ক্লাব বিশ্বকাপে অফসাইড প্রযুক্তিতে আসছে বড় পরিবর্তন

আপডেট : ১২ জুন ২০২৫, ০৫:২৯ পিএম

ক্লাব বিশ্বকাপে কর্মকর্তারা একটি দ্রুততর আধা-স্বয়ংক্রিয় অফসাইড প্রযুক্তি ব্যবহার করবেন। কোনো খেলোয়াড় ১০ সেন্টিমিটারের বেশি অফসাইড অবস্থানে থেকে বল স্পর্শ করলে তাৎক্ষণিকভাবে খেলা থামানোর নির্দেশ দেবে।

যুক্তরাষ্ট্রে আয়োজিত ৩২ দলের এই টুর্নামেন্টে এটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নতুনত্ব, যার লক্ষ্য হচ্ছে অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব কমিয়ে আনা।

এই নতুন ব্যবস্থায় সহকারী রেফারিরা তাৎক্ষণিকভাবে নোটিফিকেশন পাবেন, আগের মতো পজিশন ও দূরত্ব যাচাই করার জন্য অপেক্ষা করতে হবে না – যেমনটা অধিকাংশ বড় লিগে প্রচলিত আধা-স্বয়ংক্রিয় অফসাইড (এসএও) প্রযুক্তিতে দেখা যায়।

এসএও প্রযুক্তি ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে প্রথম চালু হয় গত ১২ এপ্রিল, তার আগে সব অফসাইড সিদ্ধান্ত দিতেন ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর)।
এই উন্নত এসএও প্রযুক্তির প্রবর্তন ঘটে নটিংহ্যাম ফরেস্টের স্ট্রাইকার তায়োয়ো আওনিয়ির দুর্ঘটনার এক মাস পর, যিনি লেস্টারের বিপক্ষে ম্যাচে পোস্টে ধাক্কা লেগে পেটে গুরুতর চোট পান। ম্যাচে পরিষ্কার অফসাইড থাকলেও সেটি দেয়া হয়নি, ফলে তিনি বলের পেছনে ছুটছিলেন।

আধা-স্বয়ংক্রিয় অফসাইড প্রযুক্তির জন্য ক্যামেরা

অফসাইড সিদ্ধান্তে আরও সাহসী হতে হবে - কোলিনা
আওনিয়ির ঘটনার পর সতীর্থ ওলা আইনা বলেছিলেন, যদি সহকারী রেফারি আগে থেকেই পতাকা তুলতেন, তাহলে এই চোট হতো না। উন্নত এসএও প্রযুক্তি তখনই কাজ করবে যদি অফসাইড খেলোয়াড় বল না ছোঁয় বা বল দখলের প্রতিযোগিতায় না থাকে।
আন্তর্জাতিক রেফারি প্রধান পিয়েরলুইজি কোলিনা বলেন, তাই রেফারিদের আরও "সাহসী" হতে হবে অফসাইড সিদ্ধান্তে। তিনি বলেন, “আমরা শুরু থেকেই সহকারী রেফারিদের বলেছি—সন্দেহ থাকলে পতাকা তুলো না। কিন্তু এতে করে কখনো কখনো অতিরিক্ত বিলম্ব বা বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হয়। দুই মিটার অফসাইড কখনোই ‘সন্দেহ’ হতে পারে না।”

ক্লাব বিশ্বকাপে আরও যেসব প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন থাকছে

গোলকিপারের জন্য ৮ সেকেন্ড নিয়ম
খেলার গতি বাড়াতে ক্লাব বিশ্বকাপ ও ইউরোপিয়ান অনূর্ধ্ব-২১ চ্যাম্পিয়নশিপে চালু হচ্ছে নতুন নিয়ম, যেখানে গোলকিপারদের বল ছাড়তে হবে মাত্র ৮ সেকেন্ডের মধ্যে। ৩ সেকেন্ড পর রেফারি হাত তুলে পাঁচ থেকে উল্টো গোনা শুরু করবেন। ৮ সেকেন্ডে বল না ছাড়লে প্রতিপক্ষকে কর্নার কিক দেওয়া হবে।
কোলিনা বলেন, এটি মূলত একটি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা। দক্ষিণ আমেরিকায় পরীক্ষামূলকভাবে ১৬০টি ম্যাচে এটি ব্যবহার করা হয়, এবং মাত্র দুইবার কর্নার কিক দিতে হয়েছে।
“রেফারিরা নমনীয় হবেন,” তিনি বলেন। “৮.১ সেকেন্ড হলে কর্নার কিক দেওয়া হবে না। কিন্তু অনেক সময় আমরা দেখি গোলকিপাররা ২৫ সেকেন্ড পর্যন্ত বল ধরে রাখে—এতে খেলার মজা নষ্ট হয়।”

স্টেডিয়ামে ভিএআর রিপ্লে
ভিএআর সিদ্ধান্তের সময় স্টেডিয়ামে উপস্থিত দর্শকদের মাঠের রেফারি সিদ্ধান্ত ও তার কারণ জানাবেন। এবার প্রথমবারের মতো দর্শকরা মাঠে বসেই সেই রিপ্লেগুলোও দেখতে পাবেন, যা রেফারিদের দেখানো হয়। তবে ভিএআর রুমে রেফারিদের আলোচনার শব্দ সম্প্রচার করা হবে না।

বডিক্যামের ভিডিও বিলম্বে সম্প্রচার
রেফারিদের কানে লাগানো বডিক্যামের মাধ্যমে খেলা শুরুর আগে টানেল, ওয়ার্ম আপ ও কয়েন টসের মুহূর্ত দেখানো হবে। তবে খেলার সময় লাইভ ছবি দেখানো হবে না। গোল বা দক্ষতার দৃশ্যগুলো বিলম্বে দেখানো যেতে পারে, কিন্তু কোনো বিতর্কিত বা গুরুতর ইনজুরির দৃশ্য দেখানো হবে না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত