেলত্তি!
হামজাকে পেতে চায় চ্যাম্পিয়নস লিগের ক্লাব!