এনবিআরের রাজস্ব সভায় ইলন মাস্ক-ডোনাল্ড ট্রাম্প!

আপডেট : ১৬ জুন ২০২৫, ১২:০৬ এএম

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আয়কর অনুবিভাগের রাজস্ব পর্যালোচনা সভায় সরাসরি ও ভার্চুয়ালি যোগ দেওয়ার রীতি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের। তবে গতকাল রবিবার আয়োজিত সভায় ভার্চুয়ালি যোগ দেওয়া আইডিতে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ব্যবসায়ী ও প্রযুক্তিবিদ ইলন মাস্ক, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামের পাশাপাশি তেজগাঁও ডিম ব্যবসায়ী সমিতিসহ বিভিন্ন অদ্ভুত নাম দেখা গেছে। ভার্চুয়াল বৈঠকের কয়েকটি স্ক্রিনশট দেশ রূপান্তরের সংগ্রহে রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, মূলত সভায় বেশি লোকের উপস্থিতি দেখাতেই এমনটা করা হয়েছে। এমন আরও অনেক আইডি থেকে সভায় যোগ দেওয়া হয়েছে, যাদের বাস্তবে কোনো অস্তিত্ব নেই। আইডিতে স্যামসাং ফোনের বিভিন্ন মডেলের নাম, বিভিন্ন সালের নাম ও নানা ধরনের সংখ্যা দিয়ে সভায় অংশগ্রহণ করতে দেখা গেছে।

জানা যায়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড আলাদা করে অধ্যাদেশ জারির পর থেকে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের ব্যানারে আন্দোলনে নামেন সংস্থাটির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। দীর্ঘদিন ধরে চলা এ আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৫ মে অধ্যাদেশ সংশোধনের আশ্বাসে আন্দোলন প্রত্যাহার করেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তবে এনবিআর চেয়ারম্যানের অপসারণের দাবিতে সরব ছিলেন সবাই। একই সঙ্গে চেয়ারম্যানের অপসারণের আগপর্যন্ত তাকে অসহযোগিতা করারও ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীরা। যদিও এর ফাঁকে বাজেটের কাজে এনবিআর চেয়ারম্যান কড়া পুলিশি নিরাপত্তায় অফিস করেন। টানা ঈদের ছুটির পর প্রথম অফিসে রাজস্ব সভা করেন। আর এ ভার্চুয়াল সভায় ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইলন মাস্কের নাম সংবলিত আইডি দিয়ে মিটিংয়ে যোগ দেন কিছু কর্মকর্তা।

এ বিষয়ে কথা বলতে এনবিআর চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খানের মোবাইল ফোনে বারবার কল দিয়েও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গত মাসে অধ্যাদেশ বাতিলসহ চারটি দাবিতে এনবিআর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন। সরকারি আশ্বাসে কর্মসূচি স্থগিত করা হলেও চেয়ারম্যানকে অপসারণ বিষয়ে কোনো কথা বলা হয়নি। এরপর চেয়ারম্যানকে অসহযোগিতার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সশরীরে ঢাকার বিভিন্ন কমিশনার সভায় অংশ নিলেও মাঠপর্যায়ে অসন্তোষ আছে। তাই জুমে বেশি উপস্থিতি দেখাতেই এমনটা করা হয়েছে। ওই মিটিংয়ে ইলন মাস্কেরও উপস্থিত দেখা গেছে। চারশর বেশি অংশগ্রহণকারীর সিংগভাগই ভুয়া।’ তাদের আয়কর বিভাগের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই বলে জানান ওই কর্মকর্তা।

সভায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরের মে মাস পর্যন্ত আয়কর খাতে আদায়ের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। জানা গেছে, অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৮০৫ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে এ সময়ে আদায় হয়েছে ১ লাখ ৫ হাজার ১৯৬ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ৪ দশমিক ৩০ শতাংশ। অন্যদিকে অর্থবছরের মে মাসে আদায় হয়েছে মাত্র ১০ হাজার ১৩০ কোটি টাকা। সভায় এনবিআর চেয়ারম্যান অর্থবছর শেষ হওয়ার আগে শেষ ১৫ দিনে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে রাজস্ব আদায়ের নির্দেশনা দেন।

সভা সূত্রে জানা গেছে, প্রতি মাসে অনুষ্ঠিত রাজস্ব পর্যালোচনা সভায় রাজস্ব আদায় কম হলেই কর্মকর্তাদের প্রতি কঠোরতা দেখাতেন চেয়ারম্যান। তবে এবারের সভায় রাজস্ব আদায়ে ধস হলেও নমনীয় আচরণ করেছেন তিনি।

এনবিআর কর্মকর্তারা বলেন, চেয়ারম্যানকে অপসারণ না করা পর্যন্ত তাকে অসহযোগিতা করা হবে। তিনি প্রথমে এনবিআরে আসতেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ব্যবহার করেছেন। কর্মকর্তারাও তার কথা শুনছেন না। তিনিও কিছু বলতে পারছেন না। সামগ্রিকভাবে চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়েছে। এমন অবস্থায় তাকে দায়িত্বে রাখা রাজস্ব খাতের জন্য ভালো হবে না বলেও অভিযোগ করেন একাধিক কর্মকর্তা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত