দুর্নীতির শেকল ভেঙে নতুন করে গড়তে চায় ইডিসিএল

আপডেট : ১৫ জুন ২০২৫, ০৭:৩৮ এএম

বিগত সরকারের আমলে এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড (ইডিসিএল) অনিয়ম, দুর্নীতি ও নিয়োগ বাণিজ্যের কবলে পড়ে। এমন কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতি নেই যার থেকে এই কোম্পানি রেহাই পেয়েছে। তৎকালীন সরকারের আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপকরা লুটপাট ও নিয়োগ বাণিজ্য তো করেছেনই, এমনকি কোনো নিয়মের তোয়াক্কা না করে নিজেদের নিয়োগপ্রাপ্ত সময়ের বাইরেও বহাল তবিয়তে রয়ে গেছেন একই পদে বছরের পর বছর।

নিয়োগ বাণিজ্যের খপ্পরে পড়ে প্রায় তিন হাজার অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। গত ১৭ বছরে শুধু ভবন নির্মাণ এবং মেশিনারিজ ক্রয় বাণিজ্য ছাড়া আর কোনো প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়নি। এমনকি আয়-ব্যয়ের সঠিক কোনো হিসাব ছিল না। যার কারণে অতিরিক্ত কর্মীদের বেতন-ভাতার বোঝা টানতে টানতে ও বিভিন্ন দুর্নীতি ও লুটপাটের কারণে পর্যুদস্ত হয়ে কোম্পানির দশা হয়েছিল দেউলিয়া হওয়ার মতো।

এই নির্মম বাস্তবতার ভুক্তভোগী হচ্ছে বর্তমান সরকার এবং বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিষদ। এই বিশেষ পরিস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানটির ভঙ্গুর দশা উন্নীত করতে বর্তমান সরকারের অনুরোধে বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. এ সামাদ মৃধা এ প্রতিষ্ঠানের হাল ধরতে এবং সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার জন্যে চুক্তিবদ্ধ হন।

ইডিসিএলের বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ সামাদ মৃধা জানান, সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে কীভাবে অবস্থার উন্নতি করা যায়, সে বিষয়ে আলোচনা হয়। সেখানে উপদেষ্টাম-লীর পরামর্শে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা মোতাবেক এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় যে, প্রতিষ্ঠানটিকে দেউলিয়া ঘোষণা করার আগেই নিয়মবহির্ভূত উপায়ে যে অতিরিক্ত লোকবল নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল তাদের ছাঁটাইয়ের মাধ্যমে এবং আয়-ব্যয়ের সামঞ্জস্য মোটামুটি ঠিক রেখে প্রতিষ্ঠানটিকে ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন খাতে কোম্পানির ব্যয় কমিয়ে চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকেই প্রায় ৯ কোটি টাকা সাশ্রয় ও বিভিন্ন বিনিয়োগ থেকে আয় বাড়িয়েছেন আরও ৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ চলতি বছরের প্রথমেই কোম্পানির সাশ্রয় হয়েছে ১৮ কোটি টাকার বেশি। এ ছাড়া ৪২৫ জনের অবৈধ ও পক্ষপাতদুষ্ট নিয়োগ বাতিল করেছেন বলেও জানা যায়।

ইডিসিএল প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয়ে মহাব্যবস্থাপক মো. মনিরুল ইসলাম (প্রশাসন ও মানবসম্পদ) বলেন, চাকরিচ্যুত শ্রমিক-কর্মকর্তাদের প্রতিবাদে অনেকেই ফোন করে অকথ্য ভাষায় হুমকি দিচ্ছেন। মোবাইলে মেসেজ দিয়ে চাকরি দিতে হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন। কর্ম খালি নেই বললে বাজে ভাষায় গালি দেন অনেকে। শ্রমিক-কর্মকর্তাদের ছাঁটাই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সার্ভিস রুলের ৫১ ও শ্রম আইনের ধারা-২৬ অনুসরণ করে ইডিসিএলের পাঁচটি প্ল্যান্ট থেকে ৪২৫ জনকে টারমিনেশন করা হয়েছে। ছাঁটাই করার চার মাস আগে যেহেতু নোটিস দিতে পারিনি, সেহেতু বিধি অনুসারে আইন মেনে অগ্রিম চার মাসের বেতন দিয়ে শ্রমিক-কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করা হয় এবং শ্রম আইন অনুযায়ী ছাঁটাইয়ের ৩০ দিনের মধ্যে সব পাওনা পরিশোধ করা হবে।

জানা যায়, গত ৫ আগস্টের আগে একাধিক পরিচালনা পর্ষদ কর্মকর্তাদের অবৈধ আর্থিক লেনদেন, টেন্ডার বাণিজ্য, স্বজনপ্রীতি, অতিরিক্ত জনবল নিয়োগ, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, অর্থ লুটপাটের মতো গুরুতর অভিযোগ প্রতিষ্ঠানটিকে বিতর্কিত করেছে। এ পরিপ্রেক্ষিতেই সম্প্রতি এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেডের ৪২৫ জনকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত